‘আমরা কিন্তু এশিয়ার সেরা’

Send
রবিউল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০:৫৫, নভেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৮, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

নিগার সুলতানাএশিয়া কাপ জয়ে আত্মবিশ্বাসের পারদ ছুঁয়েছে আকাশ। বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরেও দেখছে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন। যে স্বপ্নের শুরুটা হচ্ছে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আগামীকাল (শুক্রবার) শুরু হতে যাওয়া ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন, লক্ষ্য কী, ব্যক্তিগত স্বপ্নই বা কী- এই নিয়েই বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটার নিগার সুলতানা।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত?

নিগার সুলতানা: ওয়েস্ট ইন্ডিজে আসার আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের সিরিজটা ভালো হয়নি। সিরিজ শেষে কোচ, অধিনায়ক, ম্যানেজার ও টিম ম্যানেজমেন্ট সবাই মিলে কথা হয়েছে। সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে- সেই সব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করেছি। এখানে দুই সপ্তাহ আগে এসে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো অনেকেই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারটা মেনে নিতে পারেননি। আমি বলতে চাই, আমরাই কিন্তু কয়েক মাস আগে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিলাম। তখন যদি পারি, তবে এখন কেন পারব না। এশিয়া কাপে আমরা দল হিসেবে পারফর্ম করেছিলাম, এখানেও তেমনটাই করতে হবে। সত্যিকার অর্থে, বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্মৃতি মোটেও সুখকর নয়। গত দুই আসরের ব্যর্থতার পর এবারের টুর্নামেন্টের লক্ষ্য কী?

নিগার: আমরা অনেকদিন ধরে খেললেও আমাদের ম্যাচের সংখ্যা কম। যে কারণে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থেকেই যায়। একটা দেশ যখন ২০-২৫টি টি-টোয়োন্ট খেলে, তখন আমরা খেলি ৩-৪টি। তবে এবারের আসরের আগে আমরা বেশ কিছু ম্যাচ পেয়েছি। আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে। আশা করি এবার ভালো করতে পারব। আমাদের লক্ষ্য সেরা আট নিশ্চিত করা। শেষ আটে থাকতে পারলে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবো। প্রতিপক্ষ তখন আমাদের খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে। এর বাইরে আমরা সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখছি। আশা করি স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।

প্রশ্ন: স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়াও ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। এই ম্যাচগুলো ঘিরে প্রত্যাশা কী?

নিগার: এখানে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। হয়তো সব ম্যাচ জিততে পারিনি, কিন্তু কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। কোথায় ভুল হচ্ছে, সেই সব জানতে পেরেছি। আমরা হার নিয়ে ভাবছি না। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামলে জেতা সম্ভব। ওরা হয়তো ভালো দল, তবে লড়াকু মানসিকতার কারণে আমরা কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকব।

প্রশ্ন: ওয়েস্ট ইন্ডিজের কন্ডিশন তো একেবারে অচেনা...

নিগার: আইসিসির টুর্নামেন্ট হওয়ায় উইকেট স্পোর্টিং হবে বলেই আমাদের ধারণা। সবচেয়ে বড় কথা উইকেট যেমনই হোক, আমাদের খেলতেই হবে। তারপরও আমরা এখানে দুই সপ্তাহের ক্যাম্প করেছি, দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছি। এর বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অভিজ্ঞতা এখানে কাজে দিতে পারে। ওই কন্ডিশনের সঙ্গে এখানকার কন্ডিশনের অনেকটাই মিল আছে।

প্রশ্ন: মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব সবসময়ই বেশি থাকে। আপনি কতটা প্রস্তুত?

নিগার: প্রস্তুতি সবসময়ই থাকে। আমি যেখানে ব্যাটিং করি, সেই জায়গাতে আমাকে কয়েকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। রান তাড়ায় ব্যাটিং করলে একরকম, ওপেনিংয়ে ধস নামলে আবার অন্যভাবে। আবার ওপেনিংয়ে ভালো রান এলে রানের ধারা ঠিক রাখতে আমাকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংও করতে হবে। পরিস্থিতির ওপর সব নির্ভর করে, তবে যে কোনও অবস্থায় ব্যাটিং করতে আমি প্রস্তুত।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?

নিগার: আমি কখনোই ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে সেভাবে ভাবি না। ভাবতে গেলে চাপে পড়ে যেতে হয়। এতটুকুই ইচ্ছা বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করা। এখানে সবার নজর থাকে। এখানে ভালো করলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। যদিও সবকিছু ছাপিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখাটাই মুখ্য।

প্রশ্ন: আইসিসির সেরা পাঁচ উদীয়মান তারকার একজন আপনি। এমন স্বীকৃতি কতটা অনুপ্রাণিত করে?

নিগার: যে কোনও স্বীকৃতিই আনন্দদায়ক। নিঃসন্দেহে আইসিসির এমন স্বীকৃতি আমাকে ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো করতে উন্মুখ হয়ে আছি। আশা করি বাংলাদেশের জার্সিতে নিজেকে উজাড় করে দিতে পারব।

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ