ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দি বাংলাদেশ

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২৩:০৩, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৬, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮

আরেকটি হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। ছবি-বিসিবিহতাশার বৃত্তে বন্দি বাংলাদেশের ক্রিকেট, কিছুতেই ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না টাইগাররা। একের পর এক হারের যন্ত্রণায় বিদ্ধ বাংলাদেশ ভক্তদের দুঃখ দিয়েই যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৯৪ রানের লক্ষ্য শ্রীলঙ্কা ছুঁয়েছে ২০ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে। স্বাগতিকদের যেন নিয়ে খেলছে অতিথিরা!

অথচ বাংলাদেশ ২০ ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বেলফাস্টে ১৯০ রান এতদিন টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল টাইগারদের। মিরপুরে রেকর্ড গড়ে ১৯৩ রান করলেও বাংলাদেশ নয়, শেষ হাসি শ্রীলঙ্কার। এর চেয়ে ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে!

দেড় মাস আগেই ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ তৈরি হয়েছিল, চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দলের বিপক্ষে লড়তে হবে টাইগারদের। ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুতে শ্রীলঙ্কাকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ থেকে শুরু হয় ছন্দপতন। ফাইনালে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে, মিরপুর টেস্টে বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় আড়াই দিনে। একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার নিয়েও প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাত্তা পায়নি। সিলেটে আগামী রবিবার শেষ ম্যাচ হেরে গেলে ব্যর্থতার ষোলো কলা পূর্ণ হবে।

‘নির্ভীক’ ক্রিকেট খেলার মন্ত্র বুকে নিয়ে ২২ গজে নেমেছিল বাংলাদেশ। সৌম্য-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পেয়েছিল ১৯৩ রানের রেকর্ড স্কোর। সংগ্রহটা অবশ্য আরও বড় হতে পারতো। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ‘ডট’ বল দেওয়ার প্রবণতা কমেনি। বৃহস্পতিবার ৩৪টি ‘ডট’ বল দিয়েছেন তারা। লক্ষ্য ২১৫-২২০ হলে শ্রীলঙ্কা এত সহজে জিততে পারতো না নিশ্চয়ই।

মিরপুরে বাংলাদেশের বোলিংও ছিল এলোমেলো। বোলাররা লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বল করতে পারেননি। নিজের প্রথম ওভারে ১৪ রান দেওয়ার পর মোস্তাফিজকে বোলিং থেকে সরিয়ে দেন অধিনায়ক। দ্বিতীয় স্পেলের শুরুতে কয়েকটি বল ভালো করলেও কাটার-মাস্টারের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয়। তিন ওভারে ৩২ রান খরচ করে উইকেটশূন্য ছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। তরুণ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ছিলেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল। তার ১২ বলে ৩৩ রান নিয়েছেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। রুবেলও কম যাননি, এক উইকেট নিলেও ৩.৪ ওভারে ৫২ রান দিয়েছেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে চার নবাগতকে নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। আরিফুল ছাড়া বাকি ‍তিনজন ভালোই সুযোগ পেয়েছেন নিজেদের প্রমাণ করার। সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর। চার ওভারে ২৫ রানে দুই উইকেট শিকার করে তিনিই দলের সেরা বোলার। আফিফ শূন্য রানে আউট হওয়ার পর দুই ওভারে ২৬ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন এক উইকেট। সৌম্যর সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে জাকিরের অবদান ৯ বলে ১০ রান। আর শেষ ওভারে নেমে এক বলে এক রান করেছেন জাকির। বিপিএলে খুলনা টাইটানসের হয়ে খেলা জাকিরের দারুণ ফিল্ডিং অবশ্য প্রশংসা পেয়েছে সবার।

স্বাগতিকদের হাতে আর একটাই ম্যাচ। গত তিন সপ্তাহের ব্যর্থতা ভোলার এটাই শেষ সুযোগ। রবিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। ‘সব ভালো যার শেষ ভালো’ মন্ত্র বুকে নিয়ে জ্বলে উঠতে পারবে বাংলাদেশ?

/আরআই/এএআর/

লাইভ

টপ