সিরিজে সমতা আনতে অনেক তৎপর ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১১:৩৪, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৩, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।কাল অনেক দিন পর একদিনের ম্যাচের আদর্শ পিচ মনে হয়েছে মিরপুরের উইকেটকে। ম্যাচের উভয় অর্ধেই আচরণ ছিলো কাছাকাছি। রাতে কুয়াশার মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকায় বোলারদের ভোগান্তির মাত্রাটা বিদ্যমান ছিলো না। ব্যাট ও বলের সমতা ছিলো চমৎকার। জয় পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে দু দলের মেধার লড়াইয়ে।

প্রথম ম্যাচের পর্যবেক্ষণ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টিম ম্যানেজমেন্ট বুঝতে পেরেছিলো রাতে ব্যাটিংয়ে কিঞ্চিত বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় এবং পরিস্থিতি দলীয় সক্ষমতার আলোকে বোলারদের চেয়ে তাদের ব্যাটসম্যানদের ওপর ভরসা করেই দ্বিতীয় ম্যাচে রান চেজ করার সিদ্ধান্তে যায়। তাদের সফলতার পেছনে যেমন তাদের আকাঙ্ক্ষার কমতি ছিলো না। তেমনি আমাদের দুর্বল ক্যাচিং সিম বোলারদের ম্যাচের শেষ সময়ে নিজেদের সেরাটা না দেওয়ার ব্যর্থতা, পাশাপাশি স্পিন বোলিং বণ্টনের গড়মিল শেষ অব্দি ম্যাচটাকে আমাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

প্রথম ম্যাচের পিচের মন্থর আচরণ আমাদের পেস বোলারদের সফল সাহায্য করেছে বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের তাদের শটের পেছনে শক্তির প্রয়োগে অন্তরায় হয়েছিলো। কিন্তু কাল বল ব্যাটে আসায় আমাদের বোলারদের মন্দ বল কোন ছাড় পায়নি। তাদের অনেক শট সরাসরি ফিল্ডারের হাতে যাওয়ায় ওভার প্রতি রানের গতি আরও দ্রুত হয়নি। টেস্ট ম্যাচে যখন আপনি ৮০-৯০ ওভারে একজন বা দুজনকে দিয়ে এক ইনিংসে ৪-৫ ওভার বল করাবেন এবং এই পেস বোলিং ইউনিটকে ৭ দিন ৫০ ওভারের ম্যাচে ২৮ থেকে ৩০ ওভার বল করতে বলবেন তখন তারা দলের প্রত্যাশার দাবি অধিকাংশ সময় ভালো ব্যাটিং পিচে চাহিদা মোতাবেক মেটাতে পারবে না। ম্যাচ জেতার দুর্দান্ত নেশায় টেস্ট সিরিজে পেসারদের ওপর আস্থা ছিলো শূন্যের কোঠায় ও তাদের ম্যাচে বল করার সুযোগ না থাকায় নিজের বোলিং সামর্থ্যের আস্থার পরীক্ষা ও উন্নতির লক্ষ্য স্থিরের সুযোগ ছিলই না। অথচ কাল ৪৮ ও ৪৯ ওভারে মোস্তাফিজ বা রুবেল রান কম দেওয়ার ব্যাপারে বা উইকেট তুলে নেওয়ার ব্যাপারে মুন্সিয়ানা দেখাতে পারতেন তাহলে জয় আমাদেরও হতে পারতো। যেটি আমাদের ব্যাটিংয়ের শেষ ৫ ওভারে কেমার রোচের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কাল করে দেখিয়েছে। মূলত আমাদের কোন একজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান লম্বা ইনিংস খেলতে না পারায় ও শেষ ১০ ওভারের দুর্বল ব্যাটিং আমাদের সম্ভাব্য ২৮০ রানের লক্ষ্য অর্জনের অন্তরায় হয়।

২৫৬ রানকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে দুই প্রান্ত থেকে ৮ ওভার স্পিনারদের ব্যবহার করায় বাকি ৪২ ওভারের অধিকাংশ সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের পছন্দের পেস বোলারদের দিয়ে বল করতে হয়। যদিও ৫টি উইকেট তুলে নেওয়ার ব্যাপারে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা মোটেও বিচলিত ছিল না। কারণ টার্গেট অসম্ভব ছিলো না। কাল হেটমায়ার দ্রুত আউট না হলে অনেক অনায়াসেই এই ম্যাচ শেষ হয়ে যেত তবে ভারতের মতো শাই হোপ এক প্রান্ত আগলে অনেক বড় ইনিংস খেলে অনেকটা একাই ম্যাচ জেতালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ভারতের সঙ্গে যা তিনি সুন্দর ফিনিশিং দিতে পারেননি তা কাল পূর্ণতা পেলো।

স্পিন দাপটে টেস্ট সিরিজ জয়ে আমাদের মান বেড়েছে তবে পেস বোলারদের না খেলিয়ে বা তাদের খেলানোর মতো পিচ না তৈরি করে তাদের ধার কমানো হয়েছে। যার মূল্য কাল দিতে হয়েছে এবং দেশের বাইরেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। সিলেটে ম্যাচ জয়ের শেষ চেষ্টা দু দলই করবে ব্যাট ও বল হাতে। তবে পিচ পরিচর্যার নিয়ন্ত্রণটা দেশের মাটিতে আমাদের হাতে থাকায় তার সদ্ব্যবহারের ওপরও সিরিজের ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে আমার ধারণা। তেমনটিই যদি হয় তবে দুদলই তাদের ক্রিকেট সেন্স ও মেধা দিয়ে লড়াই করুক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্যে। তা অবলোকন করার প্রত্যাশায় রইলাম। 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ