বড় জুটি দরকার বাংলাদেশের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:২৬, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩২, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭

প্রতিটি টেস্ট ম্যাচেই দলগত লক্ষ্যের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত লক্ষ্যও অর্জনের সুযোগ থাকে। সে বিষয়ে অনেকেই উদগ্রীব থাকেন তাতে সফল হওয়ার জন্য। প্রাপ্ত সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য তাতে কেউ আংশিকভাবে সফল হন, আবার কাউকে অপেক্ষা করতে হয় পরের ম্যাচের জন্য।

এই টেস্ট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান এইডেন মারক্রাম খুবই অভাগা, সতীর্থ ডিন এলগারের শতকের জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে দৌড়ে প্রথম টেস্টে মাত্র ৩ রানের জন্য মিস করেন সেঞ্চুরি। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করার অনন্য গৌরব কখনোই পরবর্তীতে করা সেঞ্চুরির মতো মর্যাদাপূর্ণ হয় না।

২০১৭ সালে ডিন এলগারের করা আলাদা আলদা দলের বিপক্ষে তিনটি সেঞ্চুরি দেখার সুযোগ আমার হয়নি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে অনেক নামি খেলোয়াড় থাকলেও এত চমৎকার টেস্ট মেজাজে তাকে প্রথমে শতরান করতে দেখলাম ও পরবর্তী পর্যায়ে ডাবল সেঞ্চুরির জন্য এত নিবেদিত মনসংযোগ কারও ব্যাটিংয়ে আমার চোখে পড়েনি।

এলগার বুঝতে পেরেছিলেন এত চমৎকার ব্যাটিং পিচ ও অনভিজ্ঞ বোলিংয়ের বিপক্ষে জীবনে প্রথমবারের মতো ডাবল সেঞ্চুরি করার এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার করা উচিত। এর আগে সেঞ্চুরির আগে থাকায় নার্ভাস নাইনটিতে একটা ভুল কল করে মারক্রামকে রান আউট করেছিলেন। ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলকের আগেও ভুলছেন স্নায়ুচাপে। ১৯৫ রানের পর থেকেই তিনি দ্রুত ২০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছানোর জন্য অস্থিরতায় ভুগছিলেন, যা তার আচরণ ও ব্যাটিংয়ে ফুটে ওঠে। গোটা ম্যাচে এত দক্ষভাবে ব্যাট চালানো এই ব্যাটসম্যান দলের ১০-১১ নম্বর ব্যাটসম্যানের মত ব্যাট চালিয়ে আউট হলেন। দল ভালো জায়গায় থাকলেও নিজের জন্য ১ রান করার চাপ তিনি নিতে পারলেন না। টেস্ট ক্রিকেটে শূন্য রান থেকে ১ রান নিয়ে হিসাবের খাতা খোলার যেমন চাপ থাকে, তেমনি সেট ব্যাটসম্যানদের বড় মাইলফলক স্পর্শ করারও চাপ বইতে হয়। যেখানে সফলতা ও ব্যর্থতা ট্রেন লাইনের মতো পাশাপাশি চলে। একজন ক্রিকেটার হিসাবে এত ধৈর্যশীল ইনিংসের এমন সমাপ্তি ব্যথিত করেছে আমাকে।

প্রথম দিন শেষেই বোঝা যাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহের দিকে যাচ্ছে। আমার ধারণা ছিল অন্তত গোটা পাঁচেক উইকেট পতন হয়তো দেখব এবং দিনের শেষ এক ঘণ্টা আমাদের ব্যাট করতে হতে পারে। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বোলাররা কার্যকর না হওয়ায় চাপমুক্তই ব্যাট করলো দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে চা বিরতির পর দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিসের ইনিংস ঘোষণায় ছিল চমক। তামিম ইকবাল ৪৯ মিনিট মাঠের বাইরে থাকায় লিটন দাসকে দিয়ে ওপেন করানো ছাড়া কোনও বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের হাতে।

দেখার বিষয় ছিল এই নিচু ও ধীরগতির উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলারদের বোলিং কতটা ধারালো হয়। প্রথম ১০-১২ ওভারে তারা সেরা চেষ্টাটা করেছেন এবং ঠিকই দুটি উইকেটে তুলে নেন। এই স্লো পিচে ইমরুল কায়েসের শর্টপিচ বল সামাল দিতে না পারাটা টিম ম্যানেজমেন্টকে চিন্তায় ফেলবে। লিটন দাস একদিনের মেজাজে বেশ কয়েকটি চমৎকার স্ট্রোকস খেলেছেন, তবে দুদিন ধরে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের অফ স্টাম্পের বাইরের বল অসংখ্যবার ছেড়ে দিতে দেখলেও সেই শিক্ষাটা সম্ভবত নিতে পারেননি তিন। তাই অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে না দিয়ে বরং ব্যাট হাতে বলকে অনুসরণ করে তার লক্ষ্যের অপমৃত্যু ঘটালেন। মুশফিকের একাধিকবার সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত হওয়া বলে দিচ্ছে তৃতীয় দিনে কেশব মহারাজকে মনযোগের সঙ্গে খেলাটাই হবে আমাদের ব্যাটসম্যানদের প্রধান কাজ। অন্যদিকে রিভার্স সুইংয়ের দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলাররা তাকিয়ে থাকবে সফলতার জন্য।

তৃতীয় দিনে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেলেও পেস বোলারদের ভালোভাবেই সামলাবে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। দুটো বড় জুটি দরকার। দিনের শেষ সেশনে ১২৭ রান সংগ্রহ বলে দিচ্ছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা একটু বেশিই শটস খেলেছেন। তৃতীয় দিনেও তাদের শটস খেলতে হবে, তবে ঝুঁকি না নিয়ে খেললে তৃতীয় দিনটা আমরাই প্রাধান্য বিস্তার করতে পারব।

/কেআর/

লাইভ

টপ