ধারাবাহিক সফলতার আনন্দই অন্যরকম

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২২:১৭, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৭, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুএই ত্রিদেশীয় সিরিজে আমাদের দল একটা আমেজে আছে। দলগত ধারাবাহিক সফলতার পাশাপাশি ইনিংসের শুরুতে ব্যাট হাতে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের দারুণ জুটি যে কোনও দলের অধিনায়কের জন্যই একটা অলঙ্কার।

তামিম তার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন, এজন্য তাকে জানাই অভিনন্দন। এক সময়ের শুরু থেকে অতিরিক্ত আক্রমণের ব্যাটিং কৌশলে পরিবর্তন এনে তিনি এখন অনেক পরিণত। তবে পুরানো স্মৃতি মন থেকে পুরো মুছে ফেলতে পারলে হয়তো আজ তার পক্ষে সেঞ্চুরির দেখা মিলতে পারতো।

আজকের পিচ এই ম্যাচের ব্যাটসম্যানদের জন্য মোটেই সহায়ক ছিল না। ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় পিচ যেমনই হোক, সাকিব তার নিজের ছন্দেই শট খেলতেন। তবে ব্যাটিংয়ে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নিজের ব্যাটে রান তোলার চেয়ে ধাতস্থ হওয়ার যে কৌশল অবলম্বন করলেন ও তামিমের সঙ্গে জুটি গড়ে তুললেন, সেটাই দুই দলের মাঝে গড়ে দিলো বড় ব্যবধান। দুজনে মিলে ৩০০ বলের মোট ১৮৫ বল ভাগাভাগি করে খেলেছেন। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ঘায়েল করার মতো কোনও বিশেষজ্ঞ অফস্পিনার নেই জিম্বাবুয়ে দলে। আমাদের দেশে এর চেয়ে বেশি করাটা খণ্ডকালীন সিকান্দার রাজা ও ম্যালকম ওয়ালারদের জন্য বেশ মুশকিল।

চমৎকার শুরুর পর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কেউই জ্বলে উঠতে না পারাটা মাশরাফি মুর্তজার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে অনেক দিন পর প্রয়োজনের সময় বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ বোলাররা দারুণ ব্যাট করেছেন। অনুমান করা যাচ্ছে, নেটে তাদের ব্যাটিংয়ের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার দারুণ বল করেছেন, তবে অন্য প্রান্ত থেকে বোলাররা যদি উইকেট ফেলতে পারতো তবে তার বোলিং আরও অনেক ফলপ্রসূ হতো। আমাদের দলে অন্তত ক্রেমারের মতো একটা বোলার থাকলে দারুণ বৈচিত্রময় বোলিং আক্রমণ হতো।

এই পিচে ব্যাট করার পর অনুমেয় ছিল যে, আমাদের বোলিংয়ের বিপক্ষে ২১৬ রান টপকে যাওয়া সম্ভব হবে না জিম্বাবুয়ের। সানজামুল ইসলামের সংযোজন ও মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য এই আদর্শ উইকেটে জিম্বাবুয়ে পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারবে না, সেটাও ছিল প্রত্যাশিত।

জিম্বাবুয়ের উপরের সারির ব্যাটসম্যানরা একদমই রানে নেই। এই ধরনের পিচে টেস্ট ম্যাচের মানসিকতা নিয়ে একজন ব্যাটসম্যান টিকে থাকতে পারে। কিন্তু সেখানে একদিনের ম্যাচে রান তাড়া করে জেতা এই মানের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে অত্যন্ত কঠিন; যেখানে মাশরাফি, সাকিব, রুবেল হোসেনের মতো অভিজ্ঞ ও মোস্তাফিজ আতঙ্ককে মোকাবিলা করতে হবে। বাংলাদেশ দলের যে বোলাররা কম ওভার করার আমন্ত্রণ পেয়েছেন, তাদের জন্য সহানুভূতি রইলো। এমন প্রাণবন্ত ‘মুভমেন্ট’ বোলাররা সচরাচর দেশের মাটিতে পায় না। তার সঙ্গে অনিয়মিত-অসমান বাউন্স ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে।

এই জয়ের পরও আমার বিশ্বাস, ফাইনালের আগে আমাদের শেষ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে আরও উন্নতি করতে হবে। টস হেরে রান তাড়া করতে হতে পারে। ধারাবাহিক সফল ব্যাটসম্যানদের তিন অঙ্কের ঘরে রান স্পর্শ করা প্রয়োজন। মাহমুদউল্লাহ, নাসির হোসেন ও সাব্বির রহমানের জন্য যে স্বল্প পরিসরে ব্যাট করার সুযোগ থাকে, সেটার সদ্ব্যবহারে আরও উন্নতি প্রয়োজন।

একই মাঠে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ হলে পিচের মান ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে যায় এবং এই চিত্র দেশের ‘হোম অব ক্রিকেটে’ বড় বেমানান।

একদিনের ম্যাচে কোনও ব্যাটসম্যান টেস্ট ম্যাচের আঙ্গিকে যেমন ব্যাট করতে চায় না, তেমনই দর্শকরাও সেটা উপভোগ করে না। তবে খেলাটি যদি টেস্ট ম্যাচ হতো, তবে উইকেটের থেকে পেস বোলারদের প্রাপ্ত এই মুভমেন্টের সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের দ্বৈত লড়াইটা আরও বেশি উপভোগ করতাম।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ