এবার বোলারদের জন্য টসটা জিতুক মুশফিক

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০৩:৫৩, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৮, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যারা দলে জায়গা পান, তারা ভাগ্যবান। টেস্ট দলে যারা প্রথম একাদশে জায়গা করে নিতে পারেন, তারা সৌভাগ্যবান।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের কন্ডিশনে অন্যতম প্রথম সারির দলের বিপক্ষে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সফল হওয়ার একটা বাড়তি তাগাদা থাকে দলের অন্যের চেয়ে নিজের পারফরম্যান্সকে এগিয়ে রাখার।। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলগত সফলতার সম্ভাবনা নিয়ে যখন সংশয় থাকে, তখন অনেকেই নিজের আস্থার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চায় অনেক বেশি। আর সেই ইচ্ছার তালিকায় অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা প্রায় সমানভাবে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখে এখন। খেলা শেষে হিসাবে গড়মিল হলেও এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্বাসের যে বীজ তারা বুনেছে, এটাই এখন তাদের বড় পুঁজি।

সাকিবের স্পিন বোলিংয়ের সমাধানে তাইজুলকে দলে নিলে ব্যাটিং শক্তি খর্ব হবে বাংলাদেশের। তার জায়গায় আবার অন্য একজন ব্যাটসম্যান যোগ করলে স্পিনের বৈচিত্র্য ও ধার কমবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম একাদশ নির্বাচনে যথেষ্ট হিসাব-নিকাশ করতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

ঢাকায় বসে পিচ না দেখে মতামত দেওয়াটা কঠিন। তবে সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে বলা যায় বাংলাদেশ তিন পেসার, এক স্পিনার ও ছয় ব্যাটসম্যান নেওয়ার পর একাদশে কি তাইজুলকে রাখবে, না বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান খেলাবে, তাই থাকবে নির্বাচকদের আলোচনার বিষয়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে পেস আক্রমণে মোস্তাফিজ, তাসিকন ও শুভাশীষকে এগিয়ে রাখব। স্পিনার হিসাবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুলকে চাইব। লিটন দাস ও কিছুটা আহত সৌম্যকে বাইরে রেখে ইমরুল ওপেনিংয়ে এবং ৩, ৪ ও ৬-এ মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরকে দেখলে খুশি হব।

প্রথম টেস্ট মুশফিক যদি তার বোলারদের জন্য টসটা জিততে পারেন, তবে খুশি হব। দেশের সিরিজে আক্রমণের শুরুতে নতুন বলের স্পর্শ যখন পেসাররা পায় না, সেই কষ্ট দূর করার বড় একটা উপলক্ষ হতে পারে সবুজ ঘাসের বাউন্সি উইকেটে তিন সেশনে লম্বা স্পেলে বল করার সুযোগের সফল ব্যবহারের মাধ্যমে। তবে দেশের মন্থর পিচ ও পর্যাপ্ত বল করার সুযোগ যাদের নেই, তাদের কাছ থেকে রাতরাতি অসাধারণ কিছু আশা করাটা তাদের বাড়তি চাপে ফেলে দিতে পারে। তাদেরকেও একটা স্পেস দিতে হবে উন্নতির জন্য।

আমরা আগে বল করলে প্রথম দিনেই দুটি সেশন থেকে উইকেটের সহায়তা বোলাররা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে। পিচের গতি, বাউন্স ও সুইং যদি থাকে, তা পর্যবেক্ষণ করার একটা সুযোগ আমাদের ব্যাটসম্যানরা পাবেন। নতুন জায়গায় আগে ব্যাট করার যে একটা অজানা টেনশন থাকে, তা মন থেকে অনেকটা জলীয় বাষ্পের মতো উড়ে যায় যদি উইকেটে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের জন্য সমান সুযোগ থাকে।

আমাদের দলে সাকিব নেই। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা দলেও নিয়মিত খেলে এমন পাঁচ বোলার ও ব্যাটসম্যান নেই। নিয়মিত খেলোয়াড়দের চেয়ে নতুন সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়রা মাথা ব্যথার অনেক বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের চোখ থাকবে নতুন ব্যাটসম্যান তেম্বা বাভুমার দিকে।

তাদের বোলারদের লম্বা স্পেলে বল করার সক্ষমতা, নতুন বলের প্রথম ১০ ওভার থেকে প্রাপ্ত সুবিধা দেখা ও পুরনো বলে রিভার্স সুইং করানোর কুশলতার সঙ্গে আমাদের বোলারদের লড়াইয়ে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে চাই। যেমনটি কামরুল ইসলাম রাব্বি নিউজিল্যান্ডে দেখিয়েছিল। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানদের শর্ট পিচ বলে স্ট্রোকস খেলার কুশলতার উন্নতির ধারা এই সিরিজেও দেখতে পাবো বলে আশা করি। ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক রূপ যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়।

এই ম্যাচে বড় ব্যবধান সৃষ্টির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের অনেক বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্যের সক্ষমতা। তার সঙ্গেই হবে আমাদের তামিম-মুশফিক-মুমিনুলদের নিজেদের মেলে ধরার লড়াই। নতুন বল, লিফিটিং ডেলিভারি রক্ষণাত্মকভাবে খেলা, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী ছাড়া এবং শটস খেলার মাঝেই সবাই খুঁজে পাবে বর্তমান ও পুরনো সফরের পার্থক্য।

/কেআর/

লাইভ

টপ