ফিনিশিংয়ের গভীরতা বাড়ানো ছাড়া বড় দলকে হারানো কঠিন

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:০০, মার্চ ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০, মার্চ ১৫, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুচকচকে নতুন বল ও ফিল্ডিংয়ের সীমিতকরণের কারণে আনুপাতিক হারে দলকে একটা ভালো গতি এনে দিতে ব্যাটসম্যানরা বোলারদের চেয়ে বাড়তি সুবিধা পায় বলে বরাবরই মনে হয় আমার। তবে টি-টোয়েন্টির শেষ ৫ বা ৬ ওভারে বল ও ব্যাট হাতে সমানে সমান লড়াই করার সুযোগ অনেক ম্যাচেই বিদ্যমান থাকে। যেমনটি ছিল ভারতের বিপক্ষে আমাদের দলের। সুস্পষ্টভাবে বলা যায়, ব্যাট ও বল হাতে খেলার শেষ দিকে ভারতের চমৎবার ফিনিশিংয়ে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি।

ভারতের দলগত শক্তি, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও প্রত্যেক খেলোয়াড়ের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা আমাদের দলের সঙ্গে ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টিায়েন্টি ম্যাচের পাশাপাশি আইপিএলের জন্য অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা ডেথ ওভারেও বিচলিত না হয়ে নিজেদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাদের পারফর্ম করা শিখিয়েছে।

রোহিত শর্মা ও সুরেশ রায়নার ব্যাটিংয়ের চেয়ে তাদের নবাগত বোলিং বিভাগ শেষ ৬ ওভারে ভালো বল করেছে মনে হয়েছে আমার। ভারতের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের মধ্যে প্রতিনিয়ত দুই জন রান করে দেয় এবং একজন অনেক বড় রান করে দেয় বলে ডেথ ওভারে প্রতিপক্ষ দল ঝামেলায় পড়ে। এদিন রুবেল হোসেন বাদে প্রত্যেক বোলারই শেষ অংশে খরুচে ছিলেন এবং নতুন কোনও ব্যাটসম্যানকে উইকেটে দুই প্রান্ত থেকে আনতে পারেনি। তবে একথা ঠিক যে, পিচ মন্থর হওয়ার কারণে এখান থেকে ২০০ রান স্কোরবোর্ডে জমা করাটাও কঠিন ছিল যে কোনও দলের জন্যই।

এই ম্যাচে বড় রান পেলেও রোহিত মোটেই তার নিজস্ব ছন্দে ব্যাট করতে পারেননি। রায়নার ক্যাচ লিটন দাস বা মোস্তাফিজুর রহমান যদি নিতে পারতেন, তবে তাদের ওপর একটা চাপ তৈরির সুযোগ আমাদের বোলাররা পেত। রুবেল বল হাতে ছিলেন অসাধারণ। আবু হায়দারকে আমার একদমই নার্ভাস মনে হয়নি, এত নামী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বল করতে অধিনায়কের কাছ থেকে নতুন বল হাতে পাওয়াটা ছিল আরেকটা বড় তৃপ্তির জায়গা।

কিন্তু ডেথ ওভারে আরও উন্নতি ঘটাতে হবে। মোস্তাফিজ দলের প্রত্যাশা মেটাতে পারলেন না, তার জায়গায় নাজমুল ইসলাম গত ম্যাচের চেয়ে অনেক ভালোভাবে এই ম্যাচে ফেরত এসেছেন। কিন্তু আমাদের বোলিং ইউনিটের উইকেট বের করার সক্ষমতার অভাবের কারণে ডেথ ওভারে নিজেরা বেসামাল হয়ে পড়ে।

ভারত তার সংগৃহীত ১৭৬ রান নিয়ে মোটেও স্বস্তিতে ছিল বলে আমার মনে হয়নি। লিটন দাসের তাড়াহুড়োয় তারা শুরুতেই একটা ভালো সূচনা পেয়ে যায়। বলটি তার স্বাভাবিক অবস্থান থেকে ক্রিজ ব্যবহার করে খেললে কভার পয়েন্ট দিয়েই ৪টি রান পাওয়া যেত। অতিরিক্ত উত্তেজনা তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশলে আরও মনোযোগী হতে হবে।

তামিম লড়াইয়ের একটা পরিবেশ তৈরি করলেও নিয়মিতভাবেই ডানহাতি বোলারদের রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে নিক্ষিপ্ত আড়াআড়ি বলে আউট হয়ে যাচ্ছেন এবং সেই মিছিলে সৌম্যও যোগ দিয়েছেন একই ভঙ্গিমায় আউট হয়ে।

দলের বিপর্যয়ের দিনে মাহমুদউল্লাহর চিত্তাকর্ষক ইনিংসটি লম্বা হলে মুশফিকের ৭২ রান হয়তো বৃথা যেত না। সাব্বিরের খেলা বলগুলো মাহমুদউল্লাহ খেলার সুযোগ পেলে আমি নিশ্চিত খেলাটি অসম্ভব আকর্ষণীয় হতো।

নেকনজরে থাকা সাব্বিরের জন্য অসাধারণ সুযোগ ছিল কুশল পেরেরা বা কুশল মেন্ডিসের মতো একটা ঝড়ো ইনিংষ খেলার। কিন্তু তার করা ২৮ রান আসলে কোনও কাজেই এলো না।

তবে এই ম্যাচে আমাদের দলের লড়াই করার মানসিকতা আমার ভালো লেগেছে। এই মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস পরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যথেষ্ট কাজে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ