সিরিজ জিততে সেরা খেলাটা খেললো সাকিব

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৮:১৩, আগস্ট ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২০, আগস্ট ০৬, ২০১৮

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্রিকেট খেলেছেন সাকিব আল হাসান। দলের অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়ার পর তিনি বড়ই চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিলেন তার নেতৃত্বাধীন দলের পারফরম্যান্স নিয়ে।

বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মাশরাফির জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হওয়ায় তার একটা সিরিজ জয় নিজের ও দলের জন্য ছিল খুবই জরুরি। তার সতীর্থদের দারুণ সব পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে ব্যাট ও বল হাতে অসাধারণ ছন্দে ক্রিকেট খেলে সাকিব হলেন এই সিরিজের সেরা খেলোয়াড়। বিভিন্ন দেশের লিগে ক্রিকেট খেলার অর্জিত অভিজ্ঞতা সুদে-আসলে কাজে লাগিয়ে জয় করে নিলেন এই সিরিজ।

তাকে মাঠে আজ অনেক সম্পৃক্ত মনে হয়েছে ফিল্ডিংয়ের সময়। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে অনেক পরিপক্ক ও মার্জিত ব্যাটিং করেছেন তিনি ধারাবাহিকভাবে। আর এবারই প্রথম আমি দেখলাম এই দুটি ফরম্যাটে টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার এতো ভালো ব্যাট করেছে যে অধিকাংশ ম্যাচে লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে মাঠেই নামতে হয়নি।

আমার ব্যক্তিগত ধারণা ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে কিছু তারকা খেলোয়াড় না থাকলেও এই সিরিজ আমাদের দল জিততে পারবে বলে আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। এই ফরম্যাটের সঙ্গে পুরো ২০ ওভার তাল মিলিয়ে আমরা ব্যাটিং ও বোলিং কখনোই করতে পারিনি। একটি বিভাগ ভালো করলে অন্যটিতে ধরাশয়ী হয়ে ম্যাচ হেরেছি। এই সিরিজে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে অনেক সুশৃঙ্খল লাইন-লেন্থে আমাদের সমষ্টিগত বোলারদের বল করতে দেখেছি। এই উন্নতিটি ছিল লক্ষণীয়। ব্যাটিংয়ে সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা চাহিদার দাবি মিটিয়েছে। তামিম তার জীবনের অন্যতম সেরা সময় পার করেছেন ব্যাট হাতে। তবে তার সঙ্গী হিসেবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আমি লিটন দাসকে এগিয়ে রাখব। এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে হঠাৎ করে সৌম্য সরকারকে খেলানোটাকে আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। তাকে ‘এ’ দলের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে ব্যস্ত রাখা সমীচীন ছিল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিবের পেস বোলার দিয়ে নতুন বলে আক্রমণ রচনার কৌশল আমার ভালো লেগেছে। পক্ষান্তরে আমাদের ব্যাটিংয়ের সময় দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণ দেখে বিস্মিত হয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল তাদের বোলিংয়ের মূল শক্তি পেসারদের ওপর আস্থা না রেখে ভুল করেছে। মোস্তাফিজের জন্য তথা আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্য ফ্লোরিডার এই উইকেট ছিল দারুণ সহনীয়। দ্বিতীয় ইনিংসে বল করায় কিছুটা বাড়তি সুবিধা মোস্তাফিজ নিতে পেরেছেন এবং অন দ্য বাইজ শটস আমাদের ব্যাটসম্যানরা খেলতে পেরেছেন অবলীলায়। মাহমুদউল্লাহর ইনিংস ছোট হলেও শেষ দুটি ম্যাচে যথেষ্ট কার্যকর ছিল। আবু হায়দার রনি ও আরিফুল হক এখন ওয়ানডের জন্য যোগ্য দাবিদার হয়ে উঠলো।

তিন ফরম্যাটের এই সিরিজের দুটিতে জিতে বাংলাদেশ নিজেদের আপাতত ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। কোচ স্টিভ রোডস একটু স্থিরভাবে দলকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনার সুযোগ পাবেন। তবে টেস্ট ক্রিকেট, তার অনুশীলন প্রক্রিয়া, প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য দুজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ পরামর্শকের দিক-নির্দেশনা নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে না এগোলে আমাদের জন্য এশিয়ার বাইরে ভালো করা কঠিন হবে।

/কেআর/

লাইভ

টপ