এত বড় জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবো কখনো ভাবিনি

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৪:০৬, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৯, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুগ্রুপ পর্বে এই ম্যাচের ফলাফল নিয়ে যথেষ্ট চাপাশঙ্কা বিরাজ করছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মাঝেও। এই ম্যাচ জিতে এবং এত বড় রানের ব্যবধানে জিতে এক প্রকার সুনিশ্চিত আমাদের পরের পর্বে খেলা। ম্যাচ জেতা ও নেট রানরেটের এত বিশাল ব্যবধান যে শ্রীলঙ্কার সঙ্গেই আমাদের দল ঘটিয়ে ফেলবে; তা কল্পনাও করিনি। প্রথম দুটি উইকেট হারিয়ে তামিমের আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার পর বাংলাদেশের ২৬১ রান করা পর্যন্ত খেলায় অনেক নাটকীয় দিক পরিবর্তন ছিল।

এই ধরনের বড় আসরের ক্রিকেটে মিঠুন ও মুশফিকের ক্যাচগুলো যে পরিস্থিতে শ্রীলঙ্কা তিনবার ফেলেছে তা লাসিথ মালিঙ্গার দুর্দান্ত বোলিং স্পেলকে অবমূল্যায়িত করে দিয়েছে। তবে প্রাপ্ত সুযোগের সেরা সদ্ব্যবহার কীভাবে করতে হয়, অসাধারণ এক পার্টনারশিপের মাধ্যমে মিঠুন ও মুশফিক কাল তা করে দেখালেন। অনেক দিন পর খেলার সুযোগ পাওয়া মিঠুনকে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে নামতে হবে হয়তো ভাবেননি। তবে অনভিজ্ঞ সারি থেকে অভিজ্ঞ মুশফিকের সঙ্গে তার পার্টনারশিপটায় কয়েকটি ইতিবাচক দিক ছিল। প্রথমত উইকেটের পতন রোধ। দ্বিতীয়ত শুরুর বাজে রানরেটকে দ্রুত টেনে তোলা। তৃতীয়ত বল হাতে ম্যাচে শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া, একই সঙ্গে তাদের স্পিন বিভাগকে বিপর্যস্ত করে দেওয়া। তাই সেই সময় বাংলাদেশের ২৮০ বা তিনশ’ রান স্পর্শ করা মোটেই অসম্ভব মনে হচ্ছিল না।

২৬তম ওভারের শুরুতেই মালিঙ্গাকে এমন সাধারণ শট খেলে আউট হয়ে এই ম্যাচে নিজেকে আরও উঁচু পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তথা তাদের পার্টনারশিপকে বড়মাপের পূর্ণতাদানের আক্ষেপ রেখেই ফিরে যান মিঠুন। তবে রিয়াদের জন্য দারুণ একটি মঞ্চ তৈরি করেই ফিরেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির আলোকে এত অভিজ্ঞ রিয়াদ সিঙ্গেলসের পরিবর্তে উচ্চাভিলাষী শটস খেলে যেভাবে আউট হলেন, সেই মুহূর্তে সেট মুশফিককে সঙ্গদান ছিল তার মূল কাজ। তাতে শ্রীলঙ্কা দারুণভাবে ফিরে আসে ম্যাচে। পরবর্তী পর্যায়ে মুশফিকের বীরোচিত ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেটে ২২৯ রান হওয়ার কারণে তামিম ঠিকই আন্দাজ করেছিলেন তিনি যদি টপ হ্যান্ড দিয়ে মুশফিককে সঙ্গ দিতে পারেন তবে ম্যাচ জেতার জন্য প্রতিটি রান হতে পারে মূল্যবান। মুশফিক টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ফিনিশ করলেন দুর্দান্তভাবে। তামিম দেখালেন সাহসী ও শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করার মানসিকতা। যখন তার হাতের হাড় নয়, মনটাও ভেঙেচুরে বিপর্যস্ত এটা জেনে যে তিনি ৬ সপ্তাহ ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত।

শেষ জুটির করা এই রানই বাংলাদেশকে করেছে উজ্জীবিত। তামিমের কমিটমেন্ট, মুশফিক ও মিঠুনের গনগনে রোদে ঘাম ঝরানো ইনিংসের ঋণ শোধ করা ছিল মাশরাফির বোলিং ইউনিটের মূল দায়িত্ব। ম্যাচ শুরুর ১০-১২ ওভারের পর মন্থর পিচের আচরণ পর্যায়ক্রমে ব্যাটিং সহায়ক হচ্ছিল এবং ব্যাটে বলে সংযোগের শব্দ বলে দিচ্ছিল সে কথা। তাই আমার সংশয় ছিল ২৬১ রান সম্ভবত যথেষ্ট নয়।

তবে মাঝ বিরতিতে শ্রীলঙ্কার ড্রেসিং রুম ছিলও যথেষ্ট আপসেট। ক্যাচগুলো ধরতে পারলে হয়তো ২০০ রান তাদের তাড়া করতে হতো না এবং শেষ মুহূর্তে পিচে তামিমের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ২৩০ রানের টার্গেট ২৬২ রানে চলে যাওয়ায় তারা নিঃসন্দেহে হতাশ হয়েছিল। সেই কারণে দ্বিতীয় সেশনের একটা দারুণ শুরুর প্রত্যাশায় তারা ছিল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত পরিসরের খেলাগুলোতে আমাদের বোলিং ইউনিটকে সমষ্টিগতভাবে যেভাবে জ্বলে উঠতে দেখেছি, গতকাল তারচেয়ে ভালো বল করার চেষ্টার কোনও কমতি দেখিনি। দ্রুতই শ্রীলঙ্কার রানের লাগাম টেনে ধরা ও দুটি উইকেট শুরুতেই তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ম্যাচ হারার একটা আতঙ্ক শ্রীলঙ্কা শিবিরে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং যে এভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে এবং ১৩৭ রানে হারবে এটা ছিল আমার হিসাব নিকাশের বাইরে। যতটা বাজেভাবে হারলো ততটা খারাপ দল নিশ্চয়ই শ্রীলঙ্কা নয়! তাদের প্রতি রইলো সমবেদনা এবং আগামীতে ভালো করার শুভকামনা।

এত বড় ব্যবধানে জিতলেও আমাদের সার্বিক ব্যাটিংয়ে আমি খুব খুশি হতে পারিনি। অনেক সহজে আমরা উইকেট বিলিয়েছি এবং একটি ছাড়া উল্লেখযোগ্য পার্টনারশিপ হয়নি। তবে মিঠুনের আত্মবিশ্বাসী ও নার্ভাসলেস ব্যাটিং ভালো লেগেছে এবং মুশফিকের এই ইনিংসের বন্দনা তারকা কমেন্টেটরদের মুখ থেকে শুনতে খুব ভালো লেগেছে। তিনি এককভাবে তার টিমমেট তথা দলকে তির্যক সমালোচনার মুখ থেকে বাঁচিয়েছেন।

মাশরাফির নেতৃত্বে শুভ সূচনা হবে এই বিশ্বাস ছিল। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এত বড় বিজয় দিয়ে টুর্নামেন্টে আমাদের দল জিতবে তা আমার হিসাবে অন্তত ছিল না। ভালো ফলাফল করার সামর্থ্যের এই উল্লম্ফন আমি দারুণভাবে উপভোগ করেছি।

/এফআইআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ