পাওয়া এবং না পাওয়ার ব্যবধানটা অনেক বড় হয়ে গেল

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৪:৩১, জুন ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩১, জুন ০৮, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুএই টি-টোয়েন্টি সিরিজ দুটি দলই জিততে চেয়েছিল এবং অনেকেরই ধারণা ছিল, শেষ ম্যাচেই তা নির্ধারিত হবে। কিন্তু প্রথম দুটি ম্যাচেই সেই সাফল্য পেয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগেনি আফগানিস্তান। বাংলাদেশও চেষ্টা করেছে তাদের সেরাটা দেওয়ার ও সেরা একাদশ খুঁজে বের করার। তবে আফগানদের অবিচলিত নৈপুণ্যের কাছে শেষ পর্যন্ত ৩-০ তে সিরিজটি হারতে হলো।

এই সিরিজে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার পেছনে যে কয়েকটি কারণ আমার চোখে ধরা পড়েছে তার অন্যতম হচ্ছে- প্রথম ম্যাচের পিচটি কেমন আচরণ করবে তা বুঝতে না পারায় তিন জন পেস বোলার নিয়ে খেলেছি এবং সেখানে আবু হায়দার রনির আগে আবুল হাসানকে খেলানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।

ব্যাটসম্যানদের মন্থর পিচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করার ব্যর্থতা এবং উদ্ভুত পরিস্থিতির আলোকে প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দিয়ে বল না করানোও হারের কারণ।

দলের ব্যাটিংয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ৩ নম্বর পজিশন এবং প্রত্যেক ম্যাচে সেখানে একজন নতুন ব্যাটসম্যানকে পাঠানো ছিল অপরিকল্পনা ও আতঙ্কগ্রস্থ মন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

সাব্বির রহমান বা সৌম্য সরকারের বদলে নিয়মিতভাবে শুরু থেকেই আরিফুল হককে খেলানো উচিত ছিল। তাছাড়া সর্বোপরি দল পরিচালনায় প্রাণবন্ত ও সুচিন্তিত সাকিবকে মাঠে প্রয়োজন ছিল বেশি। দল পরিচালনায় সাকিবের চেয়ে অনেক পরিপক্বতার প্রমাণ রেখেছেন আসগর স্তানিকজাই এবং আফগান বোলার ও ব্যাটসম্যানরা প্রয়োজনের সময় যথার্থভাবে তাকে সমর্থন করেছেন। তবে আফগানদের ফিল্ডিংয়ের অভূতপূর্ব উন্নতি আমাকে সবচেয়ে বিস্মিত করেছে এবং বাংলাদেশের শেষ সাফল্য প্রাপ্তির মাঝে দেয়াল হয়ে কাল ফিল্ডিংই ম্যাচ জেতাল আফগানদের। আফগানদের এই সফলতার পেছনে যে অনেক পরিশ্রম এবং সফল হওয়ার দারুণ আকাঙ্ক্ষা কাজ করেছে সেটা টিভির পর্দায় সবাই দেখতে পেয়েছে।

তৃতীয় ম্যাচে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের সংযোজন সঠিকই ছিল। তবে দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে দলে থাকা স্পিনারদের মাঝ থেকে বোলিং সূচনার দায়িত্বটা মিরাজকে দিয়ে করানোটা যথেষ্ট সুচিন্তিত মোটেই মনে হয়নি। আমরা আফগানদের গেম প্ল্যান থেকে সরানোর চেষ্টা করিনি। যেখানে মুজিব উর রহমান ও মোহাম্মদ নবী প্রথম ৬ ওভারের মাঝে প্রতি ম্যাচেই ৪ ওভার বল করেছে, সেখানে শেষ ম্যাচে তিন নম্বরে সৌম্যর চেয়ে মাহমুদউল্লাহকে চেষ্টা করানো যেত। তাকে আরও বেশি বল খেলার সুযোগ দেওয়া যেতে পারতো।

আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট ও দলনায়কের ভাবনায় যে একটা অস্থিরতা কাজ করেছে সেটা দলের একাদশ নির্বাচন ও ব্যাটিং অর্ডারের দিকে তাকালেই স্পষ্ট এবং গতকাল সৌম্য ও আরিফুলের আগে মাহমুদউল্লাহকে একবার বোলিংয়ে আনতে পারতেন অধিনায়ক।

শেষ ম্যাচের ব্যাটিং দলের আস্থার ভিত কিছুটা মেরামত করতে পেরেছে। নাজমুল ইসলাম অপু তার জায়গাটি সুসংহত করেছেন। আরিফুল সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলার জন্য তিনি অনেক ভালো সম্ভাবনা হতে পারেন। এপর্যন্ত রিজার্ভ বেঞ্চে তাকে বসিয়ে রেখে কাজটি ভালো করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট।

পেস বোলিংয়ে আবু হায়দার রনি ও আবু জায়েদ রাহীর প্রতি দলের আস্থা আরও বাড়াতে হবে এবং তাদের আরও ভালোভাবে গড়ে তোলায় কোচকে আরও মনোযোগী হতে হবে। মন্থর পিচে অনুশীলন করে ব্যাটসম্যানদের নিজের কৌশলের ধার আরও বাড়াতে হবে এবং রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে একে অপরের আস্থা অর্জন বাড়াতে হবে।

৩-০ তে সিরিজ হারটা নিঃসন্দেহে একটি খারাপ ফলাফল। তবে নৈপুণ্যের এই ধারাকে পরিবর্তনের জন্য আরও পরিশ্রমী ও মনোযোগী হতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পরের সিরিজ। দলের প্রধান কোচ পেয়েছে খেলোয়াড়রা। আমার বিশ্বাস খুব দ্রুতই আমরা দলকে একটা ভালো ছন্দে দেখতে পাব। 

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ