আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হলো বড়ই দাপটের সঙ্গে

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২৩:২৪, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩২, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।এই একদিনের সিরিজটা জেতার আকাঙ্ক্ষা যেমন খেলোয়াড়দের মাঝে ছিলো। ঠিক তেমনি দেশের সব ক্রিকেট ভক্তরা চাচ্ছিল প্রাপ্ত সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটার বিপক্ষে দাপুটে একটা জয় দেশের মাটিতেই দেখতে।

তামিম ও সাকিবের মূল একাদশে ফেরত আসার কারণে সফলতার মুখ যে আমরা দেখবো সেই বিশ্বাসটা ক্রিকেট অনুরাগীরা বুকে লালন করছিলো। সিরিজে ১-১ সমতা এলে কিছুটা সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছিলো। তবে শেষ ম্যাচে আগা গোড়া এতটাই প্রভাব বিস্তার করে মাশরাফির দল মাঠে খেললো যে মনে কোন কষ্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলোয়াড়দের। সেরা দল হিসেবেই সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।

সিলেটে আগে বাংলাদেশ ব্যাট করলে হয়তো এই খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রাটা একটু বাড়লেও বাড়তে পারতো, বাংলাদেশই ম্যাচ জিততো। ফলাফল এতটা একপেশে হতো না। দ্বিতীয় সেশনে পিচ বাড়তি সাহায্য করেছে ব্যাটসম্যানদের। যার যথার্থ ফায়দা তুলেছে আমাদের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা।

দুঃখজনক হলেও সত্যিই শাই হোপের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ব্যাটসম্যানদের মানের ফারাকটা ফুটে উঠেছে প্রকটভাবে। পিচের আচরণের সঙ্গে বা প্রতিপক্ষের বোলিং বৈচিত্র্যের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার মাত্রাটা মোটেই ভালো ছিল না। ব্যাটিং স্বর্গ পিচে বা যে সেশনে পিচ ব্যাটসম্যানকে সাহায্য করে সেই সময় এরা হয়তো ঠিকই আরো জোরেশোরে লড়াই করতে পারবে। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ৫ উইকেটের মাঝে মিরাজ দ্রুত ৪ উইকেট তুলে নেওয়াতে আমাদের অন্য বোলারদের উপর আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার মুডে ওরা কখনোই ছিলো না। শাই হোপ একদিকে টিকে না গেলে এই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পরিস্থিতিটা হতো বড়ই করুণ। বড়ই গদবাঁধা ক্রিকেট খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আন্ডারডগ দল হিসেবে ব্যাটিংয়ে ৩ নম্বরে ওরা শিমরন হেটমায়ারকে পিঞ্চ হিটিংয়ের দায়িত্ব দিতে পারতো ফিল্ড রেস্ট্রিকশনের সুবিধা বা মাশরাফির বোলিং পরিকল্পনার ছন্দে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য। তার পাশাপাশি মিতব্যয়ী না হলেও উইকেট তুলে নেওয়া বা মন্থর উইকেটেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের থমাস কিছুটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করলেও করতে পারতো তার বলের গতি দিয়ে। তাকে একাদশে না দেখে একটু বিস্মিত হয়েছি।

১৯৮ রানের পুঁজিকে টপকাতে আমাদের তেমন বেগ পেতে হবে না এই বিশ্বাস ছিলো যদি না ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিংয়ের শুরুতেই দারুণ কোন মোমেন্টাম না পায়। লিটন দাসের খামখেয়ালীপূর্ণ শট সুযোগ করে দেয় সৌম্য সরকারকে দারুণ এক ইনিংস খেলার জন্য। নিজের খেলা শটের মুগ্ধতায় নিজের ইনিংসের প্রতি অমনোযোগী হওয়ায় তার ইনিংসটি ৮০তেই থেমে যায়। তবে তামিমের ইনিংসটি ছিলো দারুণ পরিপক্ক। আকর্ষণীয় ও তরুণদের জন্য শিক্ষণীয়। সহজ টার্গেট থাকায় কোনও ঝুঁকিপূর্ণ শট তিনি খেলার প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করেননি। সেঞ্চুরি অর্জনের নেশার চেয়ে বলের মেধার প্রতি বিচার করেছেন প্রকৃত পেশাদার ক্রিকেটারের মতো।

এই সিরিজ জয় আমাদের সবাইকে আনন্দ দিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যান বা বোলাররা চাপের মাঝে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পরীক্ষা আমাদের দলের খেলোয়াড়দের থেকে নিতে পারেননি। তাই নিউজিল্যান্ড সফরের আগে ম্যাচ প্রস্তুতিটা যথেষ্ট ভালো হয়েছে বলা যাবে না। তবে প্রতিপক্ষকে তাদের সেরাটা খেলতে না দেওয়ার সাফলতা আমাদের দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে কোনও সন্দেহ নেই। দ্বিতীয় ম্যাচ হারাতে তৃতীয় ম্যাচ তার সেরা একাদশ পেয়েছে। মিঠুনকে মিডল অর্ডারে ফেরত আনা একটা ভালো সিদ্ধান্ত ছিলো।

দল হারলেও শাই হোপের ধারাবাহিকতা ছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি। দরজায় রাজনীতির কলিংবেল বাজলেও মাঠে সফল নেতৃত্বের জন্য মাশরাফিকে ও তার দলকে অনেক অভিনন্দন।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ