‘বর্ণবাদী’ আচরণে ওজিলের অবসর

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:০২, জুলাই ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৫, জুলাই ২৩, ২০১৮

মেসুত ওজিল।বিশ্বকাপের আগে শুরু হওয়া সেই ঝড়ই কাল হলো মেসুত ওজিলের। তুরস্ক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তুলে সমালোচিত হয়ে আসছিলেন একের পর এক। রাশিয়া বিশ্বকাপেও ছিল তার অনুরণন। বিদায়ী ম্যাচে উগ্র দর্শকদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন। সেই মেসুত ওজিল রাগে-ক্ষোভে বিদায় বলে দিয়েছেন জার্মান ফুটবলকে।

তার এমন সিদ্ধান্ত আচমকা হলেও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। তা প্রকাশ পেয়েছে ওজিলের মন্তব্যেই, ‘অনেক ভেবে ও হৃদয়ে পাথর রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা হয়েছে তাতে জার্মানির হয়ে কোনও পর্যায়ে আর আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলবো না।’ এমন সিদ্ধান্তের পেছনে যে বর্ণবাদী আচরণ দায়ী সেটা নিজের মুখে স্বীকার করেছেন ওজিল, ‘আমার মনে হয়েছে আমার প্রতি বর্ণবাদী আচরণ ও অসম্মান দেখানো হয়েছে।’

সেই বিতর্কে শুধু ওজিলই ছিলেন না। তার সঙ্গে ছিলেন ইকেই গুন্ডোগান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে কয়েক মাস আগে তোলা এক ছবিকে ঘিরে তোপের মুখে পড়েছিলেন দুজন। জার্মান বংশোদ্ভূত হলেও ওজিল ও গুন্ডোগানের বাবা-মা তুরস্ক বংশোদ্ভূত। আর এই দুই তারকা গত মে মাসে লন্ডনে বিতর্কের জন্ম দেন এই ছবি তুলে। সোস্যাল মিডিয়ায় তা ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। একই সঙ্গে উসকে দেয় রাজনৈতিক বিতর্কের। এমনিতে তুরস্কের সঙ্গে জার্মানির সম্পর্ক শীতল। তাই এ নিয়ে দুই ফুটবলারের কঠোর সমালোচনা করেন জার্মান ফুটবল প্রধান। সেই ফুটবল প্রধান গ্রিন্ডেলের সমালোচনা করেছেন ওজিল। বলেছেন, ‘আমি জয় পেলেই গ্রিন্ডেল ও তার সমর্থকদের চোখে তখন জার্মান, কিন্তু যখন হেরে যাই তখন আমি একজন বহিরাগত।’ তাই নানা বিতর্কে ক্ষুব্ধ ওজিল আরও বলেছেন, ‘এই জার্মান শার্ট আমি অনেক গর্ব ও উত্তেজনার সঙ্গেই পড়তাম। কিন্তু এখন আমি তা করি না।’

বিতর্কিত সেই ছবি নিয়ে ওজিলের মন্তব্য, ‘আমার জন্যে এমন ছবি তোলা মানে কোনও রাজনীতি বা নির্বাচনে অংশ নেওয়া নয়। আমার কাছে এর মানে হলো আমার পরিবারের দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানানো।’

জার্মানির সোনালি প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে খেলে আসছিলেন ওজিল। ২৯ বছর বয়সী এই তারকা হয়ে দাঁড়ান অন্যতম প্রভাবক। সিনিয়রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ে ভূমিকা রাখেন। জার্মানির হয়ে এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের অভিষেক হয় ২০০৯ সালে। 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ