বড় বাজে দিন গেলো বাংলাদেশের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০১:১১, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪২, জানুয়ারি ২৬, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুম্যাচটির ফলাফল হয়ত আপেক্ষিক অর্থে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দলের একটা দাপুটে পারফরম্যান্স এই ম্যাচেও দেখতে পাবো বলে ভেবেছিলাম। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ভালো ফর্মের কারণে আমাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যথেষ্ট সুযোগ প্রথম রাউন্ডে পায়নি। তাই শেষ ম্যাচে মিডল অর্ডারের ধস এই ম্যাচেও যে পুনরাবৃত্তি ঘটবে তা ভাবিনি। টেল এন্ডার ব্যাটসম্যানরা প্রতি ম্যাচে বুক চিতিয়ে লড়াই করবে- তা আশা করাটা হয়ত উচিত নয়।

নিয়মিত একই ম্যাচে খেলা হওয়ায় পিচ ক্রমান্বয়ে ধীর হচ্ছিল। তামিমের প্রথম অন দ্য রাইজ শটসের টাইমিং যখন বাউন্ডারির ঠিকানা খুঁজে পেল না, তখনই বিষয়টি আন্দাজ করেছিলাম। বিজয়ের ইনসাইড এজে বোল্ড হওয়া ছিল আরেকটি ইঙ্গিত। সাকিব ওভারপিচ বল থেকে দুটো বাউন্ডারি পেলেও মিস টাইমিংয়ে যখন তার বল মিড অফের ফিল্ডারের একটু সামনে উড়ে গিয়ে পড়ল। তখন বুঝতে বাকি রইলো না এই পিচে রান করতে ব্যাটসম্যানদের আজ যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।

ভুল বোঝাবুঝি থেকে সাকিবের রান আউট হওয়াটা ছিল বাংলাদেশ দলের প্রাথমিক ধাক্কা। একই সঙ্গে শর্ট অব লেন্থের বল থেকে হঠাৎ বাড়তি বাউন্স যখন তামিম ইকবালকে প্যাভেলিয়নে পথ ধরালো, তখন উজ্জীবিত লঙ্কান বোলারদের একটা বড় সুযোগ হয়ে গেলো এই টুর্নামেন্টে কম ব্যাট করার সুযোগ পাওয়া মিডল অর্ডারকে নতুন বলে সাজঘরে ফেরানোর। চ্যালেঞ্জটা আমাদের মিডল অর্ডারও নিতে পারেনি আজ। পিচ ও প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের সঙ্গে ধাতস্থ হয়ে ব্যাট হাতে লড়াই করার একটা বড় সুযোগ ছিল রিয়াদ, সাব্বির ও নাসিরের। কিন্তু তারা তা মোকাবেলা করতে পারলেন না দেখে আশাহত হয়েছি। মুশফিকের সেট হয়ে যাওয়ার পর আউট হয়ে যাওয়াটা দলের জন্যে মোটেই সুখকর নয়। প্রশংসা করতে হয় লঙ্কান পেস বোলিং ইউনিটকে। এই ধীর গতির পিচ থেকে চমৎকার বাউন্স আদায় করে নিয়েছে এবং নিখুঁত ডেলিভারি দিয়ে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে আর ফেরত আসতে দেয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের সার্বিকভাবে তাড়াহুড়ো করে ব্যাট চালানোটা সময়ের দাবির সঙ্গে ছিল বড় বেমানান। সাম্প্রতিককালে আমাদের এই করুণ ব্যাটিং দৈন্যতার জন্য এই টুর্নামেন্টে হয়ত বড় কোনও মূল্য দিতে হলো না। কিন্তু ব্যাটিং বিভাগে আস্থার জায়গাটায় সঠিক সময়ে একটা ধাক্কা শ্রীলঙ্কানরা দিয়ে ফেললো।

এই অল্প রানকে তাড়া করা দুষ্কর তবে একটা লড়াই হবে ব্যাটে-বলে তা ভেবেছিলাম। বল ব্যাটকে পরাস্ত করবে এবং ৩-৪টি উইকেট অন্তত আমরা ফেলতে পারবো- এই বিশ্বাসটুকু আমাদের পেস ইউনিটের ওপর ছিল। বস্তুত ফল হয়েছে তার উল্টো! সম্ভবত খেলার ২৫ ওভারের মাথায় ১০ মিনিটের ব্যবধানে বল হাতে আমাদের বোলারদের নেমে পড়তে হবে তা হয়ত কেউ ভাবেনি। তাই ব্যাট হাতে এই অসহায় আত্মসমর্পণের পর নতুন বলে লড়াকু পেস বোলিংয়ের ছন্দহীন ওভারগুলি হজম করতে কষ্ট হচ্ছিল।

ব্যাট-বল হাতে বড় বাজে একটা দিন গেলো আমাদের দলের জন্য। তবে লঙ্কানদের নিয়ে ভাবার পাশাপাশি নিজেদের ঘাটতির জায়গাগুলিতে ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে উন্নতি করবে চূড়ান্ত ম্যাচটিতে- তার অনুশীলনের উত্তম জায়গা হলো নিজের মনের পর্দায় নিবিড় অনুশীলন করে নেওয়া।

 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ