তামিম-সৌম্যর সেঞ্চুরিতে বিসিবি একাদশের জয়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৫৪, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৯, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের তামিমের একটি শটপেস বোলারদের সামনে ঠিকঠাক হচ্ছিল না তামিম ইকবালের ব্যাটিং। মিরপুরের একাডেমি মাঠের নেট অনুশীলনে অস্বস্তি থাকলেও দুশ্চিন্তা ছিল না বাংলাদেশ ওপেনারের মনে। চোখ রেখেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে। বৃহস্পতিবার এই ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরেই ঝড়ো সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দেখালেন, চোট কিছুই করতে পারেনি তার!

সৌম্য সরকারের চোট জাতীয় কোনও সমস্যা ছিল না। তবে নিজেকে প্রমাণের ব্যাপার তো ছিলই তার। মূল লড়াইয়ের আগে সেই পরীক্ষায় পুরোপুরি সফল এই ব্যাটসম্যান। ওয়ান ডাউনে নেমে তিনিও পেয়েছেন সেঞ্চুরি। হার না মানা ইনিংসে আত্মবিশ্বাসের পারদ তুলেছেন উঁচুতে।

ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে বিকেএসপির ৫০ ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচের হাইলাইট বাংলাদেশের এই দুই ব্যাটসম্যান। তাদের দুর্দান্ত শতকে ম্যাচটি জিতেও নিয়েছে বিসিবি একাদশ। আলো স্বল্পতায় ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে স্বাগতিক দল জিতেছে ৫১ রানে। তবে হার-জিত ছাপিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচের আসল যে উদ্দেশ্য, তাতে পুরোপুরি সফল তামিম, সৌম্য, মাশরাফি ও রুবেল।

লম্বা সময় পর মাঠে ফিরে বল হাতে সফল মাশরাফি। ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের ঝড়ের মুখে রুবেল হোসেনও ঝালিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। এরপরও স্কোর অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যায় সফরকারীরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে তারা করে ৩৩১ রান। এই সংগ্রহটাও বিসিবি একাদকের সামনে সহজ হয়ে যায় তামিমের ১০৭ ও সৌম্যর হার না মানা ১০৩ রানের ইনিংসে। স্বাগতিকরা ৪১ ওভারে ৬ উইকেটে ৩১৪ রান করার পর আলোর স্বল্পতায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা। তাতে ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে জয় পায় মাশরাফিরা।

এশিয়া কাপে ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়ার পর মাঠে ফিরেই ব্যাটে ঝড় তুললেন তামিম। দুই মাসেরও বেশি সময় পর মাঠে ফিরে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে মাত্র ৯ ওভারে ৮১ রানের জুটি গড়েন তামিম। ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরির পর শতক ছুঁয়েছেন তিনি ৭০ বল খেলে। ৭৩ বলে ১৩ চার ও ৪ ছয়ে ১০৭ রানে আউট হন এই ওপেনার।

তার দেখানো পথে হেঁটে সৌম্যও প্রস্তুতি সেরেছেন সেঞ্চুরিতে। ওয়ান ডাউনে নেমে ৮৩ বলে ৭ চার ও ৬ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন তিনি ১০৩ রানে। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে তার এই ব্যাটিং নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি ছড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্যাম্পে।

তবে ভালো শুরু করেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি ইমরুল, আউট হয়েছেন ২৫ বলে ২৭ রান করে। মোহাম্মদ মিঠুন তো পুরোপুরি ব্যর্থ, উইকেটরক্ষকের ভূমিকায় খেলা এই ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন মাত্র ৫ রানে। আরিফুল হক করেন ২১ রান। বোলিংয়ের প্রস্তুতি শেষে ব্যাটিংয়েও নেমেছিলেন মাশরাফি। সেখানেও প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার কথা বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের। ১৮ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় তিনি অপরাজিত ছিলেন ২২ রানে।

ব্যাটিংয়ের আগে মাশরাফি বোলিং করেছেন ৮ ওভার। উইকেট একটি পেলেও মিতব্যয়ী বোলিংয়ে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের দিয়েছেন ৩৭ রান। রুবেল ১০ ওভারে ৫৫ রান খরচায় পেয়েছেন ২ উইকেট। খরচ একটু বেশিই করেছেন নাজমুল ইসলাম, ২ উইকেট পেতে দিয়েছেন ৬১ রান।

বোলিংয়ে কিছুটা ঘাটতি থেকে গেলেও স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের প্রস্তুতি হয়েছে দুর্দান্ত। বিশেষ করে তামিম-সৌম্যর সেঞ্চুরিতে ওয়ানডে সিরিজের আগে স্বস্তির বাতাস বইছে টাইগার-ক্যাম্পে।

/কেআর/

লাইভ

টপ