তীব্র চাপের মাঝেও পথ হারায়নি বাংলাদেশ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৫:০৩, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৮, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

26b8f65a78158f5bf594d9cb7e5aa7d6-5b9cc0d728e67বিদেশের মাটিতে একই টুর্নামেন্টে দুই-দুইবার শুরুতেই বিরাট ব্যাটিং বিপর্যয়, তারপরও ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তীব্র চাপের মুখে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সামর্থ্যের সেরা পারফর্ম করার ও নিজেদের দক্ষতা নিয়ে গর্ব করার মতো নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো এশিয়া কাপে।এবার দেশের বাইরেও ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য মাশরাফিসহ সবাইকে অভিনন্দন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের মতো কালও মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন আবারও অসাধারণ এক জুটি গড়ে উল্টো পাকিস্তানকে চাপের মাঝে ফেলে দেন। তামিম ইকবালের পর প্রথম একাদশে সাকিব আল হাসানকে না পাওয়া ছিল দলের খেলোয়াড় তথা ক্যাপ্টেনের জন্য প্রায় পাহাড় সমান এক ধাক্কা খাওয়া। স্বীকৃত এক স্পিনার কম নিয়ে সাজানো প্রথম একাদশ দেখে অনেকের মতো আমি খুবই আশঙ্কায় ছিলাম যে ভালো ব্যাটিং করেও সেটা আমরা প্রতিহত করতে পারব কিনা। সেই ঘাটতি মাহমুদউল্লাহ অসাধারণ দক্ষতায় সামাল দিয়েছেন এবং মন্থর পিচে সৌম্যও তার ৫ ওভারের বোলিং স্পেলে পাকিস্তানকে চাপ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেননি। বরঞ্চ তার মিতব্যয়ী বোলিং আঙুলে চোট পাওয়া মাশরাফিকে তার স্পেলের বাকি ওভার বল করা থেকে চাপমুক্ত করেছে।

এই ম্যাচটি ছিল এক কথায় সেমিফাইনাল, প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের মতো পরীক্ষিত একটি দল যারা বিগত অনেক বছর ধরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজসহ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির অনেক ম্যাচ এই মাঠে খেলেছেন। এমন বড় ম্যাচে তামিম ও সাকিবহীন বাংলাদেশ হিসাবের অঙ্কে মোটেও ফেভারিট ছিল না। এমন পরিস্থিতিতেও মাশরাফি দলকে উজ্জীবিত রাখার অসাধারণ এক সক্ষমতা দেখালেন। তাই তো দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ভালো ও মন্দ পরিস্থিতির মাঝেও হাল ছাড়েননি। মাঠে কোনও পর্যায়ে কোণঠাসা হলেও তা পুনরুদ্ধার করে বিজয় নিশ্চিত করেছেন।

পাঁজরের বেশ ভালো ব্যথা নিয়ে পুরোটা টুর্নামেন্ট খেললেন মুশফিক। দলের বিপর্যয়ে এই গরমে আহত অবস্থাতেও তিনি জাত নতুন করে চেনালেন সারা বিশ্বকে। বরঞ্চ মিঠুনের ওপর দলের যতটুকু ভরসা ছিল, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি দিয়েছেন দলকে। তার দুটি বড় জুটি ছিল দিন শেষে ম্যাচ জেতানো। তাছাড়া দল যখন দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বিশাল চাপে চৌচির, ঠিক সেই সময়ে খাদ থেকে দলকে উদ্ধারে তার পরিণত অবদান তাকে ভবিষ্যতে আরও অনেক ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য লড়াই করার পথ সুগম করল।

এই ম্যাচে পাকিস্তানের অনভিজ্ঞ স্পিন আক্রমণ তাদের পেস বোলিংকে যোগ্য সমর্থন দিতে পারেনি। আর আমাদের নিয়মিত ও অনিয়মিত বোলাররা তাদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়েছেন এবং শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে নতুন বল তুলে দেওয়া ছিল মাশরাফির চৌকস নেতৃত্বের পরিচয় এবং মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে বল হাতে লড়াই করার ও দলকে চাঙ্গা করার বড় কাজটি এই জুটির উদ্বোধনী স্পেলে রচিত হয়েছে। ফর্মে থাকা বাবর আজমের আউটের মাধ্যমে একটা আতঙ্ক পাকিস্তান শিবিরে শুরু হয় এবং মাশরাফির অসাধারণ ক্যাচে শোয়েব মালিকের আউট ছিল আমাদের এই ম্যাচ জেতার আগাম বার্তা।

লিটনের এক ম্যাচ ফেলা ও মাহমুদউল্লাহর রান আউট করতে না পারা বাদ দিলে ক্যাচিং, স্টাম্পিংসহ দারুণ তৎপর গ্রাউন্ড ফিল্ডিং হয়েছে। দলের ট্রেইনার ও ফিজিও খেলোয়াড়দের ফিট রাখার ব্যাপারে পর্দার আড়ালে অনেক ভালো কাজ করছেন।

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে হেড কোচ থাকার সময় বাংলাদেশ দলের সাফল্যের মূল কাণ্ডারি হিসেবে তিনিই মুখ্য হয়ে উঠতেন, দল বা খেলোয়াড়রা গৌণর কাতারে থাকতেন। তাই এই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে মুশফিক-মাশরাফিরা এই বিষয়টি প্রমাণ করলেন, হাথুরুসিংহের বিদ্যাপীঠ ছাড়াও তাদের অর্জিত ও চর্চিত মেধা দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় ও ফাইনাল খেলা যায়।

পাকিস্তানের সঙ্গে জয় পেলেও আমি মনে করি ফাইনালের একাদশে নাজমুল ইসলাম অপুকে নেওয়া উচিত। মুমিনুল হকের জায়গায় মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং অর্ডার ৭ এর পরিবর্তে ৬ নম্বরে আনা উচিত। উইনিং কম্বিনেশন খেলার তত্ত্বে আমি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বিশ্বাসী নেই, আর এটা হচ্ছে টুর্নামেন্ট। প্রতিদিন নতুন প্রতিপক্ষ। ভারত যথেষ্ট শক্তিশালী তার ব্যাটিং, পেস ও স্পিন বোলিংয়ে। একই মাঠে সব ম্যাচ খেলার বাড়তি সুবিধা তারা নিয়েছে। তারপরও হংকং ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ হারার শঙ্কায় তারা পড়ে গিয়েছিল।

ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে উদ্বেগ দুই দলেরই থাকে, তবে ফেভারিটরা বেশি চাপে থাকে আন্ডারডগ দলের চেয়ে। এই ধরনের বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা একটা বড় ব্যাপার এবং তামিম-সাকিবের অভাব পূরণ করার জন্য, বিশেষ করে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ও অপুকে অনেক বেশি সফল হতে হবে। ফাইনালটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক এবং তৃতীয়বার ফাইনালে উঠে শিরোপা জেতার প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহারে দলকে তৎপর দেখতে চাই।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ