দলে আস্থার সঙ্কট থাকলে ভালো খেলা কঠিন

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:৩২, মার্চ ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০, মার্চ ০৯, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুসাকিব আল হাসানকে ছাড়া সম্প্রতি সময়ে প্রায় একই দল নিয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন ফরম্যাটে খেলেছে। শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশে দ্বিপাক্ষিক সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৬ জন নতুন তরুণকে দুই ম্যাচে সুযোগ দিয়ে নির্বাচকদের প্যানেল ও টিম ম্যানেজমেন্ট সবাইকে ভিন্ন একটি বার্তা  দিয়েছিলেন। তবে এই ত্রিদেশীয় সিরিজে তারা পুরানো এবং অভিজ্ঞদের নিয়েই প্রথম একাদশ সাজান। কিন্তু মাঠে ফলাফলের কোনও পরিবর্তন হয়নি বা আস্থা পুনরুদ্ধারের কোনও লক্ষণও পরিলক্ষিত হয়নি।


অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত ভারত শুরুতেই শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে কিছুটা চাপের মুখ থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নামে। কিন্তু ব্যাট হাতে চমৎকার একটা শুরুর দেখা পায়নি, আবার কোনও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান একটি প্রান্ত থেকে বড় ইনিংস খেলতে না পারায় নিয়মিত বিরতিতেই নতুন ব্যাটসম্যানরা উইকেটের দুই দিক থেকেই ব্যাট করতে আসেন। তাদের মাত্রাতিরিক্ত ডট বল খেলার কারণে সাব্বির রহমান ও লিটন দাসের ছোট ইনিংসের ভর করে মামুলি ১৩৯ রানের বেশি স্কোর করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

ম্যাচে জেতার পর ভারত কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হবে অগণিত ক্যাচ ছাড়ার জন্য। তবে এই সুযোগ তৈরি করার জন্য নিশ্চয়ই রোহিত শর্মার কাছে ভারতের বোলাররা প্রশংসিত হবেন। আর মাহমুদউল্লাহ অনিয়ন্ত্রিত শটগুলির ওপর তার ব্যাটসম্যানদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

দলটি ভারত বলেই বাংলাদেশের মাথায় ১৭০-১৮০ রান সংগ্রহের একটা তাড়া ছিল; এটা সৌম্য, তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের জোর করে শট খেলার চেষ্টা থেকে অনুমেয়। ওভার পিচ বা অন দ্য রাইজ শট খেলার কোনও সুযোগ ভারতের বোলাররা দেয়নি। উপর্যুপরি শট অব লেন্থের বল, স্লোয়ার ও উইকেটের বেশ বাইরে বল করে তারা ছিল অনেক সফল। যদিও প্রচুর ওয়াইড তাদের নামের পাশে সংযোজিত হয়েছে।

১৪০ রানের মামুলি টার্গেটটা আরও সহজ হয়ে যায় যখন শিখর ধাওয়ান তার অসাধারণ ফর্মটা আমাদের বিপক্ষে অব্যাহত রাখেন। সুরেশ রায়নার সঙ্গে তার জুটিই খেলাটাকে একতরফার জায়গায় নিয়ে যায়।

আপাতদৃষ্টিতে পেস বোলার হিসেবে রুবেল সর্বাপেক্ষা কার্যকর মনে হয়েছে। তবে তারা যদি দিনের শুরুতে বল করতো, তাহলে তার একটা বড় পরীক্ষা হতো। আবার বাংলাদেশ যদি ১৭০ রান করতে পারতো, তবে ভারতের ব্যাটসম্যানদের আক্রমণাত্মক চাপ মোকাবিলায় বোলাররা কতটা কুশলতার পরিচয় দিতে পারলেন সেটা বিশ্লেষণ করার মতো একটা পরিস্থিতি তৈরি হতো।

রান তাড়ায় ভারতীয়দের কোনও ঝুঁকি নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় তারা আউট হওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলার প্রয়োজনই বোধ করেনি। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা ব্যাট করলে আমাদের বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলামকে আনা যাবে না, এই তত্ত্বটির প্রয়োগ আমার ভালো লাগেনি। আরও আগেই তাকে বোলিংয়ে পাঠানো উচিত ছিল।

বাংলাদেশের মূল একাদশে নবাগত আরিফুল হককে না দেখে অবাক হয়েছি। সাকিবের অনুপস্থিতিতে একজন বাড়তি স্পিনারের সংযোজন এক ব্যাটসম্যানের খেলার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য খুবই উপযোগী আরিফুল এত দ্রুত উপেক্ষিত হবে ভাবিনি।

পক্ষান্তরে ভারত এই টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলে ট্রফি জিততে চায়। এই প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সব খেলা হবে বলে প্রথম ম্যাচ হারার পরও তাদের সেরা কম্বিনেশন অটুট রেখেছিল নিজেদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। পিচের চরিত্রের পরিবর্তন প্রতিপক্ষ বা খেলোয়াড়দের ফর্মের কারণে দলে কিঞ্চিৎ পরিবর্তন আসতেও পারে পরের ম্যাচগুলোতে।

তবে একমাসেরও কম ব্যবধানে আমাদের টি-টোয়েন্টি দলে শেষ সিরিজের প্রথম একাদশের সঙ্গে এই ম্যাচের একাদশে এত পরিবর্তন আমাকেও বিচলিত করছে। কোনও সময় মনে হচ্ছে, আমরা ভবিষ্যতের জন্য একটা টি-টোয়েন্টি দল গড়তে চাচ্ছি। আর এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে ম্যাচ জেতাটাই মুখ্য পরিকল্পনা এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।

রনি, রাহী, আরিফুল- তোমরা সবাই সুযোগ পেতে এখন কর্তা ব্যক্তিদের পরবর্তী পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করো। 

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ