টেস্ট বাঁচানোর দিকেই নজর থাকুক ব্যাটসম্যানদের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:৪৬, অক্টোবর ০২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৮, অক্টোবর ০২, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুবল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকার ৬টি উইকেট তুলে নিয়ে আনুপাতিক হারে প্রথম ইনিংসের চেয়ে যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছেন বলা যায়। তবে উইকেট তুলে নেওয়ার ব্যাপারে সর্বপরি বোলিং যাদের ভালো করার কথা ছিল, সেই হিসাবে একটা বড় গড়মিল ছিল। যে কাজটিতে মেহেদী মিরাজকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল, তা করে দেখালেন খণ্ডকালীন বোলার মুমিনুল! ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে বিধ্বস্ত বোলিং বিভাগের কিছুটা শ্রী বৃদ্ধি করেন তিনি।

তবে বাভুমার ক্যাচটি যে অসাধারণ দক্ষতায় লিটন ধরেছেন, তা আমাকে ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা উইকেটরক্ষক অ্যালান নটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই ম্যাচে লিটন দাসের গ্লাভসেই ছিল ধারাবাহিকভাবে বিশ্বস্ততা। তবে বাভুমার ক্যাচটি যদি শুরুর দিকে ইমরুল ধরতে পারতেন, তবে এই টেস্ট বোলিং বিভাগ সর্বোচ্চ চাপটি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের ওপর প্রয়োগ করতে পারতো। তাদের অলআউটের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া যেত বলেই আমার বিশ্বাস। তবে দ্রুত রান সংগ্রহের তাগাদা থাকার কারণে অনেক বাইরের বলে শটস খেলার কারণে ও স্পিনে ইমপ্রোভাইজড শটস খেলতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত গতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা রান সংগ্রহ করলেও উইকেট বেশি হারাতে হয়েছে। মোস্তাফিজের কাটার কার্যকর হয়েছে, শফিউল তার লাইনের উন্নয়ন ঘটালেও তাসকিন ছিলেন নিষ্প্রভ। মেহেদী হাসান মিরাজকে তার মেধার ধারে কাছেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সচরাচর ভুল হয় না। সেই হিসাবে আরেকটু আগেই ইনিংস ঘোষণাটা দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কাছ থেকে আশা করেছিলাম।

আর চতুর্থ দিনের বড় চমকটাই ছিল এ দিনের মন্থর উইকেটে নতুন বল হাতে আহত হওয়ার আগ পর্যন্ত মরনে মরকেলের ভয়ঙ্কর বোলিং। মরনে মরকেল মনে করিয়ে দিলেন যে ভেন্যুটা দক্ষিণ আফ্রিকাতেই। চকচকে নতুন শক্ত বলকে সুঠামদেহী সব বোলাররা কেন এত ভালোবাসে তার একটা চমৎকার প্রদর্শনী কাল আমরা দেখলাম। তাতে ব্যাটসম্যানরা কতটা অসহায় হয়ে পড়েন যখন ব্যাট হাতে ইনিংসের গোড়াতেই এমন ডেলিভারির মুখোমুখি হতে হয়। তবে আকাশের কালো মেঘ ও বাতাসও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ভালোই সঙ্গ দিয়েছে। আইসিসির সদ্য বদলানো নিয়ম ইমরুল কায়েস-মুমিনুলের জানা নেই দেখে বিস্মিত হয়েছি। নইলে মুমিনুল ব্যাট করার আরেকটা সুযোগ পেতেন এবং ইমরুলেরও সেই বলের গতিপথের ওপর নজরদারি মোটেও তীক্ষ্ণ ছিল না। নো বলে বোল্ড হয়ে মুশফিক বেঁচে যান। কয়েক মাস আগে নিউজিল্যান্ডে একইভাবে বোল্ড হয়েছিলেন এবং অবশ্যই সেটাও ছিল দারুণ এক ডেলিভারি। আমাদের ডিপেন্ডেবল ব্যাটসম্যান একই ধরনের লেন্থের ইনকামিং বলে এ যাবৎ অনেকবার বোল্ড হয়েছেন। তাই এই জায়গার ব্যাট ও প্যাডের ফাঁকটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।

আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসের সুপ্রসন্ন দিকটি ছিল নতুন বলে রাবাদা নিজে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠার চেয়ে মরনে মরকেলের বোলিং স্পেলটা দর্শকের মতো উপভোগের আমেজে ছিলেন। বরঞ্চ অলিভার বল হাতে যথেষ্ট প্রাণবন্ত ছিলেন। মুশফিককে করা তার একটি বাউন্সার যা তিনি ছেড়ে দিতে পেরেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাকে এক টেস্টের শ্রেষ্ঠ বাউন্সার মনে হয়েছে আমার কাছে। কেশব মহারাজ ইমরুলকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে বার্তা দিয়েছেন, দলনায়ক তার ওপরও যথেষ্ট ভরসা রাখতে পারেন। নতুন চকচকে শক্ত বলের পাশাপাশি ৩৫/৪০ ওভারের একটু নরম হয়ে আসা বলে রিভার্স সুইংয়ের মাধ্যমে পেস বোলিং বিভাগটি যে কত শক্তিশালী এ যাবৎকালীন আমাদের ব্যাটিংয়ে দুধরনের দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছে পিচের আচরণগত বাড়তি সুবিধা ছাড়াই। দেশের বাইরে খেলতে গেলে তার স্বাদ অধিকাংশ দেশকেই পেতে হয় এবং তখন একজন খেলোয়াড় ব্যাট বা বল হাতে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করতে পারেন তিনি কোথায় আছেন এবং তার উন্নয়নের জন্য নিজেকে কীভাবে তৈরি করতে হবে। ইতোমধ্যে আমাদের খেলোয়াড়রা তা বুঝতে শুরু করেছেন। তবে বিভিন্ন দলের আদলে নিয়মিত এই সব দেশে সফরের সুযোগ পেলে হয়তো নিজেদের আরও ভালোভাবে তৈরি করতে পারতেন।

ঘাসবিহীন ও পিচের বাড়তি বাউন্স ছাড়াই যেভাবে আমাদের উইকেট তুলে নিলো দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলাররা। তার সঙ্গে দ্বিতীয় টেস্টে উইকেট থেকে প্রত্যাশিত বাড়তি সুবিধা পেলে তাদের প্রথম সারির বোলার ছাড়াই যে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে তা সহজেই অনুমেয়। তবে বৃষ্টির সহায়তা পেলে এই টেস্ট বাঁচানোর দিকেই নজর থাকুক আমাদের ব্যাটসম্যানদের।      

/এফআইআর/

লাইভ

টপ