মেসি জাদুতে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:৩৭, মার্চ ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:২০, মার্চ ১৫, ২০১৮

প্রথম গোলের পর মেসির উদযাপনআঙুল দিয়ে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করলেন। হয়তো দিন কয়েক আগে পৃথিবীর আলো দেখা তৃতীয় সন্তানকে উদ্দেশ্য করেই অমন উদযাপন লিওনেল মেসির। সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া সিরো সেটা না বুঝলে কী, তার বাবা জাদুকরী পারফরম্যান্সে আরও একবার যেভাবে মোহিত করলেন, তার সুধা পান করলো গোটা ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জাদুতে সামান্যতম প্রতিরোধও গড়তে পারলো না চেলসি। মেসির জোড়া লক্ষ্যভেদে ৩-০ গোলের জয়ে  ৪-১ অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল বার্সেলোনা।

চেলসির বিপক্ষে দুই গোল করে আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপিয়ান এই প্রতিযোগিতায় গোলের ‘সেঞ্চুরি’ পূরণ করেছেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় লক্ষ্যভেদে চ্যাম্পিয়নস লিগের ১০০তম গোলের দেখা পান মেসি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে চেলসির মাঠ থেকে ১-১ গোলের ড্র করে এসেছিল বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষের মাঠে ১ গোল দিয়ে আসায় ঘরের মাঠের ফিরতি লেগে গোলশূন্য ড্র করলেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যেত কাতালানরা। বার্সেলোনার মতো দল কী আর ড্রয়ের অপেক্ষায় বসে থাকে! এরনেস্তো ভালভারদে তাই আক্রমণাত্মক দলই সাজিয়েছিলেন ফিরতি লেগে। উসমান দেম্বেলেকে একাদশে রেখে আক্রমণভাগ করেছিলেন আরও ধারালো। তবে মেসির দিনে ধার কতটা চকচক করে, সেটা ফুটবল বিশ্ব দেখলো আরেকবার। নিজে করলেন দুই গোল, সঙ্গে দেম্বেলেকে দিয়ে করিয়েছেন অন্যটি। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে বার্সার আর কী লাগে!

নিজের দ্বিতীয় গোলের পর মেসিতৃতীয় সন্তান পৃথিবীতে আসায় মালাগার বিপক্ষে লা লিগার আগের ম্যাচে ছিলেন না তিনি। চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ দিয়ে মাঠে নেমে গোলের জন্য যেন তর সইছিল না আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের। ন্যু ক্যাম্পের দর্শকরা নড়েচড়ে বসার আগেই লক্ষ্যভেদ তার। পেশাদারি ক্যারিয়ারে নিজের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে ২ মিনিট ৮ সেকেন্ডে লক্ষ্যভেদ করেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।

ডান প্রান্ত থেকে উসমান দেম্বেলে বল দিয়েছিলেন মেসি। ফরাসি ফরোয়ার্ড ফিরতি বল ঠিকমতো দিতে না পারলেও চেলসির এক খেলোয়াড়ের ভুলে চলে আসে তা লুই সুয়ারেসের কাছে। উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের চমৎকার পাস ধরে ডান পায়ের আড়াআড়ি শটে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে।

ম্যাচের শুরুতেই গোল করে ন্যু ক্যাম্পে উৎসব ছড়ানো মেসি ২০তম মিনিটে নাম লেখান অ্যাসিস্টের খাতায়। চমৎকার ফুটবল প্রদর্শনীতে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দেম্বেলেকে দিয়ে করালেন বার্সেলোনার জার্সিতে প্রথম গোল। সেস্ক ফাব্রেগাসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে সফরকারীদের দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে মেসি পাস দিলেন ডান প্রান্তে এগিয়ে আসা দেম্বেলেকে।  ফরাসি উইঙ্গার একটু সময় নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জড়িয়ে দিলেন জালে। কোর্তোয়া চেষ্টা করলেও বুলেট গতির শট ঠেকানোর সম্ভব হয়নি। ১০৫ মিলিয়ন ইউরোতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বার্সেলোনায় এসে আসল মঞ্চেই নিজেকে মেলে ধরলেন এই ফরোয়ার্ড।

তবে ন্যু ক্যাম্পে রাতটা ছিল আসলে মেসির। তাই ৬৩ মিনিটে আবার স্কোরশিটে নাম তোলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এবারের গোলটি ছিল আরও দেখার মতো। সুয়ারেসের পাস ধরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ঢুকে পড়েন চেলসির বক্সে। এরপর বাঁ পায়ের শটে আবারও কোর্তোয়ার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। মেসির এই গোলে বার্সেলোনা ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ায় চেলসির শেষ আশাটাও শেষ হয়ে যায়। বিপরীতে বার্সেলোনার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। রেফারির শেষ বাঁশিতে যা পূর্ণতা পায়।

কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের পর বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়রাসহজ জয়ে শেষ আটে বায়ার্ন:

প্রথম লেগের পরই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখের। বেসিকতাসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেষ ষোলোর প্রথম লেগ যে শেষ করেছিল তারা ৫-০ গোলের জয়ে। টারকিশ ক্লাবটির ঘরের মাঠে গিয়েও জয়ের ধারা সচল রেখেছে জার্মান জায়ান্টরা। ফিরতি লেগে ৩-১ গোলের জয়ে ৮-১ অগ্রগামিতায় শেষ আট নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন।

এগিয়ে থাকার আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে ১৮তম মিনিটে সফরকারীদের লিড এনে দেন থিয়াগো আলকান্তারা। ওই গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বায়ার্ন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ে তাদের গোখান গোনুল নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দিলে। ৫৯ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান কমিয়েছিলেন বেসিকতাসের ভাগনার লাভ। তবে ৮৪ মিনিটে সান্ড্রো ওয়াগনার জাল খুঁজে পেলে সহজ জয়ের সঙ্গে শেষ আট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্যাভারিয়ানরা। গোল ডটকম

/কেআর/

লাইভ

টপ