এত বীরের মতো টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াতে দেখিনি

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৩:৪১, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২১, ডিসেম্বর ২১, ২০১৮

লিপুকাল অনেক চাপের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ। সিরিজে সমতা আনার কাজটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের সঙ্গে এই ফরম্যাটে মোটেই সহজ নয় এবং যখন প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং কোনও বিভাগেই মেধার ধারেকাছেও ক্রিকেট খেলতে পারেনি তারা। সিলেটের মাঠে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন সাকিব আল হাসান তার ব্যাট হাতে।

কাল আরেকটা সহজ লক্ষ্য তাড়া করার বাসনা নিয়েই টস জিতে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান। খেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যাচ্ছিল নিজেরা বড় ধরনের ভুল না করলে বড় সংগ্রহ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নেট প্র্যাকটিসে লিটন দাসের অসাধারণ স্ট্রোকস খেলার সক্ষমতা সাধারণ মানুষের দেখা হয় না, অধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখে থাকেন। কোনও দেশ, দল বা দলনায়কের জন্য টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এত সাবলীল বিধ্বংসী ব্যাটিং সচরাচর আমাদের দেখা হয় না। নির্বাচকরা কেন তার নামটা বাদ দিতে পারেন না বা কোনও কোচ ম্যাচে জেতার জন্য কেন তাকে অন্যতম হাতিয়ার মনে করেন, সারা বিশ্ব সেটা অবলোকন করেছে। সৌম্য সরকারের সঙ্গে একত্রে লিটনের চোখ ধাঁধানো স্ট্রোকস দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে, গর্বিত করেছে এবং একই সঙ্গে অসাধারণ একটা মোমেন্টাম দিয়ে এই ম্যাচ জেতার বিশ্বাসের ভিতটি অসম্ভব ভালোভাবে দলের সবার মনে সঞ্চারিত করেছে।

দেশের টি-টোয়েন্টির অন্যতম স্বীকৃত সিম্বল সাকিব কাল ব্যাট হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে শক্তভাবে ম্যাচের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন তার তীক্ষ্ণ গেম সেন্স দিয়ে। তিনি জানেন এমন শুরু তিনি প্রতিদিন নাও পেতে পারেন। তবে সঠিক দিনে মাহমুদউল্লাহ ম্যাচের ফিনিশিং যে স্ট্রাইক রেটে শেষ করলেন, তা ছিল এক কথায় ম্যাচ বিজয়ের ছাদ ঢালাই।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের শর্ট পিচ বল থেকে ফায়দা নেওয়ার মতো পিচ ঢাকায় ছিল না। যথেষ্ট ব্যাটিং বান্ধব ছিল। তবে চেঞ্জ অব পেস বা স্লোয়ার বাউন্সার দিয়ে কোনও ভ্যারিয়েশন তাদের পেস বোলাররা করতে পারেনি। দলে একজন স্পিনার নিয়ে খেলাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং বৈচিত্র কমে যায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জায়ান্টদের জন্যও এই ২১২ রান তাড়া করে জেতা মোটেই অসম্ভব ছিল না, যখন তারাও একটা ভালো সূচনা পেয়েছিল। রাতের কুয়াশা পড়ায় বল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কম বেশি স্কিড করেছে। যখন সামান্য একটু বেশি স্কিড করেছে, বিচক্ষণতার সঙ্গে সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি সাকিব বোলিংয়ে আসার লগ্ন হিসাবে বেছে নেয়। সাকিব তার মেধা দিয়ে গতির ভ্যারিয়েশন ও পিচের আচরণ দিয়ে রানের গতি কমান। এসময় মাথা মোটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা বড় শট খেলে আক্রমণের জন্য তাকে বেছে নিলে তাদের ব্যাটিং সাম্রাজ্যের অর্ধেকেরই পতন ঘটে সাকিবের বোলিংয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি তাদের ট্যাকটিকসের পরবির্তন করে সাকিবের বল থেকে সিঙ্গেলস বা ডাবলস নেওয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হতো, তবে তাদের উইকেট তারা আরও অনেক বেশি অক্ষত রাখতে পারতো এবং আমাদের পেস বোলারদের ওপর আক্রমণ করার সুযোগটা আরও ভালোভাবে নিতে পারতো। তাতে একটা নাটকীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো।

দিনের সেরা পারফর্মার হিসেবে ম্যাচটা আমরা জিতেছি। দুই অর্ধের পর্যালোচনায় জয়-পরাজয় নির্ধারণে সাকিব ছিলেন পরিষ্কারভাবে সবার চেয়ে এগিয়ে, একেবারে সত্যিকারের অধিনায়কোচিত পারফরম্যান্স।

/এফএইচএম/

লাইভ

টপ