বোলিংয়ে বাংলাদেশের সেরা ফাইটব্যাক

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৬:১৪, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২১, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮

ফাইনালে নিঃসন্দেহে ভারত ছিল ফেভারিট। তবে ফাইনালে ফেভারিটই চাপে থাকে বেশি। যদিও ৫০ ওভারের ম্যাচ হওয়ায় অভিজ্ঞতার আলোকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সুযোগ তারা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগায়।

বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের সেরা দল না হলেও শুক্রবার দিনের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে নেমেছিল খেলতে এবং চমৎকার স্ট্রোকস খেলার সহায়ক কন্ডিশনে দারুণ সূচনা এনে দেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। উইকেটে এই জুটির ২১ ওভার পর্যন্ত টিকে থাকা বা দারুণ স্ট্রাইক রেট সহ ১২০ রান তোলার আনন্দে অনেক বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আমাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের মাঝে। দর্শকের মতো তারাও হয়তো ২৮০ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলেন। কিন্তু ব্যাট হাতে যখন উপলব্দি করলেন পিচ ক্রমান্বয়ে স্লো হয়ে আসছে, তখন পরিস্থিতির আলোকে মুশফিকের উচিত ছিল আকাশে উড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে ছড়ানো ফিল্ডিংয় থেকে ১ বা ২ রানে মনোযোগী হয়ে আরেকটি জুটি গড়ে তোলা এবং ১২০ রানের সংগ্রহের সুবিধা কাজে লাগানো। মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ ও মিঠুনের লিগ ম্যাচের অবদান দলকে ফাইনালে নিয়ে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রাখলেও তাদের কাছ থেকে আরও অনেক দায়িত্বশীল ব্যাটিং চূড়ান্ত ম্যাচে ছিল অনেক বেশি আকাঙ্ক্ষিত।

এমন দারুণ একটি ব্যাটিং সূচনার এভাবে করুণ সমাপ্তি হবে, এটা কেউই ভাবেনি। পুরো ৫০ ওভারও আমরা ব্যাটিং করতে পারলাম না। ফাইনালে তিন-তিনটি রান আউট বলে দেয় হঠাৎ করে উইকেট হারানোর আতঙ্ক আমাদের খুব বিচলিত করে দিয়েছিল। লিটন দাসের স্টাম্পিং আউটের সিদ্ধান্ত যেভাবে টিভি আম্পায়ার রায় দিলেন, তার নিন্দা জানানোর কোনও ভাষা আমার জানা নেই। এমন ধরনের সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের মনে অনেক বড় ঝড় তোলে এবং ভেবেছিলাম খানিক পরে ফিল্ডিংয়ে নামা পুরো দলের ওপর তার একটা প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ২২২ রানের পুঁজি নিয়ে মনের ঝড়কে আড়াল রেখে বল হাতের লড়াই ছিল আমার দেখা বাংলাদেশের সেরা ফাইটব্যাক। ফাইনাল ম্যাচে মাত্র ২২২ রানের পুঁজি নিয়ে আমাদের পেস বোলাররা মন্থর উইকেটের ফায়দা নিতে অসাধারণ লাইনে বল করেছে এবং নিখুঁত লাইনের সঙ্গে তাদের থ্রি কোয়াটার লেন্থ ছিল মূল অস্ত্র। নতুন বলের উজ্জ্বলতায় ভারতের ব্যাটিং শুরুতে কিছু রান পেলেও দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নেওয়া ছিল এ ম্যাচে কামব্যাক করার শুভসূচনা।

পরবর্তীতে পিচের গতি মন্থর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের পেস বোলাররা প্রয়োজনীয় ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে কম রান খরচের মাধ্যমে দারুণভাবে খেলায় ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশকে, যা ছিল উপভোগ্য ও দৃষ্টিনন্দন। তবে দলের সেরা স্পিনার মিরাজ তার সেরা ছন্দে না থাকায় মাশরাফিকে ঝামেলায় পড়তে হয়। তাছড়া ক্যালকুলেশনের গড়মিলে শেষ ওভারটি করার জন্য দলের স্বীকৃত কোনও বোলারের ওভার বাকি না থাকায় ঝামেলা আরও বাড়ে। ব্যাটিংয়ে প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগালেও তার মূল বোলিংয়ের কাজটিতে মিরাজ মোটেও জ্বলে উঠতে পারেননি।

ফাইনাল জেতার যে প্রবল বাসনা নিয়ে দলকে লড়তে দেখলাম, তা আমাদের নৈপুণ্য ও মনসিক সামর্থ্যের সময় উপযোগী প্রয়োগের উন্নতির কথাই জানান দিয়েছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে আমাদের সেরাটা দিতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ঘরোয়া আইপিএলের অভিজ্ঞতার আলোকে দলটি ভারত বলেই ম্যাচ হেরে যাওয়ার আতঙ্ক খুব স্পর্শ করলেও তাদের ব্রেইনকে যথেষ্ট ফোকাসও রেখেছিল শেষ বল পর্যন্ত। এই মানসিক শক্তি ও আইপিএলের অভিজ্ঞতা তাদের ফাইনালে জিতিয়েছে।

মাশরাফি ও তার দলকে অনেক অনেক অভিনন্দন। অনেক প্রতিকূলতার মাঝেও পুরো টুর্নামেন্টে চমৎকার খেলেছে তারা। তাই বাংলাদেশ ট্রফি না পেলেও অনেক সুখস্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরবেন আমাদের হিরোরা।

/কেআর/

লাইভ

টপ