বড়ই বেহাল অবস্থা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ০১:০৩, ডিসেম্বর ০২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৬, ডিসেম্বর ০২, ২০১৮

c54ca63323076388509d326956b31e05-5bde80f06cd24প্রথম ইনিংসের শেষে ভালোই লাগছিল বাংলাদেশের দারুণ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখে। দলীয় ৫০৮ রানের পুঁজি সাকিবসহ পুরো দলকে নিঃসন্দেহে দারুণ উজ্জীবিত করেছিল। এর চেয়ে ভালো শুরু আর কী হতে পারে। দিনের বাকি ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই বা তিনটা উইকেট এক ব্যাটিং উপযোগী পিচে ফেলতে পারলেও চরম প্রশান্তি নিয়ে আমাদের দল হোটেলে ফিরত হলপ করে বলা যায়।

অথচ প্রথম ১২ ওভারে মাত্র ২৯ রানে প্রথম ৫ উইকেটের পতন হবে তা বাংলাদেশ কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রীড়া সাংবাদিকরা বা ম্যাচটা যারা দেখছিলেন কেউ কি আগাম ধারণা করতে পেরেছিলেন! ক্রিকেটে এমন ঘটনা ঘটে, তবে এই পিচে এমন দৃশ্য দেখতে হবে তা অতিমাত্রার কোনও ফ্যানাটিক সাপোর্টার ছাড়া কেউ কল্পনাও করেননি। কৃতিত্ব দিতে হবে আমাদের স্পিনারদের, চট্টগ্রাম টেস্ট ম্যাচে তারা ভীতির সঞ্চার করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের মনে সেই দুঃস্বপ্ন একটি ভিন্ন ভেন্যুতে সম্পূর্ণ নতুন একটি ম্যাচেও তাদের তাড়া করে বেড়িয়েছে। সাকিব ও মিরাজ নতুন বলে দারুণ জায়গায় বল করেছেন, বোলিং ক্রিজের কোণা থেকে যে অ্যাঙ্গেলের সৃষ্টি করেছিলেন তাতেই পরাস্ত হলেন সবাই। চওড়া ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে বোল্ড হলেন একাধারে। একমাত্র শাই হোপের বলটিই নিচু হয়ে গিয়েছিল। নতুন বলের বাড়তি বাউন্স বা টার্ন কোনোটাই ছিল না, যাতে ব্যাটসম্যানরা বিচলিত হতে পারেন। তবে দুই প্রান্ত থেকে স্পিন বল সামলানোর ভীতি ও স্পিনের বিপক্ষে তাদের দুর্বল টেকনিক অনেক সহজ করে দেয় সাকিব ও মিরাজের সাফল্যের মুখ দেখতে।

দুই দিনের ১৫৪ ওভার ফিল্ডিং করে শারীরিক ও মানসিকভাবে ওয়েস্ট ইন্ডজ দল ড্রেসিং রুমে ফিরতে না ফিরতেই দলের ১৩তম ওভারে ৭ নম্বর বাটসম্যান পিচে চলে গেছেন ব্যাট করতে। ৮ ও ৯ নম্বর ব্যাটসম্যান কি অস্থিররতার মধ্যে প্যাড পড়ছে এটা কি একজন ক্রিকেটার হিসাবে দূর থেকে কল্পনা করে হাসি পাচ্ছিল ও দুঃখ লাগছিল? ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের এমন বেহাল অবস্থা দেখে হোম সিরিজে আমরা নিশ্চয় আমাদের অবস্থান থেকে উন্নতি করেছি, সেটা তো দৃশ্যমান। কিন্তু উইন্ডিজ ক্রিকেট তো গড়িয়ে গড়িয়ে সমতল ভূমিতে নিয়ে পৌঁছাচ্ছে, সেই ব্যাপারে একটি বোর্ড কীভাবে এত উদাসীন হতে পারে! টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট এখন তাদের সম্ভ্রম বাঁচাচ্ছে, তিন ফরম্যাটেই ভিন্ন ভিন্ন দল সাজানোর মতো যথেষ্ট কৌশলী খেলোয়াড় এই মুহূর্তে তাদের হাতে নেই যারা দেশের বাইরেও সমান দক্ষতা রাখতে পারে।

স্পিনের বিপক্ষে চমত্কার ফুটওয়ার্কসহ ড্যাশিং শিমরন হেটমায়ার ও দলের সবচেয়ে ভালো স্পিন খেলতে পারা ব্যাটসম্যান শেন ডাউরিচ এই মুহূর্তে দলের বিপর্যয়ে জুটি বেঁধে লড়ে যাচ্ছেন। পিচে এই দুই ব্যাটসম্যানের উপস্থিতি বলে দেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কতদূর যেতে পারবে প্রথম ইনিংসে।

এই টেস্টে সবচেয়ে সাবলীল ব্যাট করেছেন লিটন দাস। চমৎকার কিছু শটস খেলেছেন এবং একইভাবে তার মেধার সর্বোচ্চ অপচয় কীভাবে করতে হয় তাও দর্শকদের দেখিয়েছেন। তবে লিটনের সমর্থন পাওয়ার কারণেই ৭ নম্বরে ব্যাট করা মাহমুদউল্লাহ সেঞ্চুরির মুখ দেখেছেন। এত নিচে ব্যাট করলে অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সমর্থনের অভাবে তার ইনিংস বড় করার সুযোগ তিনি বারবার পাবেন না। তবে দ্বিতীয় দিনে রিয়াদের নৈপুণ্য ও ধারাবাহিকতা যে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগের আস্থা পুনরুদ্ধারে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে সেই ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। ফলো অনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামছে এই লগ্নটি দুই চোখ ভরে দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ