কৃতিত্ব দিতে হবে শ্রীলঙ্কাকেই

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২৩:০৪, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৪, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুএই ধরনের ছকের ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে সঠিক সময়ে যে দল ফর্মের চূড়ায় অবস্থান করতে পারে, ফাইনাল জেতাটা তাদের জন্য কিছুটা সহজ হয়ে যায়।

আমরা টুর্নামেন্টটা ভালো শুরু করেছি, কিন্তু সেই ফর্মটা ধরে রাখতে পারিনি। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ফর্মে ফেরে এবং ফাইনালের মাহেন্দ্রক্ষণে দলগত আত্মবিশ্বাসে আমাদের চেয়ে এগিয়ে যায়। বিশেষ করে ফিরতি রাউন্ডের শেষ ম্যাচে ১০ উইকেটের হার আমাদের দলের সামর্থ্য ও বিশ্বাসের ওপর বেশ বড় আঘাত হানে, যেটা ৪৮ ঘণ্টায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

এই টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচে আগে ব্যাট করার কারণে প্রথমে বল করার চ্যালেঞ্জে আমাদের বোলারদের পড়তে হয়নি। আজ মন্থর কিন্তু অসমান বাউন্সের উইকেট থেকে প্রাপ্ত সুবিধা আদায় করে নেওয়ার কৌশলে আমাদের পেস বোলারদের অনেক দেরিতে আক্রমণে এনে অধিনায়ক ভুল করেছেন। প্রথম উইকেট তুলে নেওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে আক্রমণে সাইফউদ্দিন বা রুবেল হোসেনকে এক প্রান্ত থেকে আনতে পারতেন। অন্য প্রান্তে মাশরাফি নিজেকে আরও আগে সরিয়ে মোস্তাফিজকে আক্রমণে আনতে পারতেন। এই পিচে স্পিন ও ধীরগতির পেস বোলিংয়ের চেয়ে অনিশ্চিত বাউন্স এই ম্যাচ জুড়ে ব্যাটসম্যানদের অনেক বেশি ভুগিয়েছে।

মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহর ১৪ ওভার ও সাকিব আল হাসানের ৫ ওভারসহ মোট ১৯ ওভারের স্পিনে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা নিজেদের জুটি সুসংহত করেছে। বিনিময়ে স্পিনাররা ম্যাচের শুরুতে মাত্র ১টি উইকেট তুলে নিতে পেরেছে। এই পিচে সাইফউদ্দিন মাত্র ৪ ওভার বল করতে পেরেছেন, স্পিনারদের ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে তাকে আরও বেশি ব্যবহার করা উচিত ছিল।

ডেথ ওভারে রুবেল ও মোস্তাফিজের কোটা কমিয়ে শুরুতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের অগোছালো করার উদ্যোগ নিলে কুশল মেন্ডিস এভাবে মিরাজের ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগ পেতো না। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে পিচে আসা ডিকবেলাকেও পেসারদের দিয়ে আক্রমণ করা উচিত ছিল, যেটা শ্রীলঙ্কা করেছে আমাদের বিপক্ষে। তারা তাদের প্রথম চারজন পেস বোলারকে দিয়ে একটানা ১৬ ওভার বল করিয়ে আমাদের উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করতে দেয়নি ও ছিল যথেষ্ট মিতব্যয়ী।

সারা টুর্নামেন্ট জুড়ে তামিমের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে এনামুল হক আকাঙ্ক্ষিত নৈপুণ্য দেখাতে পারেননি। এ কারণে ফাইনালে এসেও তামিমের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটি খুঁজে বেড়াতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মন্থর উইকেটে ভালো করাটা মিঠুনের জন্য সহজ ছিল না এবং রানের চাপেই ঝুঁকিপূর্ণ রান নিতে গিয়ে তাকে রান আউট হতে হয়। কিন্তু পরে মিঠুন ও মুশফিকসহ সবাই প্যাভিলিয়নে বসে দেখেছেন, যোগ্য স্বীকৃত ব্যাটসম্যানের সমর্থনের অভাবে মাহমুদউল্লাহ রান তাড়া করার লড়াইটা চালাতে পারলেন না।

এই ধরনের পিচে ২০০ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে বেধে রাখা উচিত ছিল। কৃতিত্ব দিতে হয় উপুল থারাঙ্গা ও দিনেশ চান্ডিমালকে তাদের চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য। কুশল মেন্ডিস ও ডিকবেলার অতি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং হতে পারে এখানে হাথুরুসিংহের কৌশলের একটি অংশ। যেখানে তিনি শেষ পর্যন্ত সফল হয়ে শেষ হাসিটা হাসলেন। প্রতিপক্ষের মাটিতে শেষ পর্যন্ত পিচের আচরণের সঙ্গে অধিকতর মানিয়ে শ্রীলঙ্কাই বেশি ভালো ক্রিকেট খেলেছে।

আমাদের দুর্ভাগ্য ফাইনালে সাকিবের ব্যাটিং দেখতে না পারা। শর্টপিচ বলে তামিম ও সাব্বিরকে ঘায়েল করার পরিকল্পনায় লঙ্কানদের সফলতা বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে এই ম্যাচে।

মাহমুদউল্লাহ তার সামর্থ্যের প্রমাণ বড় ম্যাচে চমৎকারভাবে রাখলেও তা আলোর মুখ দেখলো না। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও কুশল পেরেরা ইনজুরিতে প্রথম একাদশে খেলতে না পারলেও কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখলেন শেষ পর্যন্ত হাথুরুসিংহে।

এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রতিটি দলের খেলোয়াড়রা নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ সফল হয়েছেন, আবার অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে একই মাঠে ৭টি খেলা অল্প সময়ে হলে পিচের গুণগত মানের অবনতি হওয়ারই কথা, আমরা সেটাই দেখতে পেলাম।

এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগে বোর্ডের লক্ষ রাখা উচিত এখান থেকে দল ও খেলোয়াড়রা কী অর্জন করতে পারে! ম্যাচগুলোর দুটি রাউন্ড দুই ভেন্যুতে হতে পারতো। শেষ পর্যায়ের ম্যাচ ও ফাইনাল দেখে আমার মনে হয়েছে, অর্জনের চেয়ে এখানে সময় নষ্ট ও অর্থ খরচ হয়েছে বেশি। তবে আয়োজনের উদ্দেশ্যটাকে আমি অবশ্যই ভালো বলবো। শুধু অভাব ছিল সুসংগঠিত ভেন্যুতে খেলা পরিকল্পনার, সর্বোপরি ভালো গুণগত পিচের মান বজায় রাখার ব্যর্থতাও দেখা গেছে।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ