বিনা লড়াইয়ে আত্মসমর্পণ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:৩৬, অক্টোবর ১৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৩, অক্টোবর ১৬, ২০১৭

.দক্ষিণ আফ্রিকায় এই সফরে একদিনের ফরম্যাটেও দলগত সফলতার দেখা মেলা ভার হবে। তবে এর শুরুটা যে এত বড় হারে হবে ভাবিনি। ওয়ানডেতে বলের ধার নানা কারণেই টেস্ট ম্যাচের মতো ধারালো হয় না। আর দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্বলতম বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যাটসম্যানরা যে একটা প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তুলবে সেই বিশ্বাস মনে ছিল। দলের রান ৩০০ তে স্পর্শ করলে খুশি হতাম। যদিও অনুমেয়, সেটা পূর্ণ ব্যাটিং শক্তির দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

টেস্ট সিরিজে দলনায়ক হিসেবে সতীর্থদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স না পাওয়ার যে ব্যথা মুশফিক বুকে ধারণ করেছিলেন, সেটা প্রথম ম্যাচেই একজন সতীর্থ হিসেবে তার দলনায়ককে সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে কিছুটা ভারমুক্ত হয়েছেন। কিন্তু দলের এই বিশাল পরাজয়ে তারও দায়মুক্তি নেই।

তামিমের ফিটনেসের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে তার নিশ্চিত একাদশে ফিরে আসার মতো খবর দলের মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তবে এই সুযোগেও টেস্ট ম্যাচের মতো সেট হয়ে একইভাবে ইমরুল আউট হলেন। বিষয়টি যে তার দুর্বলতম জায়গায় প্রতিপক্ষের অধিনায়কের আক্রমণের সফলতা, সেটা আামাদের কোচ বা ইমরুলকে কতটা বিব্রত করেছে জানি না।

স্থান বা প্রতিপক্ষ বিবেচনায় অনুকূল বা প্রতিকূল কন্ডিশনে তিন নম্বরে সাব্বির রহমানের উপর কোচ ও অধিনায়ক ভরসা রাখবেন বলে আমার দৃঢ় ধারণা ছিল। এই পজিশন থেকে টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে সরালেন না। তিনি নিজে অপারগতা প্রকাশ করেছেন কি না জানার জন্য অপেক্ষায় রইলাম। তবে সদ্য যোগ দেওয়া সাকিবকে তিন নম্বরে দেখবো ভাবিনি। সব কিছুই একটা ধাঁধার মতো লাগছে। ম্যাচের শুরুর কিছু সময় উইকেট থেকে বোলাররা সামান্য সুবিধা পেলেও রাবাদাকে তার প্রথম স্পেলে অনেক বেশি সমীহ করেছেন আমাদের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম তিনজনের স্ট্রাইক রেট বলে দেয় সিঙ্গেলস বের করার ব্যাপারে আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন ছিল। অন্য ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট ইনিংসের মাঝে মুশফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে এবং তার প্রান্ত থেকে উইকেট পড়া ঠেকিয়েছে বলে দল অলআউট হয়নি বা ২৭৮ রান করতে পেরেছে। তবে ইমরান তাহির এই ফ্ল্যাট পিচে আমাদের চোখে সবচেয়ে বেশি সমীহ আদায় করেছেন এবং মুশফিকসহ আমাদের সেরা ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্যে তাকে খেলতে পারেননি। অভিষেক ম্যাচে অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে বলের চেয়ে ব্যাট হাতে যথেষ্ট উজ্জ্বল ও সাহসী মনে হয়েছে।

টেস্ট, অনুশীলন বা একদিনের ম্যাচই বলি না কেন, সব ফরম্যাটেই আমাদের বোলাররা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদের জুটি ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমলা ও ডি ককের ব্যাটিং অর্ডারের শুধু পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সফলতার যে নজির তারা স্থাপন করলেন সেটা একটা ভালো পিচে কত নিখুঁতভাবে পার্টনারশিপ ও নিজের ইনিংসকে চাপমুক্তভাবে উপস্থাপন করা যায় তার যেন একটা নিদর্শন রাখলেন।

বিগত চার-পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাতে আমাদের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ না থাকায় আমরা উপলব্ধি করতে পারিনি এর কঠিন বাস্তবতা। নয়তো ফলাফলের আলোকে ঘরোয়া ক্রিকেট এবং দেশে পিচের গুণগত মানের উন্নয়নে বোর্ড আরও তৎপর হতে বাধ্য হতো। হোম সিরিজের কিছুটা আর্টিফিশিয়াল সফলতায় টিম ম্যানেজমেন্ট বা বোর্ড নিজেদের ক্রিকেট ভিত্তিটা বড় আসরে (টেস্ট সিরিজে) যে এখনও যথেষ্ট মজবুত নয় তার সঠিক মূল্যায়নে আরও যত্নবান হতেন।

ওয়ানডে ফরম্যাটের এই বড় পরাজয় দলের বোলিং বিভাগের আস্থাকে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তার দ্রুত পুনরুদ্ধারে দৈন্য বোলিং বিভাগকেই মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। যেখানে সাকিবের স্পিন বোলিংই সফলতার মুখ দেখছে না, সেক্ষেত্রে পেস বোলারদেরকেই ফিরে আসার চেষ্টায় শতভাগ উজার করে দিতে হবে পরের দুই ওয়ানডেতে। এই পরিস্থিতির আলোকে তাদের যদি আগে বল করতে হয়, তবে আমাদের বোলিং বিভাগের ৫০ ওভার বল করার ছক ও সামর্থ্যের বড় পরীক্ষা দিতে হবে যার মুখোমুখি প্রথম ম্যাচে পড়তে হয়নি তাদের। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার অধিকাংশ ব্যাটসম্যানই প্যাড পরে ড্রেসিং রুমেই বসে ছিলেন। তারা অধীর আগ্রহে দ্বিতীয় ম্যাচের আকাঙ্ক্ষিত সুযোগের অপেক্ষা করছেন। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দলকে সুসংগঠিত ও উজ্জীবিত করতে দলের টিম ম্যানেজমেন্টেরও তৎপর হতে হবে। নৈপুণ্যের গ্রাফটাকে দর্শনীয় করতে হলে সব কিছু ভুলে সেরা একাদশ ও ব্যাটিং অর্ডারে আবেগ বা পছন্দ যেন প্রথম ম্যাচের মতো অগ্রাধিকার না পায়।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ