হতাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পিচ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:০৯, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৩, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

.ঢালাওভাবে অনেকেই বলছেন, মুশফিকের বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ভুল। কিন্তু আমার মনে হয়েছে এই সিদ্ধান্তে তার সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টও সহমত পোষণ করেছিল। আকাশে মেঘ, দলে তিন পেস বোলার ও সর্বোপরি সফরটি যখন দক্ষিণ আফ্রিকায়, তখন নতুন বলে আমাদের বোলিং আক্রমণের ধারটির শক্তি যাচাই করার জন্য সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল বলে মনে হয়নি। টেস্ট ম্যাচে একটি কথা সচরাচর প্রতিষ্ঠিত আছে, টেস্টে বাড়তি ফায়দা তুলে নিতে চাইলে প্রথম দিনের প্রথম দুই ঘণ্টা সবচেয়ে উত্তম সময়।

পরিস্থিতির আলোকে এই মুহূর্তে আমাদের ব্যাটিংয়ে তামিম, মুশফিক ও সাব্বির বাদে দলে ইমরুল, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ ও লিটনের অবস্থান নড়বড়ে। এমন একটি পরিস্থিতিতে চার পেস বোলার সমৃদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগে ব্যাট করার ঝুঁকিটা আমাদের দল নিতে চায়নি। এই ভেন্যুতে নিয়মিত টেস্ট হয় না এবং আমাদের টিম ম্যানেজমেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনও কর্মকর্তা নেই। আর এই সিরিজকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহের জন্য কোনও পরামর্শক না রাখায় পিচটি সম্পর্কে আমাদের মূল্যায়ন ঠিক হয়নি।

এই পিচে আমরা ব্যাট করলে দিন শেষে রান সংগ্রহ ও উইকেট হারানোর চিত্রটি কিন্তু এক থাকতো না। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা যে মেজাজ ও মনসংযোগের সঙ্গে ব্যাট করছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শট সিলেকশনে যথার্থ ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে আমরা সম্ভবত পারতাম না।

তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলাররা নিজ দেশে তাদের বোলিং বৈচিত্রের সংমিশ্রণে আমাদের বোলারদের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হতো। এই ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে  আমাদের ব্যাটিংয়ের সময় সেটা আমরা লক্ষ্য করব।

টেস্ট ম্যাচের বড় পার্টনারশিপ দলের বোলিংকে নিষ্প্রাণ করে দেয় এবং ফিল্ডিং এক পর্যায়ে ক্লান্তিকর হয়ে যায়, এতে ব্যাটসম্যানরা আরও ভারমুক্ত ব্যাটিং করার সুযোগ পায়।

সঠিক লাইন ও লেন্থে বল করতে না পারায় ব্যাটসম্যানরা অনেক বল ছেড়ে দিয়েছেন, বাড়তি ঝুঁকি ছাড়া শটস খেলার ও সিঙ্গেল নেওয়ার কুশলতা ছিল ফিল্ডিং করার পাশাপাশি আমাদের ব্যাটসম্যানদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিষয়।

হোম সিরিজে দেশে পেস বোলারদের দলে জায়গা সুযোগ কম, আর জায়গা পেলেও তাদের তেমন ব্যবহার করা হয় না। কাজেই প্রতিকূল পিচেও টেস্ট ম্যাচের তিন স্পেলে তাদের বোলিং অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ হয় না, যেটা প্যাট কামিন্সকে স্মিথ দিয়েছিলেন দেশের শেষ টেস্টেও। তাই পিচ থেকে বাড়তি কিছু না পাওয়ায় ও অতীতের সুখকর অভিজ্ঞতা না থাকায় আমাদের পেস বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের বিচলিত করার মতো কোনও সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। মোস্তাফিজের হাতে গোনা কয়েকটা বল শুধু ব্যতিক্রম ছিল। এই ধরনের পিচে নিজেদের মুগ্ধকর বল করার দক্ষতা বাড়াতে তাদের নিজেদের ও বোলিং কোচকে আরও অনেক কাজ করতে হতো।

মুশফিকের বক্তব্য থেকে বোঝা গেছে এই উইকেট স্লো হবে, পর্যায়ক্রমে সেই অবস্থায় তার নিজে কিপিং করে দলে তাইজুলকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল। তিন পেসারের কেউই ২০ ওভার এককভাবে বল করতে পরেনি। দ্বিতীয় নতুন বল অন্তত ৮০ ওভারের শুরুতেই নেওয়া উচিত ছিল। তবে দ্বিতীয় নতুন বলেও ১২৭ থেকে ১৩৫ কিমি গতিতে যে ২ বা ৩টি ওভার তারা ভাগাভাগি করে বল করেছেন তাতে ওই চমৎকার আবহাওয়াতেও তাদের শারীরিক শক্তির ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করে। মেহেদী হাসান মিরাজকে অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। তার গোটা দুয়েক বল নিচু হওয়া ছাড়া উজ্জীবিত হওয়ার মতো কিছুই ঘটেনি। তবে লম্বা স্পেলে বল করার বিরাট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি।

আমার ধারণা ছিল টেস্ট সিরিজে আমরা পিছিয়ে থেকেই লড়ব। সেখানে থাকবে ব্যাটসম্যানদের দ্রুত গতির শট পিচ, লিফটিং ডেলিভারি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ, নিজেদের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতম জায়গাগুলো ভবিষ্যতে দ্রুত ঠিক করে নেওয়ার সুবর্ণ পরিস্থিতি এবং একইভাবে প্রাণবন্ত উইকেটে বল করার অনাবিল আনন্দ ও অভিজ্ঞতা বয়ে নিয়ে আসবে আমাদের পেসাররা। প্রথম দিন শেষে বাউন্স এর স্লো ও সাদামাটা বাউন্সি উইকেট দেখে আমি কিছুটা হতাশ। জয় পরাজয়ের চেয়ে বাড়তি রোমাঞ্চকর কিছু অর্জনের সুযোগ অন্তত এই পিচ থেকে থাকছে বলে মনে হচ্ছে না।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ