সফরটা খুব বাজেভাবে শুরু হলো

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৮:০৪, জুলাই ০৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৭, জুলাই ০৭, ২০১৮

সাকিব আল হাসানের টেস্ট অধিনায়কত্ব ফেরত পাওয়াটা উদযাপনে পরিণত করার জন্য সতীর্থদের কাছ থেকে যে নৈপুণ্য প্রদর্শন আশা করেছিলেন, তা ঘটলো শতভাগ প্রতিপক্ষের শিবিরে। এত বিশাল ব্যবধানে জয় পাবেন, আমার ধারণা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার নিজেও কল্পনা করেননি। এই জয়ের মাঝে ‘উপহার’ হিসেবে বাংলাদেশকে বাড়তি দুটি দিন অনুশীলন করে দ্বিতীয় টেস্টে ভালো লড়াইয়ের জন্য একটা বড় সুযোগ করে দিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা।

এত বড় লজ্জাজনক হারের পর বড় বিশ্লেষণ করাটাও মুশকিল। এই টেস্ট সিরিজ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা কী ছিল- সিরিজে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ১-১-এ সিরিজ ড্র করা? ম্যাচ জেতার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ দিন পর্যন্ত মাঠে তৎপর রাখা? আমাদের একাধিক খেলোয়াড়ের মেধাবী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের মাইলফলক ছোঁয়া? মনে রাখার মতো কোনও পেস বোলিংয়ে একাধিক স্পেল মুগ্ধ নয়নে টিভি পর্দায় দেখা? না, এর কোনও কিছুর নজির আমরা উল্লেখ করার মতো লক্ষ্য করিনি। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা দারুণভাবে হতাশ করেছেন, তাই নতুন খেলোয়াড়দের বিচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স আর সেভাবে নজর কাড়েনি।

এই ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের ভরাডুবির অন্যতম কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলারদের গতি বা সামান্য বাড়তি বাউন্সের চেয়ে বলের মুভমেন্টে সবচেয়ে কার্যকর ছিল আমাদের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের কানায় তাদের বলের বিষের ছোবল দিতে। দ্বিতীয়ত, বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের রাউন্ড দ্য উইকেটে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা গত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর থেকে অনেক বেশি উন্মোচিত বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে।

আমাদের দেশীয় বোলারদের থেকে দীর্ঘাকার ও দ্রুত গতি থাকার ফায়দা প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তুলে নিচ্ছেন ক্যারিবিয়ান বোলাররা। পরবর্তী ম্যাচে উপরের দিকের ব্যাটসম্যানরা প্রথম ২৫-৩০ ওভার পর্যন্ত টিকে থেকে বলের উজ্জ্বলতা ও শক্ত অবস্থানটা রুখে দিতে পারলে দ্বিতীয় টেস্টে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ অবশ্যই আছে। যদি এই টেস্ট হারের সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের আস্থাটাও অনেকাংশে খোয়া গেছে, যা পুনরুদ্ধার করতে হবে। একমাত্র শঙ্কার জায়গা হলো, যদি বল সুইং করে ও পিচে ঘাস থাকে, তাহলে হারানো আস্থা আমাদের ব্যাটসম্যানদের পুনরুদ্ধার করা অনেক কঠিন হবে। বাড়তি বাউন্সের চেয়ে সুইংয়ের কারণেই এই টেস্টে অধিকাংশ ব্যাটসম্যান ধরাশয়ী। অল্প কয়েকজনের আউটে সুইং ও বাড়তি বাউন্সের সমন্বয় দৃশ্যমান ছিল।

এক যুগ আগে আমরা অনেক ম্যাচ তিন দিনেই হেরে গেছি এবং পর্যায়ক্রমে সেই অবস্থা থেকে আমরা অনেক উন্নতি করেছি কোনও সন্দেহ নেই। দেশের মাটিতে আমরা যে মানের দল না, তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছি। কিন্তু আমাদের খেলোয়াড় বা কোচিং স্টাফরা বিদেশে আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক ছিল না। তার মূল্য এখন দিতে হলেও ভবিষ্যতে কীভাবে এর উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে বোর্ডের কর্ণধার ও খেলোয়াড়রা তৎপর হবেন বলে আমার বিশ্বাস।

আমাদের দলের সেরা খেলোয়াড়রাই এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আছে, মাঝের চার দিন তারা ভাববেন, কাজে লাগাবেন এবং নিজের তথা দেশের ভাবমূর্তির জন্য নতুন ম্যাচে নতুন উদ্দীপনায় টেস্ট ম্যাচের ঢংয়েই লড়বেন- এই বিশ্বাসটুকু তাদের ওপর রাখতে চাই।

/কেআর/

লাইভ

টপ