অধিনায়ক থেকে মহানায়ক

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:০৯, মার্চ ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৬, মার্চ ১৭, ২০১৮

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট তার ওপর এঁটে বসা শুধুমাত্র বিনোদনের লেবেল থেকে বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে। ১২০ বলের এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে দেখলাম এবং পরবর্তীতে দারুণ জুটির মাধ্যমে ম্যাচে ফেরত আসতেও দেখলাম। রানিং বিটুইন দ্য উইকেটের পাশাপাশি ক্রিকেট শৈল্পিক শটসও খেলতে দেখলাম। পাশাপাশি মুশফিক ও তামিমই যখন ম্যাচ শেষ করে আসবে ভাবছিলাম, তখন দারুণভাবে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফেরত আসে। টুর্নামেন্টে আমাদের বিদায়ের মতো পরিস্থিতি থেকে অসাধারণ দক্ষতায় মাহমুদউল্লাহ সব ধরনের উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দারুণ ক্রিকেটীয় শট খেলে শেষ ওভারটি ও এই জয়কে স্মরণীয় করে রাখলেন। এই টুর্নামেন্টের অধিনায়ক দলনায়কের ভূমিকায় না থাকলেও দিন শেষে সবার কাছে মহানায়ক।

যে কোনও টুর্নামেন্টেই ফাইনালে খেলাটা গর্বের বিষয় এবং সেটি যখন শ্রীলঙ্কার মাটিতে হোম টিমকে হারিয়ে, তখন সেটি হয় আরও রোমাঞ্চকর। ক্রমান্বয়ে উন্নতি করতে থাকা একটি দলের জন্য এই ফরম্যাটে ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা বা তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া, ম্যাচের কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করার মাঝেই খেলোয়াড়রা নিজেদের পরিপক্ক করে তোলার সুযোগ পায়।

ইতিপূর্বে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ শেষ করার আগেই চোখে জয় দেখতে পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তাই অতি উত্তেজনায় ভুল শট খেলে ফেলেন; কিন্তু এই কয়েক বছরে অভিজ্ঞতা তাকে অনেক পরিপক্ক করেছে। তাই তো শেষ ৪ বলে ১২ রানের লক্ষ্যের এমন নাটকীয় পরিস্থিতির মাঝেও মাথা ঠাণ্ডা রেখে তার শারীরিক গঠন, শক্তি ও ক্রিকেটীয় মেধার চমৎকার সংমিশ্রণে ১ বল হাতে রেখে শেষ করেই মাঠে জয় উদযাপন করলেন। যা সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে দেখলো এবং আনন্দে ভাসলো।

সাকিবের মতো খেলোয়াড়ের সংযোজন দলের জন্য আনন্দের। একই সঙ্গে তা যে অনেক বেশি মানসিক চাপে রেখেছিল শ্রীলঙ্কাকে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

তবে বাংলাদেশের প্রথম একাদশ ও ব্যাটিং অর্ডার পছন্দ হয়নি। নির্বাচকরা এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারবেন বলে আমার অন্তত মনে হয় না। মাহমুদউল্লাহ তাদের এ যাত্রা বাঁচিয়ে দিয়েছেন কঠিন সমালোচনার হাত থেকে। ১০-১১ ওভারের মাথায় আবার সাকিবকে বল হাতে দেখতে পাবো বলে আশা করেছিলাম, যখন ৫০ রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট চলে গেছে। দুই প্রান্তে দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকলে কোনও বাঁহাতি স্পিনার বল করবেন না, এই যুক্তি মানা যায় না। মাহমুদউল্লাহর বোলিংয়ের ওপর এতটা আস্থা থাকলে নাজমুল ইসলামের বদলে আবু হায়দার রনিকেই দলে রাখা যেত। প্রথম ৩০-৪০ মিনিট যখন পিচ বাড়তি সহায়তা করেছে বোলারদের, সেখানে রুবেল হোসেন সঠিক লেন্থ বেছে নিতে পারেননি। সেট ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে মোস্তাফিজুর রহমানকে বড় অসহায় লেগেছে। ডেথ ওভারে ভালো বল করার নেতৃত্ব তার কাছ থেকে দল সবচেয়ে বেশি আশা করে।

খেলার মাঝে আম্পায়ারদের কোনও বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বা কোনও ক্রাইসিস মোমেন্টে কে আমাদের দলের পক্ষ থেকে কথা বলবেন ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে এবং কোনও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োগে কোন পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারবেন, তা অবশ্যই বিসিবির আগে থেকে ঠিক করে দেওয়াটা উচিত। সাকিবের এমন আচরণ আমাকে অবাক করেছে। এটি একটি ভিন্ন বার্তা দেয়, যা অনেকেই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফলো করতে আগ্রহী হবে। তার এমন আচরণ মাঠে উপস্থিত বিসিবি কর্তাদের নিশ্চয় বিব্রত করেছে। তবে মাহমুদউল্লাহ মাঠ না ছেড়ে ক্রিকেট খেলাটিকে ও দলের মান বাঁচিয়েছেন।

সর্বোপরি দিনের শেষে ম্যাচ জিতিয়ে মাহমুদউল্লাহ হয়েছেন প্রকৃত মহানায়ক।

/কেআর/

লাইভ

টপ