নিজেরাই ছিল নিজেদের প্রতিপক্ষ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ২১:০৪, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৭, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯

ঘরের মাটিতে বড় একটি টুর্নামেন্ট খেলে চার-পাঁচদিনের মাথায় এত দূরের পথ পাড়ি দিয়ে দল হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা যথেষ্ট মুশকিল। যে কোনও দলই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিয়ে দলগতভাবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পথ খুঁজে মেলে ধরতে একটু সময় নেয়। তাই আমারও ধারণা ছিল, অনেক বড় পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মনে প্রশ্ন ছিল, গত ৬ সপ্তাহ ২০ ওভারের ফরম্যাট খেলে ৫০ ওভারের ম্যাচে এত অল্প সময়ের মাঝে খাপ খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জটা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারবে কিনা?

তবে নেপিয়ারে দিবারাত্রির ম্যাচ হওয়াতে টস জিতে ব্যাট করতে দ্বিধা করেননি মাশরাফি। তাপমাত্রা ও ঘাসবিহীন উইকেট ছিল আদর্শ ব্যাটিং সহায়ক, যা আমি মোটেও আশা করিনি। গুটিকয়েক বলে ট্রেন্ট বোল্ট সুইংয়ের দেখা পেয়েছেন। আমাদের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের মাথা থেকে ২০ ওভারের ক্রিকেট অ্যাপ্রোচটা ছিল দৃশ্যমান। লিটন দাস একটি চমৎকার ইনকামিং বলে বোল্ড হয়েছেন। নতুন বলে ব্যাটসম্যানদের সেটার জন্য প্রস্তুত থাকতেই হয় এবং একই ধরনের বলে তিনি প্রায়ই আউট হচ্ছেন। তামিম যদি রক্ষাণাত্মক ঢংয়ে সোজা ব্যাটে খেলতেন, তাহলে বোল্টের এই দৃষ্টিনন্দন বল তাকে পরাস্ত করতে পারতো না বলে আমার বিশ্বাস। দুই উদ্বেধনী ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে ইনিংসের শুরুতেই চমৎকার লাইন ও লেন্থ মেইন্টেইন করে আদর্শ সাইড মুভমেন্টের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কিউই বোলাররা। তামিমের দ্রুত প্রস্থান বিরাট একটা ধাক্কা ছিল, শুরুতেই যেখানে সাকিবের অনুপস্থিতি মিডল অর্ডারে একটা শূন্যতার সৃষ্টি করে রেখেছিল। অন্য সময় হলে মুশফিক আক্রমণ না করে বলটাকে ঠেকানোর চেষ্টা করতেন, মনে হয়েছে মাথায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বল সংকটের মাঝে আছেন তিনি।

একমাত্র সৌম্য সরকারের উইকেটে আসার পর তার চমৎকার ৫টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি মারা দেখে সবার মনে হয়েছে এই পিচে অনেক রান আছে, প্রয়োজন নতুন দেশের নতুন পিচে ভিন্ন প্রতিপক্ষের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য একটা জুটি গড়ে তোলা। বোলারদের ওপর ব্যাট হাতে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। ঠিক সেই জায়গায় দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পরও চমৎকার খেলতে থাকা সৌম্য পরিস্থিতির আলোকে অপ্রয়োজনীয় শট খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিউইদের হাতে তুলে দেন। এরপর সাব্বির যখন ওয়াইড বলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন, তখন এই ম্যাচটি যে আর লড়াইয়ের নয়, আনুষ্ঠানিকতার অংশ হতে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ ছিল না।

মিরাজ ও সাইফউদ্দিন বার্তা দিয়েছেন ব্যাট হাতে তাদের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো যায়। মিরাজকে অতিরিক্ত বাউন্ডারির শটস খেলার নেশা থেকে বের হয়ে আসতে হবে, এবং সিঙ্গেলস ও ডাবলসের দিকে মনোযোগী হতে হবে। সাইফউদ্দিন যথেষ্ট পরিপক্ক ব্যাটিং করেছেন, মিঠুনের সঙ্গে তাদের জুটি বাংলাদেশকে ২৩২ রান করতে মূলত সাহায্য করেছে।

কিউইরা পাঁচ পেসার ব্যবহার করলো এবং একমাত্র স্পিনার ছিলেন মিচেল স্যান্টনার। তার মাঝে পেসার ফার্গুসনের ১৫০-১৫৫ কিলোমিটার বেগে বোলিং ছিল উপভোগ্য। তবে পিচে বাড়তি বাউন্স না থাকায় আমাদের ব্যাটসম্যানরা তাকে সামাল দিতে তেমন বিপাকে পড়েননি। একটি বল মুশফিকের হেলমেটে লাগলেও শর্ট পিচ বলে বেশ কিছু ভালো শট খেলেছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। ২৩২ রানকে পুঁজি করে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারবে না, তা ছিল অনুমেয়। সদ্য ভারতের সঙ্গে খেলে নিউজিল্যান্ডের প্রস্তুতি ছিল দারুণ। তবে দুর্বল বোলিংয়ের বিপক্ষে এবং সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়েও অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলা থেকে বিরত ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা, তারা নিজেদের কৌশল ও দক্ষতার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। সাকিব না থাকায় মূলত চার প্রধান বোলার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর ওপর প্রয়োজনে বোলিংয়ের বাড়তি আস্থা রাখতে পারেন মাশরাফি। সম্পূর্ণ দিনের ম্যাচে উইকেট দেখে চার পেসার নিয়ে খেলা উচিত মাশরাফির, যেহেতু দলে সাইফউদ্দিনের মতো উঠে আসা অলরাউন্ডার আছে।

প্রথম ম্যাচে অনেক ভুলত্রুতি হতেই পারে এবং যত দ্রুত তা মন থেকে মুছে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়াই করার জন্য দল প্রস্তুতি নিতে পারবে, ততই মঙ্গল হবে। প্রতিটি ওয়ানডে নতুন ভেন্যুতে এবং সফরটি নিউজিল্যান্ডে হওয়াতে কাজটা অনেক চ্যালেঞ্জিং।

/কেআর/

লাইভ

টপ