ওয়েলডান জিম্বাবুয়ে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০১:০২, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৮, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

দুই দিনের ব্যবধানে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে এবং আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে এত দ্রুত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারবে জিম্বাবুয়ে, এতটা বিশ্বাস আমাদের ছিল না। অভিনন্দন জিম্বাবুয়ে দল ও আমাদের সাবেক বোলিং কোচ (বর্তমানে জিম্বাবুয়ের প্রধান কোচ) হিথ স্ট্রিককে এই ত্রিদেশীয় সিরিজকে শুরুতেই প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য।

এই ম্যাচটি ভিন্ন পিচে হয়েছে। প্রথম ম্যাচের চেয়ে স্ট্রোকস খেলার জন্য যেমন উপযোগী ছিল, তেমনি পেসারদের ভালো লাইন ও লেন্থের বল ব্যাটকে ঠিকই পরাস্ত করেছে। এর মাঝে জিম্বাবুয়ের পেস বোলার ব্লেসিং মুজারাবানি তার শরীরের উচ্চতার ফায়দা তুলে নিয়েছেন বাড়তি বাউন্স আদায় করে। তবে দুটো ম্যাচে তিনি যে পরিমাণে ‘নো’ বল করলেন, তা অতি দ্রুত তাকে শোধরাতে হবে।

ম্যাচের শুরুতে পিচের আচরণ ও শ্রীলঙ্কার বোলিংয়ের ধার দেখে মনে হয়েছে জিম্বাবুয়ে আজ (বুধবার) একটা বড় স্কোর করতে যাচ্ছে। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও সোলোমন মীর যখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিলেন শ্রীলঙ্কার বোলিংয়ের ওপর, তখন মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কাকে একটু কষ্ট করতে হবে ম্যাচটি জিততে। পরবর্তী সময়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের সাম্প্রতিক অন্যতম স্তম্ভ সিকান্দার রাজার সঙ্গে ব্রেন্ডন টেলরের অসাধারণ নৈপুণ্য যখন দলের রানকে ২৯০তে নিয়ে গেল, তখন মনে হচ্ছিল আজ যদি ভালো ফিল্ডিং ও বোলিং করে, তবে শ্রীলঙ্কা একটা হোঁচট খেতে যাচ্ছে।

এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা সিঙ্গেলস ও ডাবলস অনেক বেশি নিয়েছে। জিম্বাবুয়ে দলে এত ডানহাতি ব্যাটসম্যান থাকার পরও বাঁহাতি চায়নাম্যান লাকসান সান্দাকানকে কেন খেলালো না বোধগম্য হয়নি। ঠিক একইভাবে প্রথম ম্যাচের উইকেটের চরিত্র দেখে হার্ডহিটার নিরোশান ডিকবেলাকে শ্রীলঙ্কার না খেলানোটাও ছিল অনেক বড় ভুল।

২৯১ রান তাড়া করে জেতার ক্ষমতা শ্রীলঙ্কা খেলার শুরুতেই উজ্জ্বল করে তুললেও জিম্বাবুয়ে হাল ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের বোলিং সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে শেষ অবধি যেভাবে মাঠে সেই চাপের সামাল দিয়েছে, তা ছিল প্রশংসনীয়। তাদের সিকান্দার রাজা ফিল্ডিংয়ে ছিল দিনের সেরা। তার নেওয়া অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ক্যাচটি ছিল অসাধারণ।

এই ম্যাচে টেলরের দুর্বল কিপিং জিম্বাবুয়েকে ভুগিয়েছে এবং আগামীতেও ভোগাতে পারে। অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার প্রথম স্পেলে অসাধারণ বল করলেও মাঠে থিসারা পেরেরা আসার পর তার সিমারদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা উচিত ছিল। তিনি অনেকটা ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে নিজে অতিরিক্ত বল করে ম্যাচটি প্রায় হাতছাড়া করেই ফেলেছিলেন।

থিসারা পেরেরা অসাধারণ ব্যাটিং করে ম্যাচটিকে জয়ের প্রায় কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত উত্তেজনার চাপ সামাল দিতে না পারায় একটা পরিপক্ক ফিনিশিং তিনি দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দিতে পারলেন না। এমন পরিস্থিতিতে থিসারা পেরেরা অনেক খেলেছেন, ম্যাচ জিতিয়েছেন, আবার হেরেছেনও। সেই হিসেবে চাপের পরিমাণটা জিম্বাবুয়েরই বেশি ছিল। সেই কারণেই এমন ফুলটস বলও উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন থিসারা পেরেরা, কিন্তু ফল হলো সম্পূর্ণ বিপরীত।

এই সিরিজে এখনও অনেক খেলা বাকি। তবে শ্রীলঙ্কা হারাতে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেল। কোচ হিসেবে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শুরুটা মোটেও ভালো হলো না। তবে তিনি আবেগী মানুষ নন। ‘সব ভালো যার, শেষ ভালো তার’ এই প্রবাদটি মাথায় রেখেই নিজেকে ও তার দলকে উজ্জীবিত করবেন বাকি ম্যাচগুলোর জন্য। মনেপ্রাণে ফাইনালে আমিও আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে যে শ্রীলঙ্কাকেই চাই।

/কেআর/

লাইভ

টপ