শ্রীলঙ্কার পরাজয়টা ছিল সময়ের দাবি

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:৩০, জানুয়ারি ১৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৬, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুযে আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ে সারা দেশ আনন্দে ভাসতো।  এক সময়ের বিশ্বকাপ জয়ী শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশ দলের অনেক খেলোয়াড়ের মাঝেই আগের মতো আনন্দের ছটা দেখলাম না। এমন ফলাফলই হবে-এটা যেন আগেই বোধহয় তারা জানতেন এবং খেলোয়াড়রা এটাও বোঝেন যে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় কাপ জিতে ক্রিকেটপ্রেমীদের উপহার দিয়েই জয়ের উল্লাসে তারা গা ভাসাবেন।

জিম্বাবুয়ে দলের ২৯০ রান তাড়া করতে গিয়ে যে দল মুখ থুবড়ে পড়ে, স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের আক্রমণের বিপক্ষে ৩২০ রান তাড়া করার মতো আত্মবিশ্বাস তাদের ছিল না।  জয়াসুরিয়া, সাঙ্গাকারা, দিলশান ও জয়াবর্ধনের মতো এত বড় মাপের ব্যাটসম্যানদের প্রস্থানে তাদের ব্যাটিং হয়ে গেছে নড়বড়ে। একইভাবে বোলিংয়ে মুরালিধরন ও মালিঙ্গার অনুপস্থিতি বোলিং বিভাগকে করে দিয়েছে নির্বিষ! তাই বর্তমান শ্রীলঙ্কা দলকে পেছনে ফেলে আমাদের অগ্রযাত্রা এক কথায় সময়ের দাবি। আমাদের আছে অভিজ্ঞ তামিম, সাকিব, মুশফিক, রিয়াদ ও মাশরাফি।  সঙ্গে কিছু উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়।  আমাদের এসব অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিকল্প খেলোয়াড়দের যদি নিচে থেকে গড়ে তুলতে মনোযোগী না হই, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদেরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

গত কয়েক বছর আমাদের দলের বিষয়ে অনেকেই দলের চেয়ে ব্যক্তি হাথুরুসিংহের কৌশলকেই এগিয়ে রাখতেন। কিন্তু বাস্তবতা যে ভিন্ন ছিল তার একটা ছোট পরীক্ষায় সফল হয়ে আমাদের খেলোয়াড়রা এর প্রমাণ দিল। এত বড় রানের ব্যবধানে হেরে সেই হারের ফুলের মালা আজ গুরুদক্ষিণা দিল আমাদের দল! বড় অহঙ্কার ছিল হাথুরুসিংহের তার মেধার প্রতি। আজ তার দর্পচূর্ণ আমি দারুণ উপভোগ করেছি। যে নাসির হোসেনকে তিনি কোনও কাজেরই উপযুক্ত ভাবতেন না। আজ দলনায়ক মাশরাফি তাকে দিয়েই করলেন শ্রীলঙ্কা বধের সূচনা।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস বোর্ডের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আজ বুঝতে পেরেছেন, একাদশ নির্বাচনে কতখানি প্রভাব খাটাতেন হাথুরুসিংহে। এই ম্যাচে নাসির, সাব্বির ও রিয়াদ তিন জনের সঙ্গে চার পেস বোলারকে সংযোজন করে তৈরি করা হয়েছিল চমৎকার বোলিং ইউনিট। যে নির্বাচক, অধিনায়ক ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এই দলের সমন্বয় করেছেন, আশা করি ভবিষ্যতে বোর্ড যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তাদের কথা শুনবেন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এবং কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বোর্ড পরিচালক আকরাম খান ও নাইমুর রহমানকে যথার্থভাবে মূল্যায়ন করবেন।

পর পর দুটি ম্যাচে তামিম ও সাকিবের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ছিল সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। এনামুল হক বিজয় ড্রপ ক্যাচের সুযোগ আজও কাজে লাগাতে পারলেন না। তার মনে রাখা উচিত, টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি মিথুন একদিনের ম্যাচে তার জায়গায় ব্যাট করার অন্যতম দাবিদার হয়েও বেঞ্চে বসে আছেন।

এই টুর্নামেন্টে যত সময় যাবে আবহাওয়া ভালো হওয়া, পিচের উন্নয়ন এবং ব্যাটসম্যানদের তার সঙ্গে ধাতস্ত হওয়ার কারণে ক্রমান্বয়ে বোলারদের ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি।  এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ কোনও কঠিন ম্যাচের মুখোমুখি না হওয়ায়, বোলিং পরিকল্পনার ছক ও প্রতিটি মূল বোলারের ১০ ওভারে যে দক্ষতা প্রয়োজন সেই নৈপুণ্য দেখার অপেক্ষায় রইলাম। 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ