অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অসাধারণ প্রয়োগ গড়ে দিলো ব্যবধান

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৫:১০, জুলাই ২৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১২, জুলাই ২৩, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।যে পার্টনারশিপের দেখা টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ পায়নি। তা পেলো এক দিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচেই। ব্যাটিংয়ের জন্য প্রতিকূল অবস্থায় পার্টনারশিপ গড়ার পেছনে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এত ধৈর্যশীল ব্যাটিং দুই প্রান্ত থেকে অনেকদিন দেখিনি। আকাঙ্ক্ষার তো কোন শেষ নেই। তাইতো টেস্ট সিরিজে এমন ছন্নছাড়া ফলাফলের পরও কিছুটা আশা বুকে লালন করে সবাই খেলা দেখতে বসেছিলো।

টপ অর্ডারে বড় পার্টনারশিপ হলে সেটা অনেক বেশি কার্যকর হয়। তাতে ইনিংসের শেষ দিকে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ব্যাট করা যায়। তবে তামিম-সাকিবের ২০৭ রানের এত বড় পার্টনারশিপ হবে সত্যি বলতে তা আমার চাহিদাকেও পেছনে ফেলে বহুদূর এই পার্টনারশিপ পথ চলেছে। যে মন্থর পিচে শট খেলা যায় না, সিঙ্গেলসের জন্য সঠিক জায়গায় বলকে ঠেলে দেওয়া যায় না। সেই পিচে প্রথম ১৪ ওভার স্কোর বোর্ডের দিকে নজর না দিয়ে নিজেদের আস্থা ও পিচের ব্যাটিং সহায়ক কন্ডিশনের জন্য অপেক্ষা করে তারা যথেষ্ট বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের ক্রিকেট মেধার প্রয়োগ ঘটিয়ে সিঙ্গেলস, ডাবলস ও বাউন্ডারির মাঝেই তাদের বেধে রেখেছিলেন।

কাল পিচে সাকিব ও তামিম তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে হয়তো মিস করেছেন কিন্তু তাদের মেধার ভিন্ন মাত্রার প্রয়োগ দর্শকরা উপভোগ করেছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রিয়াদ ও সাকিবের চমৎকার ইনিংসের চেয়েও কালকের পিচের কন্ডিশন এবং এই চলমান সিরিজে আমাদের ব্যাটিংয়ের সার্বিক অবস্থার আলোকে আমি এই পার্টনারশিপকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখবো। হয়তো বেশ কিছু সুযোগ তারা দিয়েছিল আউট হওয়ার জন্যে। কিন্তু প্রাপ্ত সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার তারা করেছেন। যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাহিদার দাবির দিকে লক্ষ্য রেখে ডিফেন্সিফ মুড থেকে আবার অ্যাটাকিং মুডে তারা সুইচ অন করেছেন। হয়ত কেউ তাদের স্ট্রাইক রেট নিয়ে কথা বলতে পারেন তবে নিশ্চয়ই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তারা ব্যাটিং করেছেন। ক্রিকেটাররা ৯০ এর ঘরে পৌঁছালে বাড়তি কিছু বল অনেক সময় অবচেতন মনে নষ্ট করে ফেলে। তবে সেটা অসাধারণ দক্ষতায় পুষিয়ে দিয়েছেন মুশফিক। একই সাথে ভালো ফিনিশ করার জন্য সাব্বির বা মোসাদ্দেকের চেয়েও মুশফিক বা রিয়াদের উইকেটে আগে আসা উচিত- সেটা টিম ম্যানেজমেন্টের মনে রাখা উচিত। মুশফিকের ঐ বিধ্বংসী ইনিংস না হলে হয়তো ২৫০ এর আশেপাশে একটা সংগ্রহ নিয়ে উল্টো একটা অস্বস্তি নিয়ে মাঝ বিরতিতে যেতে হতো।

দলনায়ক মাশরাফি জানতেন, একটা ভালো বোলিংয়ের সূচনা হলে এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। প্রথম দুই ওভারে পিচের আচরণ ও টাইট লাইনের বোলিং আস্থা আরও বাড়িয়েছে। এই আদর্শ পিচে মোস্তাফিজ তার সেরা ছন্দে না থাকলেও বলের গতি নিয়ে বেশ চাপে রেখেছিলেন প্রতিপক্ষকে এবং দলনায়ক তার খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রাখলেন তার চমৎকার লাইন ও পেসের ভেরিয়েশনের মাধ্যমে। তাতে তুলে নিলেন ৪টি উইকেট।

পেস বোলিং বিভাগকে দারুণ সহায়তা করেছেন দুই অফস্পিনার মিরাজ ও মোসাদ্দেক। ফিল্ডিংয়ে রুবেলের একটি রান আউটের সুযোগ বাদ দিলে প্রতিটি বিভাগে ভালো নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। প্রবীন, নবীনদের ব্যাট ও বল হাতে ছিল সমন্বিত নৈপুণ্য। যা অনেকদিন আমরা মিস করছিলাম। এর মধ্য দিয়ে ওয়ানডে সিরিজে দারুণ এক সূচনা হলো মাশরাফির বাংলাদেশ দলের।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ