কৃতিত্ব দিতে হয় তামিম ও মুমিনুলকে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:২৮, অক্টোবর ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:১১, অক্টোবর ০১, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ইতোপূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ম্যাচে পেস বোলিংয়ের শৈল্পিক সৌন্দর্য অনেক ম্যাচে ব্যাটিংয়ের চেয়ে দর্শকরা বেশি উপভোগ করেছেন। তবে এই টেস্ট ম্যাচের ধীর গতির উইকেটই জানান দিচ্ছিল, তেমন একটা কিছু ঘটার সম্ভাবনা অন্তত নেই এই বোলিং আক্রমণের কাছ থেকে। সুই, গতি ও যথার্থ বাউন্সের সহায়তা না থাকলেও তৃতীয় দিনের সকালের প্রথম ১২ ওভারের পেস বোলিং ছিল রীতিমত ভয়ঙ্কর। বিশেষ করে এই স্পেলে মরনে মরকেলের চেয়ে তামিম ও মুমিনুলের বিপক্ষে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন রাবাদা। সেখানে গতির চেয়েও তার নিখুঁত রিভার্স সুইং ছিল এক কথায় আতঙ্ক। ওই স্পেলের বিপক্ষে বেশির ভাগ স্বীকৃত ব্যাটসম্যানকেই তাই অসহায় মনে হতে পারতো। দিনের শুরুর এই স্পেলটিকে তাই আমি ম্যাচের সেরা অংশ হিসেবে দেখছি। সেই সঙ্গে আমাদের দুজন ব্যাটসম্যানই বাঁহাতি হওয়াতে বল একই লাইনে রিভার্স করানোতে বাড়তি বেগ পেতে হয়নি রাবাদাকে। তবে সেই সময়টা নিরবিচ্ছিন্ন থাকতে পারার জন্য কৃতিত্ব দিতে হয় তামিম ও মুমিনুলকে।

চা বিরতির পর মরনে মরকেলের ছোট স্পেলটি ছিল আরও দেখার মতো। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে তিনি অনেকগুলি ভালো রিভার্স সুইং ও শর্টপিচ বলে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন। যা ছিল টিভিতে চোখ আটকে রাখার মতোই। পেস বোলারদের জন্য প্রাণহীন এই পিচেও রিভার্স সুইং নামক বিষয়টির কার্যকর প্রয়োগ ছিল আমাদের বোলারদের জন্য দারুণভাবে শিক্ষণীয়। ক্রিকেট থেকে নতুন বলের সুইং যখন হারিয়ে যাচ্ছে, তখন রিভার্স সুইংয়ের ওপর মুন্সিয়ানার পেছনে বেশি সময় অনুশীলনে ব্যয় করাটাই এখন বোলার ও কোচের জন্য অনেক শ্রেয়তর।

ফলোঅন বাঁচানোর তৃপ্তির চেয়ে আরও অনেক আনন্দ পেতাম যদি অন্তত একটি পার্টনারশিপও ১৫০ রানের মুখ দেখতো। ইমরুল বাদে দলের বাকি ৬ স্বীকৃত ব্যাটসম্যানই উইকেটে সেট হয়ে আউট হয়ে গেছেন। ইনিংসে কিছু সময় প্রয়োজনে এবং কিছু সময় অপ্রয়োজনে ব্যাটসম্যানরা শটস খেললেও বাইরের বল ছাড়ার প্রবণতা যে বৃদ্ধি পেয়েছে তা ছিল লক্ষণীয়।

কেশব মহারাজ তার বৈচিত্র, গতি ও বিচক্ষণতার সংমিশ্রণে তৃতীয় দিনের সফল বোলার ছিলেন তবে স্পিনারদের আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়ার জন্য সফট হ্যান্ডে খেলে আমাদের রক্ষণাত্মক দক্ষতা বাড়ানোর দিকে নজর বাড়াতে হবে। দেশের মাটিতে এত বাঁহাতি স্পিনার খেলার পরও মহারাজের বিপক্ষে আমাদের আরও আস্থাশীল ব্যাটিং দেখানোর প্রত্যাশা একটা ছিল। উল্টো দিকে এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাচিং ছিল সার্বিকভাবে বেশ বেমানান।

মুমিনুল ও রিয়াদ-এই দুজনের জন্য নির্বাচক ও কোচের মস্তিষ্কের আস্থার জানালাটা যেন খোলা থাকে, সেই বার্তাই দিলেন আমাদের দেশের মতো স্লো ও লো উইকেটে যথেষ্ট আস্থার সঙ্গে খেলে। তবে তাদের ইনিংস দুটি পূর্ণতা পেত যদি তারা সেটা দলের এই প্রয়োজনীয় মুহূর্তে আরও লম্বা করতে পারতেন। তাদের এই সফলতার পাশে নিশ্চয়ই একটা বড় সুযোগ হাতছাড়া করার আক্ষেপ থেকে যাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার লিডটা তারা অনায়াসেই দুই অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনতে পারতেন।

ইতোমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকা এই টেস্টে দারুণ অবস্থানে পৌঁছে গেছে বিরাট লিড নিয়ে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে দুটি উইকেট দ্রুত তুলে নিয়ে প্রতিকূলতার মাঝেও বল হাতে দ্রুত কিছু অর্জনের চেষ্টার আকুলতার ওপর নির্ভর করবে অনেক কিছু। ম্যাচটায় প্রাণ ফিরিয়ে আনার ক্ষুদ্র সম্ভাবনার মধ্যে আমরা কতটুকু উদগ্রীব সেটাই জানান দেবে এই প্রচেষ্টা।

দ্বিতীয় টেস্টে জায়গা পাওয়ার জন্য ভালো করার সুযোগটা তাসকিন সঠিকভাবে কাজে লাগালে খুব খুশি হতাম। তবে হাত বাড়ানো পিচে মেহেদী হাসান মিরাজকে দিতে হবে তার সেরাটা এবং তিনি সর্বোচ্চ সমর্থন চাইবেন কিপারসহ সকল ক্লোজিং ফিল্ডসম্যানদের কাছ থেকে। যাতে এই ইনিংসে তার নিজের ও দলের সফলতাটাই ধরা পড়ে।

 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ