ধ্রুপদী ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন এল ক্লাসিকো। এতদিন রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার এই বিজ্ঞাপনের কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তাদের থাকাতে উত্তেজনা, রোমাঞ্চের পারদ ছুঁয়ে যেত শীর্ষ। অথচ এবারই প্রথম সেই বিজ্ঞাপন থেকে গায়েব দুই মহাতারকা! ২০০৭ সালের পর মাঠে গড়াচ্ছে মেসি-রোনালদোহীন দ্বৈরথ। রবিবার রাত সোয়া ৯টায় মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। দেখাবে সনি টেন-২।
জুভেন্টাসে চলে যাওয়া রোনালদোর না থাকাটা অনুমেয় ছিলো। অন্তত মেসি ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকে। ভাগ্যদেবীর বেখেয়ালে সেই চাওয়া থেকেও বঞ্চিত হলেন সবাই। চোট নিয়ে এবার মেসিকেও থাকতে হচ্ছে এমন দ্বৈরথের বাইরে। অথচ এই মেসি ম্যাজিকেই গত বছরের এল ক্লাসিকোতে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলো বার্সেলোনা। নির্ধারিত সময়ে যখন ড্রই সম্ভাব্য ফল ছিলো তখন ইনজুরি সময়ের একেবারে শেষভাগে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন মেসি। এই বছরের মে মাসে হওয়া ক্লাসিকো অবশ্য শেষ হয়েছিলো ২-২ ড্রয়ে। সেখানেও দুই মহাতারকা মাঠ কাঁপিয়েছিলেন।
ক্লাসিকোতে এবার কে গড়ে দেবেন পার্থক্য? বার্সার জন্য যেমন বিষয়টা ভাববার উল্টো দিকে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বিষয়টা আরও বেশি জটিল। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় আছেন রিয়াল কোচ হুলেন লোপেতেগি। গত এক মাসে ৫ হারে আটকে থাকা শ্বাস বের হওয়ার পথ পায় ভিক্টোরিয়ার প্লজেনকে চ্যাম্পিয়নস লিগে হারিয়ে।
এবার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। বলা হচ্ছে আজ ন্যু ক্যাম্পে জয়ের দেখা না পেলে চাকরি হারাবেন লোপেতেগি! যদিও রিয়াল মাদ্রিদ কোচ এমন রূঢ় কিছু নিয়ে পড়ে থাকতে নারাজ, ‘আমাদের সামনে এমন একটি খেলা যেটা খুব আকর্ষণীয় কিছু। তবে এসব কিছু ভাবলে তা আমার খেলায় প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে না।’টানা হারে যখন শ্বাস ফেলা দায় তখন লোপেতেগির জবাব, ‘আমার শ্বাস ফেলতে সমস্যা হচ্ছে না। আমার মনে হয় না যে আমি মরতে যাচ্ছি।’
পয়েন্ট টেবিলে ৯ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বার্সা। সমান ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আটে রিয়াল। তারপরেও প্রতিপক্ষকে সেরার মর্যাদা বার্সা কোচ এরনেস্তো ভালভারদের, ‘রিয়াল যত বেশি আহত হবে তত বেশি হিংস্র হয়ে ধরা দেবে।’ এখন দুই ক্লাবের মহাতারকা ছাড়া কে কত হিংস্র হতে পারে তা বোঝা যাবে ম্যাচের পর।
এক নজরে
১. ন্যু ক্যাম্পে গত ৪১ লিগ ম্যাচে অপরাজেয় বার্সেলোনা।
২. রিয়াল মাদ্রিদ শেষ দুই লা লিগা ম্যাচেই হেরেছে। বার্সেলোনার বিপক্ষে রোনালদো যখন ক্লাবে ছিলো ওই সময়ে তাকে ছাড়াই দুটি ম্যাচে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
৩. বার্সায় মেসির আসার পর ক্লাসিকোতে তাকে ছাড়া একটি ম্যাচেও জয় পায়নি বার্সা। ড্র করেছে, একটি হার একটিতে।








