নাটকীয়তায় পার হলো দ্বিতীয় দিন

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৪:৫২, জুলাই ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৪, জুলাই ১৪, ২০১৮

টেস্ট ম্যাচ কিছু সময় কল্পনার গণ্ডিকেও ছাড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশ দলের কোনও খেলোয়াড়ই সম্ভবত ভাবেনি প্রথম সেশনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট করে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হবে। একইভাবে ৪৬ ওভারেই অলআউট হয়ে দিনের শেষে আবার ৯ ওভার বাংলাদেশ ফিল্ডিং করবে, তা অধিকাংশ ক্রিকেট অনুসারীর কল্পনাকেও হার মানিয়েছে। পুরো দিনটাই ছিল নাটকীয়তায় ভরা, বোলারদের কাছে ব্যাটসম্যানদের অসহায় আত্মসমর্পণের।

দিনের শুরুতেই নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরত আসে এবং বোলিংয়ে একটি সেশনে এত বড় সাফল্য পাওয়া যে কোনও দলের জন্য গৌরবের ও অনুপ্রেরণার। এমন চমৎকার শুরুর একটা দিনে যোগ্য সমর্থন নিয়ে পাশে দাঁড়াতে পারলো না ব্যাটসম্যানরা। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসের ভুলগুলোকে শুধরাতে বা টেস্ট মেজাজে ব্যাট হাতে লড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ছিল অনুপস্থিত। প্রথম টেস্টে একটি ইনিংসে মাত্র বল করার সুযোগ পেলেও বরং দ্বিতীয় টেস্টে যথেষ্ট সফল বোলিং বিভাগ। প্রথম দিনে সাকিবের পেস বোলারদের বল করার আরও সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল, সেটা দ্বিতীয় দিনে আবু জায়েদ রাহী ৩ উইকেট তুলে নিয়ে তার প্রমাণ দিলেন।

একই পিচে দুটি দলই তার নিজ বোলিং শক্তি হিসেবে স্পিন ও পেসকে যথাক্রমে এগিয়ে রেখেছে। দারুণ স্পোর্টিং পিচে সামর্থ্যের সেরাটা দিলে স্পিনার, পেসার বা ব্যাটসম্যান সফলতার দেখা পাবে।

এই পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেস বোলাররা দারুণ বোলিং করলেন। তাদের শারীরিক উচ্চতা বাড়তি বাউন্সের সামান্য সুবিধা দিলেও কন্ট্রোল সুইং বোলিং ছিল যথেষ্ট প্রশংসনীয়। অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের ৫ উইকেট তুলে নেওয়া নজর কাড়লেও অভিষিক্ত কিমো পল যে ওভারটিতে তামিম ইকবাল ও নুরুল হাসানকে আউট করেছেন, সেই ওভারের ৬টি ডেলিভারিকে আমার মনে সবচেয়ে বেশি ধরেছে এবং এখন পর্যন্ত এই টেস্ট সিরিজের সেরা ওভার মনে হয়েছে।

মুমিনুল যে ভঙ্গিমায় খেলে আবারও আউট হলেন, তাতে তার উইকেটটির মূল্যের সঙ্গে তার ইনিংস প্রতি গড় রান একেবারেই বেমানান। প্রত্যাশার কোনও কিছুই তিনি করতে পারলেন না, বরং ক্রমান্বয়ে বোঝা হয়ে উঠছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিংয়ের অন্যতম জ্বলজ্বলে দিক ছিল নতুন কোনও ব্যাটসম্যান পিচে এলে শুরুতেই দারুণ কার্যকর ডেলিভারিতে উইকেট তুলে নেওয়া, যা মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ বা নুরুলের ক্ষেত্রে ঘটেছে। তবে অভিজ্ঞতার প্রতিদান তামিম, সাকিব বা মুশফিক- কেউই দলের প্রয়োজনে দিতে না পারাটা ছিল দ্বিতীয় দিনে আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

/কেআর/

লাইভ

টপ