সামর্থ্যের সেরাটা চেনানোর এক জয়

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১০:৪৪, মার্চ ১১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৯, মার্চ ১২, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুআমাদের খেলোয়াড় বা দলনায়কদের টিভি সাক্ষাৎকারে প্রায়ই বলতে শুনি `যদি সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারি তবে ম্যাচ জেতা সম্ভব।’ ‘যদি’ শব্দটি তাদের সেরাটা দেওয়ার ব্যাপারটির মাঝে অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।

শ্রীলঙ্কার সাথে আগে ফিল্ডিং নেওয়ার সময় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের তার বোলারদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা ছিল আমি সুনিশ্চিত নই। তবে ব্যাটসম্যানদেরকে যে ২১৫ রানের বোঝা তাড়া করতে হবে এমনটি নিশ্চয়ই চিন্তা করেননি। বোলিং বিভাগের এমন হতাশাজনক বোলিংয়ের পর এই ছোট বিরতির মাঝে নিজেদের সুসংগঠিত করার ব্যাপারে দুটো মূল বিষয় প্রধানত কাজ করেছে বলে আমার বিশ্বাস। প্রথমত এমন অসাধারণ ব্যাটিং সহায়ক পিচে এই রান তাড়া করা সম্ভব। দ্বিতীয়টি ছিল ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যের সেরা খেলাটা খেলা দলের জন্যই প্রয়োজন ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জায়গায় ডানহাতি কোনও ব্যাটসম্যানের ওপর ভরসা করার ক্ষণটি দল এই ম্যাচেই বেছে নিয়েছেন-সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাই ধন্যবাদ। ইনিংসের শুরুটা লিটন ও তামিম জুটি এমন অসাধারণ না করলে কি মুশফিকের এমন ঝঁঝালো ইনিংস খেলার ক্ষেত্র তৈরি হতো! মুশফিকের অনেক ভালো ইনিংস দেখেছি কিন্তু এমন দারুণভাবে ম্যাচ শেষ করতে কখনো দেখিনি। ম্যাচের শেষ বলটি খেলেই এক ভিন্ন ভঙ্গিমায় জয়ের উৎসব পালন করলেন। সবাই অতীতের ভুল থেকেই কম বেশি শেখে। আজ মুশফিক ও রিয়াদ তার কিছুটা দায় মোচন করলেন। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হারের এক দুঃসহ স্মৃতির বোঝা অনেক দিন ধরেই বয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

আজকাল শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জয় এক ভিন্ন সুখের আমেজ ছড়ায়। এই টুর্নামেন্টে আমাদের লড়াই করার ও দল হিসাবে একটু ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ যে এই জয়টিই এনে দিয়েছে। তবে আমাদের প্রথম একাদশ নিয়ে ভাবার অনেক অবকাশ আছে এখনও। আমরা যেন উইনিং কম্বিনেশনে পুরানো তত্ত্বে বিশ্বাস করে বসে না থাকি।

এই ম্যাচের বোলিং বিভাগে তাসকিনের জায়গায় রনি অথবা রাহীর মাঝখান থেকে কাউকে বেছে নিলে খুশি হতাম এবং আজকে ভালো ফিল্ডিং করলেও যে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সাব্বির রহমান রান আউট হলেন সেই জায়গায় আরিফুল হকের অন্তর্ভুক্তি হওয়াটা অতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাকিবের বোলিংয়ের জায়গাটি নাজমুল অপু প্রয়োজনের দাবি এই পিচে মোটেই মেটাতে পারছেন না। যা দলের বোলিং আক্রমণের কৌশলে তেমন ভূমিকা রাখছে না। এই টুর্নামেন্টে স্পিন আক্রমণে আমাদের ঘাটতি চোখে পড়েছে। কারণ প্রতিদিন রিয়াদের এই ম্যাচের মতো কার্যকর হতে পারাটা অনেক কঠিন।

দলের সবার ব্যাটিং নৈপুণ্যের মাঝে কিছুটা চাপা পড়ে গেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিং। নইলে আমাদের ২৩০ থেকে ২৩৫ রান আজ তাড়া করতে হতো এবং এই জয়ের দেখা পাওয়াটা আরও কঠিন হয়ে যেত।

প্রতিটা বিজয়ের আনন্দ আছে তবে যে কোনও রেকর্ড সৃষ্টির মাঝে এমন অসাধারণ জয়ের আনন্দই আলাদা। অভিনন্দন রিয়াদসহ তার দল ও দলের সকল কর্মকর্তাদের। বিজয়ের মুহূর্তে আনন্দের মাঝেও মুশফিকের চোখ ও মুখের অভিব্যক্তিতে এক বা একাধিক ব্যক্তির ওপর তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তবে তাকে এবং দলের সবাইকে মনে রাখতে হবে আমরা মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছি। এই টুর্নামেন্টে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। প্রতিদিন বড় অংকের রান করা বা তাড়া করে জেতার কাজটা মোটেই সহজ নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে আবেগ বা নিকট অতীত সাফল্যের সুখস্মৃতিতে ভাসার কোনও সুযোগ নেই।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ