আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা নড়বড়ে করে দিলো আফগানরা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:৫৭, জুন ০৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৪, জুন ০৪, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুআফগানিস্তানের সঙ্গে এই টি-টোয়েন্টি সিরিজকে ঘিরে বাংলাদেশ দল একটা চাপা অস্থিরতায় ভুগছিল বলে আমার বিশ্বাস। এই ফরম্যাটে যেকোনও দল সহজেই যেকোনও দিন জয় পেয়ে যেতে পারে। তবে কিছু দ্বিপাক্ষিক সিরিজ থাকে, যেখানে দলীয় শক্তি প্রদর্শনের একটা বড় সুযোগ থাকে; সারা ক্রিকেট বিশ্বকে দেখানোর। আর সেই আকাঙ্ক্ষিত কাজটি অর্জনে এত সাবলীলভাবে আফগানরা সফল হবে তা অনেকেই ভাবেননি।

১৯ ওভারে অলআউট, ১৬৮ রান তাড়া করতে গিয়ে ৪৫ রানের ব্যবধানে হার দিয়ে সিরিজ শুরু করতে হবে- এমন ফলাফলের জন্যে আমাদের খেলোয়াড়রা নিঃসন্দেহে প্রস্তুত ছিল না। প্রতিটি বিভাগেই যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আফগানরা শুধু এগিয়েই গেলো না, বাংলাদেশের সামর্থ্যের প্রয়োগ ক্ষমতার জায়গাটাকেও নড়বড়ে করে দিয়েছে।

মাশরাফির জায়গায় স্থলাভিষিক হওয়ায় সাকিবের ক্যাপ্টেন্সির দিকে সবার নজর ছিল। নতুন বলের বোলার হিসেবে মাশরাফির জায়গাটা ট্যালেন্টেড রাহী পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। শুরুতে একটু টেনে বল করার পরিবর্তে এই মন্থর উইকেটে উপরে বল করে ফেলেছেন বেশি। মোস্তাফিজের জায়গায় দলে সংযোজিত আবুল হাসান রাজুর এনালগ যুগের স্লোয়ার ডেলিভারিগুলো ছিল সাংঘাতিক লুজ ডেলিভারি এবং এই দুই বোলারের ওপরই দলনায়ক আস্থা রাখলেন ডেথ ওভারের বড় অংশজুড়ে।

রিয়াদ গেম প্ল্যানে হয়তো ব্যাকআপ বোলারই ছিলেন, কিন্তু এমন একটি অসাধারণ ওভারের পর এই স্পিন সহায়ক পিচে তার ওপর আস্থা না রাখাটা এবং তাকে কন্টিনিউ না কারাটা সেই সময়ের ম্যাচ পরিস্থিতির আলোকে উদ্ভূত সবচেয়ে চমৎকার সুযোগের অপব্যবহার করেছেন দলনায়ক।

নবিকে বোল্ড করা রিয়াদের ডেলিভারিটি আমার কাছে ম্যাচের অন্যতম সেরা বল মনে হয়েছে। আবুল হাসান রাজু বা রাহীর জায়গায় বাঁহাতি আবু হায়দার রনি আমার বিবেচনায় দলে আসা উচিত ছিল। বাঁহাতি হওয়ার কারণে তিনি প্রয়োজনে বোলিং ক্রিজের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ভিন্ন একটি লাইনে বল করতে পারতেন এবং টি-টোয়েন্টির স্পেশালিস্ট খেলোয়াড় হিসেবে সাব্বিরের জায়গায় আরিফুল হকের স্থান পাওয়াও উচিত ছিল। দলের বাইরে তাকে বসিয়ে রাখার কোনও যুক্তি আমি পাই না।

মন্থর উইকেটে আফগানদের সূচনা ভালো হয়েছে একটা সময়ে তারা বাউন্ডারির দেখা না পেলেও সিঙ্গেলস ও বিশেষ করে সফট হ্যান্ডে খেলে দুই রান নিয়ে রানের টাকা সচল রেখেছে। ম্যাচের শেষ ৪ ওভারের অসাধারণ ফায়দা তুলে নিয়েছে এবং এই সফলতার পেছনে দলনায়ক সাকিবের দুর্বল বোলিং ব্যবস্থাপনা আফগানদের সফল হতে সাহায্য করেছে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং গভীরতা ছিল দলীয় অন্যতম শক্তি এবং ১৬৮ রান তোলা চ্যালেঞ্জিং হলেও মোটেও অসম্ভব ছিল না। তার জন্য একটা ভালো সূচনার প্রয়োজন ছিল কিন্তু সেই জায়গায় প্রথম বলে তামিমকে হারানো এবং পরবর্তীতে সাকিবকে হারানোর ফলে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা ওই পিচে আসলেই কঠিন ছিল। মুজিবুর, নবি ও রশিদ খানকে নিয়ে গড়া স্পিন অ্যাটাক আমাদের ব্যাটসম্যানদের ওপর এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছিল যে তা মুশফিকের শট নির্বাচনের মেধাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে।

দেরাদুনের এই পিচ শ্রীলঙ্কার নিদাহাস ট্রফির পিচের মতো স্ট্রোক খেলার মতো উপযোগী ছিল না যে রিয়াদ আবারো মিরাকেল কিছু করে দেখাবেন এবং বিশ্বমানের রশিদ খান তো বিশ্বের যেকোনও প্রান্তের যেকোনও পিচেই ভালো করার সামর্থ্য রাখেন এবং এই পিচের বাড়তি সাহায্যে তিনি বোলিংয়ে আসার আগে থেকেই ব্যাটসম্যানদের মনে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন।

পরবর্তীতে ম্যাচের পিচগুলোও যে মন্থরই হবে তা আগাম বলে দেয়া যায়। তবে আমি বিশ্বাস করি আমাদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করার অনেক সুযোগ আছে। পিচের চরিত্র বিবেচনা করে প্রথম একাদশে অন্তত তিনটি পরিবর্তন আনার সুযোগ আছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে মাথা ঠান্ডা রেখে সাকিবকে বোলিং ব্যবস্থাপনা করতে হবে এবং মুশফিক, রিয়াদ ও তামিমের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে তাকে সহায়তা করতে হবে। সর্বোপরি খেলোয়াড়দের মনে যে অনাস্থার মেঘ জমা হয়েছে তা দূর করার জন্য এখন চমৎকার মোটিভেটেড বক্তব্য ও প্রথম ম্যাচের ত্রুটিগুলো বিশ্লেষণ করাই হবে কোর্টনি ওয়ালশের প্রধান কাজ।

/এফআইআর/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ