ইসাবল জয়েস বোল্ড হতেই আনন্দে আত্মহারা জাহানারা আলম। ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট প্রাপ্তির আনন্দে উড়তে থাকেন এই পেসার। বৃহস্পতিবার ডাবলিনে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ৫ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। ক্যারিয়ারের স্মরণীয় একটি দিন কাটানোর পর আয়ারল্যান্ড থেকে নিজের অনুভূতি ভাগাভাগি করেছেন তিনি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে।
বাংলা ট্রিবিউন: ইনিংসের প্রথম বলে বাউন্ডারি হজম করতে হয়েছে। এরপর ৫ উইকেট। বোলিংয়ে ভাবনা কী ছিল?
জাহানারা: প্রথম বলে চার হজমের পর কিছুটা ভড়কে যাই। পরের বলে নিজেকে সামলে নিয়ে জোরের ওপর ভেরিয়েশন মেইনটেইন করে বোলিং করেছি। ওরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। ডান পা ভাঁজ করে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়েই এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েছে ক্লেয়ার শিলিংটন। কারণ, বলটাতে গতির পাশাপাশি আউট-সুইং ছিল। এভাবেই ওদের ফাঁদে ফেলেছি আমি।
বাংলা ট্রিবিউন: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫ উইকেট, এমন একটি রেকর্ড, নিজের ভাবতে কেমন লাগছে?
জাহানারা: ৫ উইকেট পাওয়ার পর আমি আনন্দ ধরে রাখতে পারিনি। মাঠে অবশ্য বুঝিনি কী করেছি। ম্যাচ শেষে বুঝেছি এটা বাংলাদেশের মেয়েদের হয়ে একটা রেকর্ড। বেশি ভালো লাগার কারণ হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই উইকেটের খরায় ছিলাম। ভাগ্য সহায় হচ্ছিল না। আজকে ভাগ্যটা আমার পক্ষে ছিল। ম্যাচের আগের দিন ভেবেছি হয়তো প্রথম ম্যাচটা খেলতেই পারব না।
বাংলা ট্রিবিউন: এমনটা ভাবার কারণ?
জাহানারা: বুধবার অনুশীলনে বোলিং করতে গিয়ে হুট করে ডান হাতে বল লাগে। ব্যথা পেলেও অনুশীলন চালিয়ে গেছি। নেটে ৪ ওভার বোলিংও করেছি। হোটেলে ফিরে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যথার জায়গায় বরফ দিতে হয়েছে। ব্যথা নিয়ে ম্যাচ খেলে ৫ উইকেট পাওয়া তাই আমার কাছে অন্যরকম এক অর্জন।
বাংলা ট্রিবিউন: এই অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেটে অক্ষুণ্ন থাকবে সবসময়, এমনটা ভেবে কেমন লাগছে?
জাহানারা: আমার জন্য এটা বিশাল ব্যাপার। বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটারদের মধ্যে আমিই সবার আগে ৫ উইকেট নিয়েছি, এটা আমার জন্য অন্য রকম প্রাপ্তি। সারা জীবন আমার এই রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকবে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে—এতটুকু ভাবতেই খুব ভালো লাগছে।
বাংলা ট্রিবিউন: কখন বুঝলেন ৫ উইকেট নেওয়া সম্ভব?
জাহানারা: চার নম্বর উইকেট পাওয়ার পর ভেবেছি আমার জন্য সেরা সুযোগ। দলের সবাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। আমি চেয়েছি সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি। গত কয়েক বছর ধরে আমি ৩ উইকেট টপকাতেই পারছিলাম না। দুটি কিংবা তিনটি করে নিয়মিত উইকেট পাচ্ছিলাম। প্রথম ওভারে ২ উইকেট পাওয়ার পর মাথায় এসেছে আমাকে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করতে হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশেষ কোনও পরিকল্পনা ছিল বোলিংয়ে?
জাহানারা: আমি সবসময় ডটের জন্য বোলিং করেছি। অবশ্য দল শুরুতে আমার কাছে ভালো কিছু চায়। আমিও চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে সফল হই। আজকে (বৃহস্পতিবার) যেমন সফল হয়েছি। অন্য সব ম্যাচের মতো চিন্তা করেছি ভালো একটা শুরু এনে দিতে হবে। লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: এই সাফল্য নিশ্চয় সামনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে...।জাহানারা: মানুষ কোনও ক্ষেত্রে সাফল্য পেলে এমনিতেই তার ক্ষুধা আরও বেড়ে যায়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমার এখন লক্ষ্য হবে আগের চেয়ে ভালো করা। চেষ্টা করব নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙতে। সেই সঙ্গে দলের চাহিদাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। ওটা পূরণ করতে পারলেই আমি খুশি।







