কাপ জেতেনি, তবে সবার হৃদয় জিতেছে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৪:৫০, মার্চ ১৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৬, মার্চ ১৯, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুনিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ কতটুকু ভালো ক্রিকেট খেলবে তা নিয়ে অনেকের মতো আমারও একটা সংশয় ছিল। শুরুতে সাকিবকে ছাড়া ও শেষ পর্যায়ে সাকিবসহ বাংলাদেশ দল হিসাবে দারুণ পারফর্ম করলো। এই টুর্নামেন্টে ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন ছিল একটা ভালো পাওয়া। অধিকাংশ টুর্নামেন্টের ফাইনালে যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাটুকুও পরিলক্ষিত হয় না। তবে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে যারা খেলেছে, খেলা দেখেছে বা ধারাভাষ্য দিয়েছে তাদের কেউই এই ম্যাচের স্মৃতি ভুলতে পারবে না। ভারতের মান বেঁচেছে এবং আমাদের আশাভঙ্গ হয়েছে। আমাদের দল কাপ জিতেনি তবে সবার হৃদয় জিতেছে।

ফাইনাল ম্যাচের চাপ টুর্নামেন্টের প্রাথমিক রাউন্ডের ম্যাচের চেয়ে বহুগুন বেশি থাকে। বিশেষ করে আমাদের মতো দল যাদের ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা মোটেই নেই। খেলার আগে সবাই যতই বলুক চাপে থাকবে ভারত কিন্তু ১৬৬ রানের পুঁজি নিয়ে ভারতকে শেষ পর্যায়ে এমন চাপে বাংলাদেশ ফেলবে এটা কেউ কি ভাবতে পেরেছিল? প্রথম তিন ওভারে ১৩ রান দেওয়া রুবেল এমন অনুকূল পরিস্থিতিতে ২২ রান দেবেন শেষ ওভারে কেউ কী ভেবেছিল? আর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে পিচে এসে দিনেশ কার্তিক এত কার্যকর শর্টস খেলবেন এত সাবলীলভাবে তার দর্শন কল্পনায় সাজানো সহজ কিন্তু বাস্তবে কমই ঘটে। দিনেশ কার্তিক ওই চাপের মুখে যে অসাধারণ ঝড়ো ইনিংস খেললেন তার বিশ্বাসের ভিত নিঃসন্দেহে আইপিএল টি-টোয়েন্টি খেলার মাঝেই নিহিত। কেউ বল বা ব্যাট হাতে অসাধারণ কিছু করে দেখায় এবং সেটা দেখে কেউ শিখতে পারে আবার কেউ পারে না। তবে তা দেখে যে বিশ্বাসের ভিত জন্মায় তারই সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন দেখলাম কার্তিকের ব্যাটে।

বল হাতে লাসিথ মালিঙ্গা ডেথ ওভারে যে লেন্থে বল করে ডেথ ওভারের বিশেষজ্ঞ হয়েছেন তার কোনও ঝলক রুবেল দুর্ভাগ্যবশত দেখাতে পারেনি। তবে তিনি এত খারাপ লাইন বা লেন্থে বল করেননি যা বাস্তবে ২২ রানের মাধ্যমে প্রতিফলিত হলো।

আমাদের মনে হয়েছে টস হেরে বাংলাদেশ কিঞ্চিত বেটার পিচে ব্যাট করেছে এবং এই পিচে ১৯০ থেকে ২০০ রান না করলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যাবে না বলে একটা ধারনা তামিমদের মনে ছিল। তবে গেম প্ল্যানিংয়ে চাহালের ওপর এভাবে চড়াও হওয়ার কোন পরিকল্পনা ছিল বলে আমার মনে হয় না এবং এখানেই মুশফিক ও তামিম একটা বড় ভুল করেছেন। এই ম্যাচে রিয়াদ দুঃখজনক রান আউট না হলে আমরা হয়ত ১৮০ রানের দেখা পেতাম।

সাব্বির এই ম্যাচে দারুণ ব্যাট করেছেন। তার ইনিংসটি ঠাণ্ডা মাথায় দেখলে অনুধাবন করবেন তার মেধার অপপ্রয়োগ অন্যান্য ম্যাচে কীভাবে করেছেন। নিয়মিতভাবে রানে ফেরার জন্য তাকে আরও মনোযোগী হতে হবে।

বাংলাদেশ ফাইনালেও গত ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন রেখেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সর্বদা এই থিওরির পক্ষে নই, বিশেষ করে ম্যাচের প্রতিপক্ষ যখন ভিন্ন কোনও দল হয়। ফাইনালে ভারত আমাদের চেয়ে ফেভারিট ছিল এবং বাড়তি কিছু করার প্রেরণা আমাদেরই বেশি থাকার কথা। এই ম্যাচে সাকিব তিন নম্বরে ব্যাট করতে পারতেন এবং সৌম্যর জায়গায় একটা সিমার খেলাতে পারতেন। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচে যে কোনও বোলার দারুণভাবে ব্যর্থ হতে পারে তখন খণ্ডকালীন বোলাদের দিয়ে ফাইনালে বল করানোটা বড়ই বেমানান। খেলার শেষ ওভারে যখন বল করার দায়িত্ব খণ্ডকালীন বোলারের হাতে ন্যাস্ত করা হয় তখন বুঝতে হবে বোলিংয়ের পরিকল্পনায় বড় গলদ হয়ে গিয়েছিল। সাকিবের এত দ্রুত ৪টি ওভার শেষ করাটা সমীচিন হয়নি বা ১০ থেকে ১৪ ওভারের মাঝে মিরাজ বা রিয়াদকে দিয়ে চেষ্টা করা যেতে পারতো। সর্বোচ্চ ১৭ ওভারের পর সৌম্য সরকারকে দিয়ে বল করানোর মানেই হচ্ছে দলের বিপদ ডেকে আনা। সৌম্য চেষ্টা করেছেন কিন্তু তার শেষ বলে টপ হ্যান্ডের পর নিয়ন্ত্রণ রেখে এমন নিখুঁতভাবে কার্তিক একস্ট্রা কাভারের ওপর দিয়ে যে ছক্কাটি মারলেন তা পরিস্থিতির আলোকে রিয়াদের মারা ছক্কাকে হার মানিয়ে আমার চোখে এই টুর্নামেন্টের সেরা শট। এই সেরা শটই ভারতকে টুর্নামেন্টের সেরা দলের সম্মান এনে দিল।

এই টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশ তাদের হারানো আস্থা যথেষ্ট ভালোভাবেই পুনরূদ্ধার করেছে। সিনিয়র খেলোয়াড়দের ওপর নির্বাচকদের আস্থা নিশ্চয়ই বেড়েছে এই টুর্নামেন্টে। তবে উপরের দিকের ব্যাটসম্যানদের একজনকে ৮০-৯০ রানের ইনিংস খেলার সক্ষমতায় নজর বাড়াতে হবে। সুযোগ থাকার পরও আরিফুল বা রনিদের প্রথম একাদশে সুযোগ না দেওয়াটা নতুনদের প্রতি বড়ই অনাস্থা দেখালো টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ভারপ্রাপ্ত হেড কোচ হিসাবে ভালোই সূচনা করলেন কোর্টনি ওয়ালশ।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ