অবশেষে বহু আকাঙ্ক্ষিত জয় স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:১৬, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৬, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপুদারুণ এক চাপের মাঝে পড়ে গিয়েছিলো দল। চাহিদা মোতাবেক অনেক কিছুই হচ্ছিল না কোনও বিভাগ থেকে। নতুন দুজন খেলোয়াড়ের হঠাৎ করে সংযোজন প্রাক্তন খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও মিডিয়ায় দারুণ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। দলের একাদশের ব্যাটিং অর্ডারেও তার দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছিল। তবে মাঠে জয়ের প্রত্যয়ে খেলোয়াড়দের একাগ্রতা ও শতভাগ চেষ্টা ছিলো লক্ষণীয়। প্রতিটি বিভাগই প্রচুর ঘাম ঝরিয়েছে ও অবদান রেখেছে আকাঙ্ক্ষিত এই জয় তুলে নেওয়ার জন্য।

জয়ের পেছনে সব বিভাগের চেয়ে সেরা অবদান ছিলো দলের অসাধারণ গ্রাউন্ড ফিল্ডিং। মিঠুনের ক্যাচ ফেলে দেওয়াটা দৃষ্টিকটূ লাগলেও পিচে শাহজাদের দীর্ঘ সময় উপস্থিতিতে আফগানরা অনেক সিঙ্গেলস মিস করেছে বা দুই রানগুলি একেই থেমে গেছে। আফগানরা দুটো ম্যাচ এই পর্বে হারলেও দারুণ লড়াই করেছে। শ্রীলঙ্কার অনুপস্থিতি তারা উজ্জ্বল নৈুপণ্য দিয়ে অনুভব করতে দেয়নি।

ইমরুল কায়েস দলে থাকলেও বিগত দিনে অনেক সফরে বেঞ্চে বসেই কাটিয়েছেন। তার প্রাপ্ত সুযোগ অসাধারণ দক্ষমতায় কাজে লাগিয়েছেন। তার ব্যাটিং অর্ডার যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করলো কি করলো না সেটিকে পাত্তা না দিয়ে তীব্র চাপে পড়ে যাওয়া দলকে চাপমুক্ত করতে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদসহ ইনিংসের শেষ অব্দি। নিজের ফিটনেসের প্রতি কিছুটা যত্নশীল ছিলেন বিধায় এই তীব্র গরমের মাঝেও প্রয়োজনীয় সেশনটিতে মাঠে টিকে থাকতে পেরেছিলেন। দলীয় বিপর্যয়ে মাহমুদউল্লাহর আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক ইনিংসটি টুর্নামেন্টের উজ্জ্বল স্পিন বোলিং শিবিরকে নিষ্প্রভ করে দেয়। ইমরুল, রিয়াদ জুটির ঝরানো ঘামে দল পৌঁছে যায় বল হাতে লড়াই করার অবস্থানে।

একজন পেস বোলার কমিয়ে স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর সংযোজন ছিলো একটি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত এবং এই ডেবুটেন্ট সরাসরি নতুন বলে লেন্থ ও লাইনের দারুণ সংমিশ্রণে ইকোনমি রেটে বল করেছেন। তা আগামীতে তাকে প্রথম একাদশে জায়গা দেওয়ার পথ অনেক উজ্জ্বল করেছে। মুস্তাফিজের ১০ ওভার বলের ক্যালকুলেশনটা বাদ দিলে নিজের ওপর অনেক বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে মাশরাফি বল করেছেন বিচক্ষণতার সঙ্গে। তবে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে লেগ স্টাম্পে ও ডাউন দ্য লেগে কিছু ডেলিভারিতে কিছু অতিরিক্ত রান দিয়ে ফেলেছেন, যা সচরাচর তিনি করেন না। আসগর ও শাহিদীকে যথাসময়ে তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়ে খেলায় ফেরত আনেন দলকে। দলের প্রয়োজনে রিয়াদ অনেক নিখুঁত বল করেছেন এবং কিছু ওভার করে দেওয়ার সক্ষমতা যে তার মোসাদ্দেকের চেয়ে কোন অংশে কম নয় থিংক ট্যাংককে নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য এই ম্যাচটির চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে।

সাকিবের কাছে আরও ভালো ইকোনমি রেট বা ব্রেক থ্রু প্রাথমিক পর্বে না পেলেও তার বলে নাজমুল শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে নবীকে আউট করতে না পারলে দল যে জয়ের দেখা পেত না তা এক প্রকার নিশ্চিতিই ছিলো।

আইপিএলে খেলতে গিয়ে হয়তো আমরা মুস্তাফিজের ফিটনেসের কিছুটা ক্ষতি করেছি তবে যে জ্ঞান, দক্ষতা ও খেলার শেষ প্রান্তে মানসিক চাপ নিয়ে বল করার যে অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছেন তার একটি ঝলক কাল আমরা দেখলাম। 

দলনায়ক হিসেবে মাশরাফি ওপেনিং স্লটটাকে বদলাননি। সে যে দৃঢ়তাটুকু দেখিয়েছে সেজন্য তাকে অশেষ ধন্যবাদ। আর একই সঙ্গে এটাও প্রমাণিত হলো যে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও মাঝে জুটি গড়ে ম্যাচ জেতা যায়। মূল কথা হলো শুধু টপ অর্ডারকে লক্ষ্য করে সিদ্ধান্ত নিলে তা হয়তো সঠিক হতো না। তাই দল ও দলনায়ক কাল তার অর্জিত অভিজ্ঞতা ও মেধার প্রতিদান দিয়েছেন এবং স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছেন শেষ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে ফাইনালে ওঠার।    

/এফআইআর/

লাইভ

টপ