জয় দিয়ে হোক শুরু

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৪:২৩, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৩, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

যে কোনও টুর্নামেন্টের শুরুর ম্যাচ সবময়ই গুরুত্বপূর্ণ। স্নায়ুচাপ কাজ করে ভীষণ। বাংলাদেশের গ্রুপটা মোটেও সহজ নয়, রয়েছে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কা ও ক্রিকেট দুনিয়ায় নিজেদের জায়গা করে নেওয়া আফগানিস্তান। এই গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডের যেতে বেশ চাপেই আছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে আফগানিস্তান তাদের আত্মবিশ্বাস ও ভয়হীন ক্রিকেটকে পুঁজি করে অপেক্ষাকৃত নির্ভার থেকে নামবে এশিয়া কাপের মিশনে।

প্রথম ম্যাচে আমি বাংলাদেশকে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে এগিয়ে রাখব, তবে দল হিসেবে কোনও ম্যাচের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ না থাকাটা শঙ্কার একটা বড় কারণ হতে পারে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্য। নেটে অনুশীলন ও ম্যাচের প্রস্তুতির মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকে, যার ফায়দা এই টুর্নামেন্টের আগে কোচ স্টিভ রোডসকে নিতে দেখিনি। হয়তো তিনি প্রতিটি খেলোয়াড়কে নিয়ে আলাদা করে অনুশীলনের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী ছিলেন।

প্রথম ম্যাচে জিততে না পারলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে ‘মাস্ট উইন’ পরিস্থিতির সামনে পড়তে হবে বাংলাদেশকে। এই চাপের অস্থিরতা তাই দুই দলের মধ্যেই কম-বেশি কাজ করবে। সাকিবকে এই টুর্নামেন্টে পাওয়া মাশরাফির জন্য দারুণ স্বস্তির ব্যাপার। তবে আঘাত পাওয়া আঙুল যদি বোলিংয়ে তার সেরাটা দিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে ম্যাচের বোলিং পরিকল্পনায় একটা বড় ধাক্কা খেতে পারে। দীর্ঘদিন সাকিব অনুশীলনের বাইরে নিজের ফিটনেস নিয়ে নিয়মিত চর্চা করেছেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং বিভাগ আনুপাতিক হারে বোলিংয়ের চেয়ে শক্তিশালী। নিয়মিত সফল মাশরাফির ওপর চড়াও হওয়ার একটা কৌশল শ্রীলঙ্কা নিতে পারে খেলার পরিস্থিতির আলোকে। বাংলাদেশের ডেথ ওভারে ভালো বল করার ওপর অনেকখানি নির্ভর করবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি জিততে। পরে বল করার চেয়ে রান তাড়া করতে গেলে দল বেশি ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস। দলের অনিয়মিত খেলোয়াড়রা কেমন ব্যাট করছে নেটে, জানি না। অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে লিটন, মোসাদ্দেক, আরিফুল ও অপুকে একাদশে দেখলে খুশি হব। মাশরাফির সঙ্গে মোস্তাফিজ ও রুবেল সম্ভবত নতুন বল হাতে আক্রমণে থাকবেন। ম্যাচ না গড়ানো পর্যন্ত পিচের আচরণ সম্পর্কে সুনিশ্চিতভাবে কিছু বলা মুশকিল, তবে ইতিপূর্বে ব্যাটিং সহায়ক এই পিচে আমাদের বোলারদের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার বাড়তি দায়িত্ব ব্যাটসম্যানদের বহন করতে হবে সফলতার সঙ্গে। ব্যক্তিগত লম্বা ইনিংস ও পার্টনারশিপ হবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রীলঙ্কা দলে প্রথম একাদশের অন্তত তিনজন খেলোয়াড় চোট ও পারিবারিক কারণে খেলতে পারবেন না। এটা অনেক সময় বাড়তি সুবিধার চেয়ে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পেছনের সারি থেকে অনেকেই হিরো হয়ে ম্যাচে আবির্ভূত হয়। থিসারা পেরেরার সঙ্গে লাসিথ মালিঙ্গা ডেথ ওভারে তাদের ইয়র্কার ও রিভার্স সুইং নিয়ে কোন মাত্রায় জ্বলে উঠতে পারেন, তার ওপর শ্রীলঙ্কার ভাগ্য অনেকখানি নির্ভর করবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে একাদশে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খুব একটা সুযোগ নেই। টিম ম্যানেজমেন্ট তার সেরা একাদশ সাজানোর জন্য অনেক পরিকল্পনা বা কৌশল নির্ধারণ করেছে। তারপরও যদি সাকিব তিন নম্বরে তার জায়গা থেকে সরে আসেন, তবে যে একাদশটি আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটা হলো- তামিম, লিটন, মুমিনুল, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক/আরিফুল, মাশরাফি, অপু, রুবেল ও মোস্তাফিজ।

অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্ট যে একাদশই নির্বাচন করুক না কেন, আমাদের প্রার্থনা থাকবে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শুভসূচনা।

/কেআর/

লাইভ

টপ