শেষ ওভারের নাটকীয়তায় খুলনার হার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:২০, নভেম্বর ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৯, নভেম্বর ১৪, ২০১৭

ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পথে জহুরুলের একটি শট। ছবি-বিসিবিঢাকা পর্বে প্রতিশোধের মিশনে নেমেছিল খুলনা টাইটানস। সিলেট পর্বে ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে হেরে মিরপুরে তাদের হারাতে মরিয়া ছিল খুলনা। তবে শেষ ওভারে নাটকীয়ভাবে খুলনাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে ঢাকা। এক বল হাতে রেখেই জয়টা ‍তুলে নেয় ঢাকা।  এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে ঢাকা।

১৫৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে খুলনার বোলিংয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি ঢাকা। ২৪ রানে ফিরে যান এভিন লুইস, শহীদ আফ্রিদি, ডেলপোর্ট ও নারাইন।  প্রথম ওভারে লুইসকে ফিরিয়ে আঘাতটা হানেন আবু জায়েদ। এরপর শফিউলের শিকার হন আফ্রিদি। ডেলপোর্টও দাঁড়োতে পারেননি।  আর্চারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ২ রানে।  নারিনকেও থিতু হতে দেননি ধনঞ্জয়।  অধিনায়ক সাকিব চেষ্টা করেছিলেন প্রতিরোধ দিতে।  ব্যক্তিগত ২০ রানে তাকেও সাজঘরে ফেরান খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ঢাকা।  ধুঁকছিল রান পেতে।  আর সেই ঢাকাকেই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে আশার আলো দেখান ক্যারিবীয় তারকা কিয়েরন পোলার্ড।  ২৪ বলে ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ফেরেন।  যেখানে ছিল ৩টি চার ও ৬টি ছয়।! হুমকি হয়ে ওঠা এই তারকাকে ক্যাচ আউটে সাজঘরে ফেরান শফিউল ইসলাম।  তার এই ঝড়ো ইনিংসই ম্যাচে ফেরায় ঢাকাকে।  এরপর ঢাকাকে আটকে রাখার অনেক চেষ্টা করে খুলনার বোলাররা।  এক পর্যায়ে দুই বলে ৪ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকার।  নড়বড়ে এই পরিস্থিতিকে জয় করেন জহুরুল ইসলাম।  চার মেরে হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ঢাকার দুই ব্যাটসম্যান জহুরুল ও মোসাদ্দেক।  জহুরুল অপরাজিত ছিলেন ৪৫ রানে আর মোসাদ্দেক ১৪ রানে।   ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯.৫ ওভারে জয়ের দেখা পায় ঢাকা ডায়নামাইটস।  

খুলনার পক্ষে ২  উইকেট নেন শফিউল। একটি করে নেন আবু জায়েদ, ধনঞ্জয়, মাহমুদউল্লাহ ও আর্চার।  

ম্যাচসেরা জহুরুলকে পুরস্কার দিচ্ছেন খুলনা টাইটানস চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ। ছবি-বিসিবিএর আগে গত ম্যাচের মতো আবারও শেষ দিকে ঝড় তোলে খুলনা টাইটানস। ব্র্যাথওয়েটের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৫৬ রানের পুঁজি পায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান করে তারা।  

শুরুটা দেখে শুনে করেছিলেন দুই ওপেনার মাইকেল ক্লিঙ্গার ও নাজমুল হোসেন। ক্লিঙ্গার চতুর্থ ওভারে সাকিবের বলে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে ফেরেন দলীয় ২২ রানে। দুটি চার মেরে ১০ রানে ফেরেন ক্লিঙ্গার। এরপর থিতু হতে পারেননি নতুন নামা ধীমান ঘোষ। আবু হায়দার রনির বলে ক্যাচ হয়ে ফেরেন মাত্র ২ রানে।

ওপেনিংয়ে নামা নাজমুল হোসেন শান্তও চেষ্টা করেছিলেন থিতু হতে। ২৫ বলে ব্যাট করছিলেন ২৪ রানে। এর বেশি আর করতে পারেননি নাজমুল। উইকেটের বাইরে এসে নারিনকে খেলতে গিয়েছিলেন। তখনই তার স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক জহুরুল। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবশ্য এদিন খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারেননি। আফ্রিদির বলে তাকেও স্টাম্পড করেন জহুরুল। ফেরেন ১৪ রানে।

এরপর নেমে ফের ঝড় তুলতে থাকেন ব্র্যাথওয়েট ও রাইলো রোসো। এ দুজনের ব্যাটেই খুলনার স্লথ গতির চাকায় আসে গতি। এই জুটিতে ভর করে ১২০ রান পার করে খুলনা। ১৮তম ওভারের শেষ বলে এই জুটি ভেঙে রাশ টেনে ধরেছিলেন আবু হায়দার রনি। মেরে খেলেছিলেন রোসো। বাউন্ডারির কাছে তার ক্যাচ লুফে নেন মোসাদ্দেক হোসেন। রোসো বিদায় নেন ৩৪ রানে। তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। উল্টো দিকে ঝড়ো গতিতে খেলে ২৫ বলে ফিফটি পূরণ করেন ব্র্যাথওয়েট। শেষ ওভারে রনির বলে দুটি ছয় মেরে পুঁজি সমৃদ্ধ করেন ক্যারিবীয় এই ক্রিকেটার। শেষ পর্যন্ত শেষের ঝড়ে ৫ উইকেটে ১৫৬ রান তুলতে পারে খুলনা টাইটানস।

ব্র্যাথওয়েট অপরাজিত ছিলেন ২৯ বলে ৬৪ রান। যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৬টি ছয়। সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন আরিফুল হক (৪)।

ঢাকার পক্ষে ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন আবু হায়দার রনি। একটি করে নেন সাকিব আল হাসান ও শহীদ আফ্রিদি।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ