বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স কল্পনাতীত

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৬:৩০, অক্টোবর ৩০, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩২, অক্টোবর ৩০, ২০১৭

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুদক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শেষ প্রান্তে এসে কাল বাংলাদেশ আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছিল ঠিকই। খেলার শুরুতে সেটা ক্ষণিকের জন্য আলো ছড়ালেও ডেভিড মিলারের ব্যাটিং তাণ্ডবে যে কালো আঁধার নেমে এসেছিল তা আমাদের ব্যাটসম্যানদের হাতের ইংলিশ উইলো আর আলোকিত করতে পারেনি। তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল এতটাই অনুজ্জ্বল থাকবে তা কেউই ভাবেনি।

কাল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি কিন্তু খারাপ অবস্থান থেকে সেটাকে কীভাবে ভালোর চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় তা করে দেখিয়েছে। ঠিক একইভাবে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আমরা আমাদের ব্যাটিংয়ের দারুণ শুরুটা শেষ অবধি টেনে নিয়ে যেতে পারিনি। এখানেই দুটো দলের একটা বড় পার্থক্য। অর্থাৎ প্রতিকূল অবস্থাকে মোকাবেলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা অনুকূলে নিয়ে গেছে সহজেই এবং ১০ ওভারে ৭৮ রানের মধ্যে তাদের আটকে রাখলেও পরে আমরা বাজেভাবে পথ হারালাম।

এই সিরিজে প্রথম একাদশ নিয়ে কখনোই দলকে গোছানো মনে হয়নি। অথচ তিন অধিনায়ক ছিল তিন ফরম্যাটে। তাহলে এর দায় টিম বা টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর কতটুকু ছিল- তা সবাই না জানলেও বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্তাদের দরজা বন্ধ করে বিষয়টা পরিষ্কারভাবে জানতে হবে। এমন একটা কঠিন সফরে কোন বোর্ড কর্তা পুরো সফরে দলের সঙ্গে গেলেন না। তাও বিসিবির নির্বাচনের জন্য। ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’ এই কথা সর্বদা সত্য নয় প্রমাণিত হলো। তাদের কমিটমেন্ট দেখানোর জায়গাটিতে তারা দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

লিটন দাস প্রতিভাবান ক্রিকেটার, তার খেলার অনেক সুযোগ আছে। তার থেকে আরেকজন উপেক্ষিতভাবে বাদ পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। মুমিনুল হককে বাদ দেওয়া হয় তখন। অথচ লিটনকে খেলার সুযোগ দিয়ে তার ওপর যে পরিমাণ আস্থা এই সিরিজে রাখা হলো। কাল লিটন দাসের জায়গায় ঢাকার যে কোন পর্যায়ের ক্লাব ম্যানেজমেন্ট হলেও নাসিরকে ভালো পছন্দ হিসেবে দলে জায়গা দিতেন। অথচ আমরা দেখলাম ভিন্ন চিত্র। নাসিরের সংযোজন হয়ত খেলার ফলাফলকে উল্টে দিত না। তবে যখন আমরা একাদশ নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলবো, তখন তার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার কথা আলোচনায় উঠে আসবেই।

ডেভিড মিলারের ক্যাচটি মুশফিক নিতে পারলে হয়ত ১৯০-এর মতো টার্গেট বাংলাদেশ পেত। অসাধারণ ব্যাট করেছেন মিলার। সাইফউদ্দিনকে আমার কাছে বাম হাতি ব্যাটসম্যানের বিপরীতে আনুপাতিক হারে সাবলীল মনে হয়নি। তাকে মারা ৫টি ছক্কার বলগুলি শুধু লেন্থে ১ গজ সামনে পড়লে সম্ভবত এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হত না।

তবে শেষ বলটি তিনি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে করেছিলেন বিধায় শটের ওপর মিলার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। লক্ষ্য করে থাকলে দেখবেন যে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের বোলিং লাইন অফ স্টাম্পের যথেষ্ট বাইরে ছিল। এটা একটা চমৎকার কৌশল এই ধরনের ফ্ল্যাট ব্যাটিং উইকেটে। এই ধরনের পিচে স্টাম্প বরাবর বল করলে ব্যাটসম্যানদের জন্য তা টাইমিং করে মারাটা সহজ। একটু দূরের লাইনে করলে শটের পেছনে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও যথেষ্ট পাওয়ার থাকে না। আমাদের খেলোয়াড়রা যথেষ্ট লম্বা বা শক্তিশালী না হওয়ায় তারা ক্রিস গেইল বা ওয়াটসনের মতো দূরের বল যথার্থভাবে খেলতে পারেন না।

এর আগেও বলেছিলাম ম্যাচে ভালো করতে হলে সাকিবের পারফরম্যান্সটা অনেক জরুরী। তবে ব্যাট হাতে তিন নাম্বার তাকে মোটেই সহায়তা দিচ্ছে না।      

হাশিম আমলার ব্যাটিং দেখলে মনে হয় তিন ফরম্যাটে ব্যাট করার মতো সহজ কিন্তু এই কঠিন কাজটি হাতে গোনা কয়েকজন ব্যাটসম্যানের পক্ষেই সুচারুরূপে পালন করা সম্ভব। মুশফিক যদি উপভোগ না করেন বা তার এই ফরম্যাটে বার বার ব্যর্থতাকে যদি অন্য ফরম্যাটের নৈপুণ্যকে প্রভাব বিস্তার করছে বলে মনে করেন; তবে তা নিয়ে নির্বাচকদের চেয়ে তার নিজেরই আগে চিন্তা করে দেখা উচিত।

বলতে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় এই সিরিজের ফলাফল ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নের লক্ষ্যে একটা বড় রসদ জোগাবে। এই আলোকে নতুন বোর্ড দ্রুত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।  

 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ