মাঠ ও মাঠের বাইরে অস্থিরতায় ভুগছে আমাদের দল

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৪:৫৪, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৪, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৮

তামিমের আহত হয়ে ফেরত আসা, আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার এবং খুবই অল্প সময়ের বিশ্রামের পর দুবাইয়ের মাঠে শক্তিশালী ভারতের সঙ্গে খেলার ফলাফলও যে কোনও সুখস্মৃতি বয়ে আনবে না, সেই অনুমান খেলায় প্রতিফলিত হলো।

অদ্ভুত এক অস্থিরতায় ভুগছিল উদ্বোধনী জুটি। লিটন ও শান্তর কাছ থেকে একটা ভালো শুরু চাইছিল দল। কিন্তু সেটি তারা দিতে পারেননি। শটস সিলেকশনে ভুল করেছেন ওভার প্রতি রানের চাহিদার দিকে নজর দিয়ে। একদিনের ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের সীমাবদ্ধতা রাখা হয় ৩০ গজের মাঝে, যাতে তাদের মাথার ওপর দিয়ে আক্রমণাত্মক শটস খেলে দর্শকদের আনন্দ দেওয়া যায় ও রানের গতি বাড়ানো যায়। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে এমন দৃশ্য খুবই কম চোখে পড়েছে। এই পিচ ছিল মন্থর, অন দ্য রাইজ শটস ব্যাটসম্যানদের পক্ষে খেলা কঠিন এবং ইনার সার্কেলে এত ফিল্ডসম্যান থাকার কারণে স্ট্রাইক রোটেট করাটা আমাদের নতুন জুটির জন্য ছিল আরও কঠিন। একমাত্র হাফভলি ডেলিভারি ও শর্ট পিচ বলেই টাইমিং করা সম্ভব; সঠিক গ্যাপে খেলতে পারলে রান নেওয়া সহজ ছিল।

ক্রিকেট বিশ্বের নতুন বলের অন্যতম দুই সেরা বোলারের বিপক্ষে শর্ট পিচ ও ওভার পিচ বলের পাতা ফাঁদে আমাদের দুই ওপেনার ধরা পড়েছেন। খুব আশাহত হলেও অভিজ্ঞতার দক্ষ প্রয়োগ ও অনভিজ্ঞতার প্রাপ্ত মাসুল ছিল ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে চিহ্নিত করার মতো বিষয়।

পিচ দ্বিতীয়ার্ধে আনুপাতিক হারে একটু ভালো আচরণ করে ব্যাটের সঙ্গে, তাই টস জিতে বল করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি দুবাইয়ে একই মাঠে সব ম্যাচ খেলার অসম সুযোগ পাওয়া ভারত। আমাদের দ্রুত দুটি উইকেট হারানো বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিল নিঃসন্দেহে, অবশ্য তার সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের অনেক বল খেলার বাড়তি সুযোগও সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সাকিবের ব্যাটিংয়ের ধরন দেখে সেটা মনে হয়নি। আফগানদের সঙ্গে সময় নিয়ে ব্যাট করা সাকিবও অস্থিরতায় ভুগেছেন এবং তার নিজের চোখে দেখা ফাঁদে তিনিও ধরা পড়ে বিপদ আরও বাড়িয়েছেন।

লড়াকু মুশফিকের কিছুটা সামলে নেওয়া অবস্থায় এমন রিভার্স শটের ঝুঁকিটা ছিল পরিস্থিতির আলোকে বড়ই বেমানান। ম্যাচের ২৫ ওভারের পর থেকে বলে টাইমিং ভালো হচ্ছিল, সহজেই তা সবাই দেখেছে। সেই সময়ে মাহমুদউল্লাহর বিরুদ্ধে আম্পায়ারের বাজে এলবিডাব্লিউয়ের সিদ্ধান্তটি ছিল ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’-এর মতো। মোসাদ্দেক একটা ভালো ইনিংস খেলার সুযোগের অপচয় করলেন। তিনি মিরাজকে নিয়ে একটা ভালো জুটি গড়তে পারতেন, যেটা মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রশিদ খান ও গুলবাদিন নাইব করে দেখিয়েছিলেন তাদেরই বিপক্ষে। মিরাজ ও মাশরাফি চেষ্টা করেছেন তাদের সামর্থ্যের সেরাটা দিতে। কারণ তখন পিচ বড় শটস খেলার জন্য অনেক উপযোগী ছিল, যেটা নতুন বলের উঁচু সুতোর সিমের বিপক্ষে মন্থর পিচে অনেক কষ্টকর ছিল।

শেষ পর্যন্ত আমাদের করা ১৭৩ রান যে সহজেই টপকে যাবে ভারত, তা ছিল অনুমেয়। কারণ অপ্রয়োজনে ভারতীয় দল ঝুঁকিপূর্ণ শটস খেলতে পছন্দ করে না। বিশ্রাম থেকে ফেরত আসা মোস্তাফিজ আলাদা করে নজর কাড়তে পারেননি। সাকিবকে ব্যাকফুটে রোহিত শর্মার তিনটি ছয়ের মার ছিল ভিন্ন মাত্রার উপভোগ্য স্ট্রোক। তবে দিনের সেরা ছক্কাটি মেরেছেন মাশরাফি। সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে তার প্রথম ছক্কাটি ছিল ম্যাচের সবচেয়ে দৃষ্টনন্দন শট।

দলীয় ফলাফল বা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য সবসময় ধারাবাহিক থাকে না। তবে এই ফরম্যাটে পরপর দুটি ম্যাচ লড়াইবিহীন ভাবে হারাটা ভালো লাগেনি। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ফর্মহীন এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ধারাবাহিকতায় কেউ না থাকলে অধিনায়ক বড়াই অসহায় হয়ে যান। দলীয় অস্থিরতা কমিয়ে স্থিরভাবে মাঠে খেলার জন্য তাকেই সবচেয়ে বেশি কথা বলতে হবে সতীর্থদের সঙ্গে। এখনও দুটো ম্যাচ বাকি, খেলায় লড়াই করার চেতনা সবার মধ্যে নতুন করে জাগাতে হবে।

দুজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য ও ইমরুলকে হঠাৎ ডেকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেখে মনে হচ্ছে মাঠের বাইরে থাকা কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের চেয়ে আরও বেশি অস্থিরতায় ভুগছেন। নিজেদের নির্বাচনের ওপর আস্থাহীনতা তাদেরকে আরও বিতর্কিত করলো। এতে দলের অস্থিরতা আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।

/কেআর/

লাইভ

টপ