চোখের সামনে হাতছাড়া হলো সহজ জয়

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৯:৩৯, জুলাই ২৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪১, জুলাই ২৬, ২০১৮

দারুণভাবে দিনটি উপভোগ করতে পারতো আমাদের ক্রিকেট দল। ওয়ানডে সিরিজ জেতার আনন্দে ভুলতে পারতো টেস্ট সিরিজের বড় ব্যবধানে হারার দুঃসহ স্মৃতি। জেতার জন্য পরিশ্রমে আন্তরিকতার কমতি ছিল না। মানসিক দৃঢ়তারও কোনও কমতি চোখে পড়েনি। শুধু পাঁচ-ছয়টি দুর্বল গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ও সাকিব আল হাসানের শিমরন হেটমায়ারের ক্যাচ ফেলে দেওয়ার মুহূর্তটি দলীয় ঘাটতির উল্লেখযোগ্য হতে পারে বাংলাদেশের বোলিং ইনিংসে।

টস জিতে কৌশলগত কারণে মাশরাফি আগে বল করলেও একটা ভালো অবস্থানে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যার নায়ক ছিলেন আগামী দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য ব্যাটিং স্তম্ভ হেটমায়ার, বিরতিহীনভাবে তিনি রান করে যাচ্ছেন অসাধারণ দক্ষতায়। পেস বা স্পিন কেনও বল দিয়েই তাকে বেঁধে রাখতে পারেনি আমাদের দল। তিনি একপ্রান্ত যেমন আগলে রেখেছিলেন, তেমনি এই সিরিজে পিচের প্রতিকূল আচরণের মাঝে দারুণ ঈর্ষণীয় স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে প্রকৃত ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছেন। ব্রায়ান লারার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি কোনও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের এত চমৎকার ফুটওয়ার্ক ও স্ট্রোকস খেলার সক্ষমতা চোখে পড়েনি। এই সিরিজে হেটমায়ার আমার চোখে দুই দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল।

বাংলাদেশ দল টস জিতে যে মন্থর পিচ পেয়েছিল, তার থেকে যথেষ্ট ফায়দা পেসার ও স্পিনাররা তুলে নিলেও আমার কাছে মনে হয়েছে সাকিবকে আরও আগে আনা যেত। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের কথা মাথায় রেখে মোসাদ্দেক বল করেছে, যদিও মাশরাফি, মোস্তাফিজ ও সাকিবের বোলিং কোটা পুরণ হওয়া উচিত ছিল। তবে আমাদের বোলিংয়ের শেষ ৮ ওভারে আমরা দারুণভাবে ম্যাচে ফেরত না এলে ও উইকেট তুলে না নিলে হেটমায়ার কোনও যোগ্য সঙ্গী পেলে এই রানকে ২৮৫ বা ২৯০-এর কাছকাছি নিয়ে যাওয়ার সক্ষম এক ক্রিকেটার। আাবার এই ব্যাটসম্যানের ৭৯ রানের সময় সহজ একটি ক্যাচ মিস না হলে হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫০ রানই পেরোতে পারতো না!

ব্যাট হাতে এনামুল হক উড়ন্ত সূচনা এনে দিলেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাট চালানোর ভঙ্গি যে তাকে উইকেটে থাকতে দেবে না, তা অনুমান করা যাচ্ছিল। তবে ইন ফর্ম তামিম ও সাকিবের জুটি ম্যাচটাকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তবে সিঙ্গেলস বা ডাবলসের দিকে নজর না থাকায় এবং একটি পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনাররা পিচ থেকে টার্ন ও বাউন্স পাওয়ায় যে চাপের সৃষ্টি হয়, তাতে আবারও বড় শটস খেলতে গিয়ে দুজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানই দ্রুত প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। পিচের এমন আচরণের মাঝেও তামিমের স্ট্রাইক রেট আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে দ্রুত উন্নতি করতে হবে। তা হলে পরের ব্যাটসম্যানদের ওপর এমন বাড়তি চাপ পড়তো না।

আমাদের ওপরের ব্যাটসম্যানরা কেউ একজন হেটমায়ারের মতো শেষ পর্যন্ত পিচে থাকলে খেলাটা অনায়াসেই জিততাম। তারপরও মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ সাধ্যমত লড়েছেন এবং আমাদের ব্যাটিংয়ের টি-টোয়েন্টি স্টাইলে শুরুর মতই শেষের হিসাবটাও সহজই মনে হচ্ছিল। মাহমুদউল্লাহর রান আউটটা না হলে দুই দিক থেকেই রান আসতো এবং ম্যাচ শেষ করার ‍দক্ষতা মাহমুদউল্লাহই সবচেয়ে ভালো আমাদের দলের। তার রান আউটের সঙ্গে সঙ্গেই কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে আমাদের ভাগ্য।

শিশির বোলারদের তেমন একটা না ভোগালেও পর্যায়ক্রমে বল ভিজে যতটুকু ভারি হয়, তাতে ভালো টাইমিং না হলে শেষ পর্যায়ে অনেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচও পাল্টে যেতে দেখেছি আমরা। ঠিক একইভাবে সাব্বির ও মুশফিক ফুলটস বলে মিস টাইম করে ক্যাচ আউট হলেন। শেষ দুই ওভারে রান করার চেয়ে রান ঠেকানোর কাজটা বোলিং বিভাগের অনেক কঠিন ছিল। মুশফিক দারুণ পরিশ্রম করে চমৎকার একটা ইনিংস খেললেও তিনি শেষ ৮ রান করতে পারলেন না।

সিরিজ জয়ের সুবাতাস আমাদের স্পর্শ করার আগমুহূর্তে সব দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক জেসন হোল্ডারের বল করার সিদ্ধান্তটা আমাকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। দুই দলের অধিনায়কই ছিল সমানে সমান। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাকে সামাল দেওয়ার জন্য আরিফুলকে শুধু টি-টোয়েন্টিতে সীমাবদ্ধ না রেখে ৫০ ওভারের ম্যাচে অন্তর্ভুক্ত খুব জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী মোসাদ্দেক বা সাব্বিরের মাঝ থেকে একজনকে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

জয় হাতছাড়া হওয়াতে সবার মতো আমিও হতাশ। তবে জেতার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার প্রেরণা দৃষ্টান্ত হয়ে খেলোয়াড়দের মনে গেঁথে থাকবে এই ম্যাচ আগামী দিনগুলোতেও।

/কেআর/

লাইভ

টপ