হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। বৃষ্টি আইনে ১১ ওভারে ৯১ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় পেয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। হাতে ছিল ১১ বল! এমন হারের পেছনে স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রানের অভাবকে সামনে আনলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশ মিডল অর্ডারের ছোট ছোট অবদানে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রানের স্কোর দাঁড় করায়। সেন্ট কিটসের উইকেটে সাকিব এই স্কোরকে জয়ের জন্য যথেষ্ট মনে করছেন না। তার মতে, ‘এই ধরনের উইকেটে ৯১ রানের লক্ষ্যটা খুব সহজ। যে ধরনের উইকেটে আমরা খেলেছি, এখানে কমপক্ষে ১৭০ রান করতে হত। অথচ আমরা করেছি ১৪৩ রান। ওখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো মুশকিল।’
বাংলাদেশ ১৪৩ রান করলেও বৃষ্টি আইনে স্বাগতিকদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১১ ওভারে ৯১ রান। সহজ লক্ষ্য তখন আরও বেশি সহজ হয়ে যায় ক্যারিবিয়ানদের সামনে। তারপরও বাংলাদেশ খারাপ বোলিং করেনি দাবি সাকিবের, ‘আমরা খারাপ বোলিং করিনি। ওদের পাওয়ার হিটারদের বিপরীতে দলের বোলাররা দারুণ বোলিং করেছে। এমন উইকেটে ওদের দলে যেমন পাওয়ার হিটার আছে, তা আমাদের দলে নেই। রাসেলের মতো ব্যাটসম্যান ৩০ বল খেলে ফেললে এই ধরনের গ্রাউন্ডে ম্যাচে ফেরা কঠিন।’
মঙ্গলবার তামিম ইকবাল নাম লিখিয়েছেন অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডে। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যাটসম্যান প্রথম বলেই স্টাম্পড হলেন। তামিমের বিদায়ের পর একই ওভারে প্রথম বলে বিদায় নিয়েছেন সৌম্য সরকার। তাদের বিদায়ের পর লিটন-সাকিবের ৩৮ রানের জুটি বাংলাদেশের প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেয়। তাদের বিদায়ের পর দায়িত্ব কাঁধে নেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। তাদের ৪৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে বড় স্কোর গড়ার পথেই ছিল বাংলাদেশ। ১১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে একশো ছাড়িয়ে যাওয়া বাংলাদেশ বাকি ৯ ওভারে তোলে মাত্র ৪৩ রান। আর তাতে প্রত্যাশা মতো পুঁজি পায়নি সফরকারীরা। ব্যাটসম্যানদের মূল্যায়নে সাকিব বলেন, ‘১১ ওভারে একশো হয়েছিল, তবে তখন পাঁচটি উইকেট চলে গেছে। ওখান থেকে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। আমাদের দলে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট কিংবা আন্দ্রে রাসেলের মতো খেলোয়াড় নেই যে তারা চিত্রটা বদলে দেবেন। ওই অবস্থায় আমাদের ম্যাচে ফেরা খুব কঠিন ছিল।’
নিজেদের ভুলগুলো চোখ এড়ায়নি সাকিবের। সেই ছোট ছোট ভুলগুলো নিয়ে আফসোস করেছেন সাকিব, ‘সমস্যা হচ্ছে আমরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারিয়েছি। ছোট খাটো জুটি হয়ে যাওয়ার পরও আমরা জুটিগুলো বড় করতে পারিনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আমরা দুটি উইকেট হারিয়েছি। এরপর মুশফিক ভাই ও রিয়াদ ভাইয়ের জুটিটা বড় হয়নি। সবমিলিয়ে আমরা এই ম্যাচে মোমেন্টামগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। এই কারণেই আমরা বড় স্কোর গড়তে পারিনি।’








