বড়ই নিরুত্তাপ ক্রিকেট খেললো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:০৫, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৮, ডিসেম্বর ১০, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।টেস্টে যতই একপেশে হোক না কেন একদিনের ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আলো ছড়াবে এমন একটা ধারণা ছিলো অনেকেরই। বাংলাদেশকে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হবে ম্যাচ জেতার জন্য। এতগুলি দ্বীপুঞ্জের সেরা নক্ষত্ররা তাদের পছন্দের ফরম্যাটে ব্যাট ও বল হাতে বড়ই অনুজ্জ্বল ছিলো এবং পোশাকটা ভিন্ন থাকলে দলটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ চেনাই যেত না।

বাংলাদেশকে তাদের সামর্থ্যের সেরাটা্ দিতে বাধ্য করার মতো অবস্থা ম্যাচের কোন পর্যায়েই উইন্ডিজ সৃষ্টি করতে পারেনি। দর্শক হিসেবে মাঠে আসা যাওয়া নিয়ে যে ১০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ রেখেছিলাম, মাঠে খেলা দেখে তেমন কোন আনন্দই পেলাম না। কোনও পর্যায়েই ম্যাচের উত্তেজনা আমাকে স্পর্শ করেনি। বরং পুরনো দিনের খেলোয়াড়, সংগঠক ও অনেক পরিচিত মুখের সঙ্গে আড্ডাতেই বেশি কাটলো। ২০১১ বিশ্বকাপে এই দলটির সঙ্গেই আমরা দেশের মাটিতে ৫৮ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিলাম। মাঠে ঢুকে অনেক দর্শক বসার আগেই ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিলো। মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে মেধার অভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট শক্তি বিশ্ব ক্রিকেটকে ক্রমান্বয়ে এমন নিরুৎসাহিত করতে থাকবে ভাবিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট ব্র্যান্ড হিসেবে তার মূল্য ক্রিকেট বিশ্বে পর্যায়ক্রমে হারাচ্ছে। তাদের শারীরিক গঠনের শক্তি কাজে লাগানোর মতো উপযোগী পিচ পেলে তাদের পুরনো গৌরবময় ক্রিকেটের প্রদর্শনী মাঠে দর্শকরা উপভোগ করার সুযোগ পেতে পারেন।

সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এগিয়েছে এবং তার একটা বড় অংশই ঘরের মাটিতে। এই বিষয়গুলি বেশ বড় দলগুলির সঙ্গে পর্যায়ক্রমে হওয়ায় বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে দেশের সম্মান ও র‌্যাংকিং সবই বাড়ছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে কাল স্পিনারদের দিয়ে নতুন বলে শুরু করার কৌশলকে পূর্ণাঙ্গভাবে সফল করেছে আমাদের পেস বোলাররা। মোস্তাফিজ, মাশরাফি ও রুবেলের চমৎকার লেন্থের বল এই মন্থর পিচে সবচেয়ে কার্যকর ছিলো এবং তার সঙ্গে কিছু বল একটু বাইরের লাইনে করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘পাওয়ার হিটিং’ বলকে সীমানার বাইরে নিয়ে যেতে পারেনি। অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে তামিমের প্রত্যাবর্তন সবার চোখ জুড়িয়েছে। ড্যারেন ব্রাভো ৫১ বলে ১৯ রান ও স্যামুয়েলসের ৪৮ বলে ২৫ রান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই ম্যাচে প্রাথমিক ভাবে যথেষ্ট পিছিয়ে দেয়। এই তারকাদ্বয়ের সিঙ্গেল রোটেড করার ব্যর্থতা কারোরই নজর এড়ায়নি। এমন পরিস্থিতি থেকে দলকে পুনরূদ্ধার বা যে কোন ম্যাচে দলের বিজয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখার মতো একজন খেলোয়াড় আছেন এই দলে। সেই শিমরন হেটমায়ারের দ্রুত বিদায় তাদের শুধু ৫০ ওভার পিচে টিকে থেকে কিছু রান করার পেছনে মনোনিবেশে বাধ্য করায়।

এই ম্যাচে মাশরাফিকে বোলিংয়ে দিক নির্দেশনা নিয়ে কখনই চাপের মুখে পড়তে হয়নি এবং নিজের বোলিং নৈপুণ্যতেও ছিলেন উজ্জ্বল। শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে চাপের মুখে পড়ে যাওয়ায় আমাদের মোস্তাফিজ, রুবেলরা চাপমুক্ত বল করেছেন পুরো ম্যাচে। বিচ্ছিন্ন কিছু বল হঠাৎ করেই বাড়তি বাউন্স নিয়ে ব্যাটসম্যানদের স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট করেছে। দুটি সহজ ক্যাচ ফেলা ছাড়া ফিল্ডিং নিয়ে বাংলাদেশের অসন্তুষ্ট হওয়ার কোন কারণ দেখি না। দিনের প্রথম অংশের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে ১ দিনের ম্যাচের দর্শকদের চাহিদা মেটানোর দিক থেকে চট্টগ্রামের ওয়ানডে পিচ ঢাকার চেয়ে উভয় সেশনে অনেক উপযোগী ছিলো।

১৯৫ রানের পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াইটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্য অনেক কঠিন হবে। হয়েছেও তাই। ৩৫ ওভারেই খেলা শেষ, তবে ৫টি উইকেট তুলে নেওয়াটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের একমাত্র প্রাপ্তি। থমাসের বোলিংয়ের গতি এবং বাউন্স বিনোদনের খোরাক ছিলো কিন্তু তার লাইনটি এলোমেলো না হলে একটা উপভোগ্য ব্যাট বলের লড়াই হতে পারতো। সব ধরনের পিচে প্রাণ সঞ্চারের সক্ষমতা এখন আর কৌশলী কেমার রোচের বোলিংয়ে নেই। কিমো পলকে আমার ইমপ্রেসিভ মনে হয়েছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা সদয় না হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদ্বয় এই সিরিজে তেমন সফল হবেন বলে আমার মনে হয় না।

সফলভাবে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। রিয়াদের জায়গা ছয়ের নিচে যাওয়াটা ভালো লাগেনি। যদি এটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির একটি অংশ হয়, ৪ ওপেনার থেকে ১,২ ও ৩ নম্বর পজিশনে তিনজনকে বেছে নেওয়া উত্তম। সারা বছর যারা ৬-৭ নম্বরে ঘরোয়া ক্রিকেট বা ‘এ’ দলের হয়ে সেরা পারফর্ম করে জাতীয় দলে আসতে চায় তাদের জন্য বড় পরিসরে খেলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ওপেনিংয়ের মতো জায়গার জন্যে যদি আমরা চার-পাঁচজন ওপেনার তৈরির আবহাওয়া করতে পারি তাহলে ৬-৭ নম্বর পজিশনেও তেমন একটা আমেজ আমরা তৈরি করতে পারবো। 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ