গর্বের জায়গায় অনেক বড় আঘাত হানলো আফগানরা

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৫:২২, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩০, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।৫০ ওভারের ফরম্যাটে সাম্প্রতিককালে মাশরাফির নেতৃত্বে গর্ব করার মতো খেলছিলো বাংলাদেশ। আফগানদের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও কালকের ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণার জায়গা ছিলো অতীতের সুখকর স্মৃতি ও এই টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিরাট জয়। প্রথম ম্যাচের পর টানা ৪দিন বিশ্রামে থাকলেও দলের নিয়মিত একাদশের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়বিহীন বাংলাদেশ কেমন করে এটাই ছিলো দেখার বিষয়। বিশেষ করে এই জায়গাগুলিতে সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়রা দলের উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সের কতটুকু অংশ করায়ত্ব করতে পারে।

বিপরীত দিকে আফগানিস্তান মনে প্রাণে চেয়েছে তাদের সফলতার গণ্ডি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এই এশিয়া কাপকে তথা ৫০ ওভারের ফরম্যাটে আরও কিছু বিজয় ও উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেদের শোকেস সাজাতে।  শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশকে এমন বিস্তর ব্যবধানে হারানোর মাঝে সেই পথচলা তারা শুরু করেছে। ম্যাচ বিজয়ের পর তাদের তেমন কোন উল্লাস না দেখে মনে হচ্ছে তারা তাদের সাফল্যের ওপর যে বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিলো তা ঠিকঠাকভাবে অর্জিত হয়েছে। আর সেই তৃপ্তিতেই সন্তুষ্ট এবং মূল পর্বের বড় চ্যালেঞ্জের দিকেই তাদের মূল নজর।

কাল নতুন বলে মাশরাফিকে বল করতে না দেখে অবাক হয়েছি। নতুন বল শেয়ারিং নিয়ে তার এই কৌশল কোন কাজে আসেনি এবং ডেথ ওভারে বল করা যে তার জন্য সমীচিন নয় তা আফগানদের ৮ ও ৯ নম্বরে ব্যাট করতে নামা ব্যাটসম্যানরাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। তা না হলে ডেথ ওভারে মাশরাফির বোলিংয়ের সময় উইকেটকিপার লিটন দাস উইকেটের পেছনে ওঠে এসে কিপিং করলেও রশিদ খান উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বলের লেন্থের ওপর চড়াও হওয়ার সুযোগটা পেতেন না।

এই ম্যাচে বোলারদের ব্যবহারে ইতোপূর্বে ম্যাচের মতো মনোযোগী ছিলেন না মাশরাফি। মেহেদী হাসান, রুবেল ও আবু হায়দার রনিকে মাঝে ব্যবহার করতে পারতেন। তারপরও ৪১ ওভারের মাথায় ৭ উইকেট পতনের পর আফগানিস্তানের লেজের অংশটুকু ছেঁটে ফেলতে না পারাটা ছিলো দারুণ দৃষ্টিকটূ ও অসহায় আত্মসমর্পণ।

কৃতিত্ব দিতে হবেই রশিদ খান ও নায়েবকে- যে ছোট একটি সুযোগ তাদের সামনে ছিলো তার অসাধারণ সদ্ব্যবহার ও বড় দলগুলির বিপক্ষে তাদের লড়াকু মানসিকতার জন্য। শেষ ৯ ওভারে ১৩টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কার মার বলে দেয় আমাদের শর্টপিচ বলগুলির তারা শতভাগ কাজে লাগিয়েছেন এবং কিছু ইয়ার্কার লেন্থের বলেও তারা কার্যকরী শটস খেলেছেন। শুধু মিরাজ, রনি ও সাকিবের বোলিংয়ের ওপর ভর করে অধিকাংশ সময় খেলা নিয়ন্ত্রণ করলেও শেষ ১০ ওভারে আফগানরা ম্যাচ আমাদের হাত থেকে বের নিয়ে গেছে।

আমাদের ব্যাটিং শুরুর আগেই অনুমান করেছিলাম এই ম্যাচে জেতা মুশকিল বাংলাদেশের। তবে হারটা যে ১৩৬ রানের এত বড় ব্যবধানে হবে তা আমার কল্পনার বাইরে ছিলো। প্রথম কয়েক বলের মাথায় রান আউট থেকে যেভাবে নাজমুল বাঁচলো তা ইঙ্গিত করছিল যথেষ্ট মানসিক চাপ ইতোমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে। যখন খেলার ফলাফলের চাপমুক্ত ম্যাচেও আমাদের দল নির্ভার ক্রিকেট খেলতে পারলো না তখন এমন মন্থর উইকেটে তার মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। উইকেট পড়ে গেলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর আরেক ধরনের চাপের সৃষ্টি হয়।

মুমিনুল এই ফ্যাশনে আর কত আউট হবেন? চার বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে উপর্যুপরি দুই ইনিংসে তাকে প্রথম এমন ভঙ্গিতে আউট হতে দেখেছি। আজ নাজমুলের জায়গায় তার একটা সুযোগের সম্ভাবনা দেখছি, তার খেলাটা তাকেই মাঠে খেলতে হবে।

সত্যিকার অর্থে আজ ভারতের সঙ্গে ম্যাচের আগে কার্যকর ৮-৯ ঘণ্টা বিশ্রাম পাবে খেলোয়াড়রা। ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত বাংলাদেশের সামনে আজ জায়ান্ট ভারত ও গায়ে আগুনের জ্বালার মতো গরম। সেখানে শুধুমাত্র দলীয় পারফরম্যান্সই তাদের মনে ও শরীরে ঠাণ্ডা-শান্তির পরশ বুলাতে পারে। মুশফিক ও মুস্তাফিজের সংযোজন দলীয় শক্তিকে আজ বৃদ্ধি করবে কোন সন্দেহ নেই। তবে তা শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ম্যাজিক্যালি কার্যকর করতে হলে ফিল্ডিংয়ে দলের শরীরী ভাষা ও সামর্থ্যের সেরাটা অন্তত দলের ৬-৭ জনকে দিতে হবে চাহিদা মোতাবেক ব্যাটে-বলে।

দুবাইয়ের ম্যাচে একটা সেশন ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংয়ে একটু বেশি সহায়তা করে। যেমনটি সবাই দেখেছি হংকংয়ের ব্যাটিংয়ে। সেই টস ও উইকেটের আচরণের সেরা অংশটি আমাদের ভাগ্যে থাকলে লড়াই হতে পারে। নইলে ১৩৬ রানের পরাজয় এত দ্রুত ভুলে গিয়ে ভালো কিছু করাটা সত্যিই কঠিন।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ