শুরুতেই লাগবে চমৎকার পার্টনারশিপ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:২৫, অক্টোবর ০৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২২, অক্টোবর ০৮, ২০১৭

ৎঅতি সম্প্রতি ব্যাটিংয়ের এত দীনতা আমি অনেক দিন দেখিনি। এত অসহায় আত্মসমর্পণ আমাকে অবাক করেছে। যে চমৎকার ব্যাটিং উপযোগী পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা পরাস্ত পর্যন্ত হচ্ছে না। টেস্ট ক্রিকেটে শৈল্পিক স্ট্রোকস, বাইরের বল ছেড়ে দেওয়া, ভালো বলকে সমীহ করা বা ব্যাকফুটে ডিফেন্সের এক বাহারি প্রদর্শনীর মেলা বসিয়ে টেস্ট ম্যাচে কত বড় পার্টনারশিপ ও সেঞ্চুরি কত অনায়াসে তুলে নেওয়া যায়; তা যেন স্বাগতিকদের যেই ব্যাট হাতে উইকেটে এসেছে প্রায় সকলেই করে দেখালো।

আমরা কতটুকু মন্দ বল করেছি তার চেয়ে বরং এই টেস্ট ম্যাচ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সফলতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। টেস্ট ম্যাচে টেস্টের মেজাজে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে তাদের এই কমিটমেন্টকে আলোকিত করার জন্য আমাদের বাজে বোলিংয়ের চেয়ে পর পর দুই ইনিংসে ব্যাট হাতে নিজেদের মেধার অপপ্রয়োগ দেখেছি। নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি এত অনাস্থা নিকট অতীতে দেখিনি। অনেকটা বনের বাঘের চেয়ে মনের বাঘই তাদের অস্থির করে তুলেছিল।

টেস্টে এতভালো লো বাউন্সের ব্যাটিং পিচের দর্শণ মিলবে তা ছিল কল্পনার অতীত। তেমন একটি পিচে ইনিংসে ৪৩ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা ছিল বেদনাদায়ক।

ব্লুমফন্টেইনে যেখানে ব্যাটসম্যানদের আউট তো দূরে থাক, পরাস্ত পর্যন্ত করা যাচ্ছে না তেমন একটি আদর্শ উইকেটে প্রতিপক্ষ বলের গতি ও নতুন বলের বাউন্স প্রথম ১৫ ওভার সঠিকভাবে মোকাবিলা ছিল প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। ইনিংসের শুরুতে বাউন্সার মোকাবিলার দৃশ্য ক্রিজের ব্যাটসম্যান ও ড্রেসিং রুমের ব্যাটসম্যানদের মধ্যেও কিছুটা ভীতির সঞ্চার করেছে। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি বা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে চ্যালেঞ্জ কী হবে তাতো অজানা ছিল না। পিচে তাড়া করার ও পিচে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার আগেই আমাদের শটস খেলার প্রবণতা আমাদের আরেকটি ব্যাটিং ব্যর্থতার মূল কারণ। তবে পার্থক্য ছিল ইতোপূর্বে তাদের অতিরিক্ত আস্থার কারণে বেশি শটস প্রায়ই টেস্ট ম্যাচে খেলেছে। কিন্তু কাল মনে হয়েছে নিজেদের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে খেলেছে। বল একটু পুরনো হয়ে যাওয়ার পর তার ধারও কমেছিল এবং প্রাথমিক ঝাঁজালো আক্রমণটা মোকাবিলা করতে পারলে ব্যাটিং করা যে কত সহজ ছিল, নবাগত লিটন দাস সেটা করে দেখালো। অপর প্রান্তে কেউ সঙ্গ দেওয়ার মতো না থাকলেও টেস্ট ম্যাচের কিছু সময় প্রয়োজনে নিজেকেও যে শটস খেলা থেকে বিরত রাখতে হয়, তা রপ্ত করার চমৎকার সুযোগ তিনি দেখাতে পারতেন তার দলের অন্য সবাইকে। অপরদিকে আমাদের দলের টেইল কাল তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে টিকে থাকার যে চেষ্টা করেছে তা ছিল প্রশংসনীয়।

বুকে সাহস সঞ্চার করে মনকে শান্ত রেখে টেস্ট ম্যাচের শেষ ইনিংসটা মনের মতো করে খেলার শেষ সুযোগটা ব্যাটসম্যানদের কাজে লাগাতে হলে একটা চমৎকার পার্টনারশিপ শুরুতেই লাগবে। নইলে শক্ত নতুন বলের বাউন্স ও ৩০ ওভারের পুরান বলের রিভার্স সুইংয়ের পাশাপাশি কেশব মহারাজও ছেড়ে কথা বলবে না। এমন চমৎকার সাবলীল গতির আদর্শ বাউন্সের পিচে যদি কেউ দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করতে ও তার নিয়ন্ত্রণমূলক স্ট্রোকস খেলতে না পারে তবে তার ক্রিকেট জীবনের ব্যাটিংয়ের আনন্দ উপভোগ অপূর্ণ রয়ে যাবে।

 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ