‘কাজের ইচ্ছে থাকলে বয়স কোনও বিষয় নয়’

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ২০:৩৫, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৫, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯

আব্দুস সাদেকহকি ফেডারেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী মাসে। এক বছর ধরে অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা আব্দুস সাদেক নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন। যদিও হকি অঙ্গনের অনেকের ধারণা, দায়িত্ব পালনে ৭২ বছর বয়স বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তার জন্য। তবে সাবেক এই তারকা খেলোয়াড় কাজের জন্য বয়সকে বাধা বলে মানতে নারাজ।

বর্তমানে হকি ফেডারেশনে কাউন্সিলরের সংখ্যা ৮৫ জন। মার্চের নির্বাচনে তাদের ভোটে নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। এবারের নির্বাচনে সাদেকের বিরোধী পক্ষ বেশ শক্তিশালী। মোহামেডান, মেরিনার্স ও ঊষা ক্রীড়া চক্র জোট বেঁধেছে তার বিরুদ্ধে।

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া সাদেক অবশ্য এ নিয়ে চিন্তিত নন। বয়স তার জন্য কোনও বাধাই নয়। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘বয়স কোনও বিষয় নয়। কাজ করতে চাইলে যে কোনও বয়সেই করা যায়।’

চার বছরের জন্য নির্বাচিত হতেও আত্মবিশ্বাসী আবাহনী ফুটবল দলের প্রথম অধিনায়ক, ‘পরিস্থিতির কারণে আমাকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। খাজা রহমতউল্লাহ মারা যাওয়ার পর হকি অঙ্গনে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। হকিতে সেভাবে সংগঠক উঠে আসেনি। তাই আমাকে আবারও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এতদিন অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি। এখন নির্বাচনে যেতে হচ্ছে। নির্বাচিত হলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করে যাব। আমি চাই ভবিষ্যতে ফেডারেশনের পথচলায় যেন কোনও সমস্যা না হয়।’

১৯৮২ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি। এতদিন পর দেশের হকিকে আর কী দিতে পারবেন? আব্দুস সাদেকের জবাব, ‘১৯৮৫ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ এনে দেওয়ার পরই ফেডারেশনের দায়িত্ব ছেড়েছিলাম। এখন বয়স হয়ে গেলেও তা কাজের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তো প্রায় একই বয়সে সুন্দরভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের সদ্যবিদায়ী সভাপতি লিয়ান্দ্রো নেগ্রের বয়সও আমার কাছাকাছি। আসলে কাজ করার ইচ্ছে থাকলে বয়স কোনও বিষয় নয়।’

এই বয়সে ফেডারেশনকে সময় দিতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক এবং এশিয়ান হকি ফেডারেশনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক হকি কর্মকর্তারা একেক সময় একেক দেশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। কেউই এক জায়গায় বসে কাজ করছেন না। এই ডিজিটাল যুগে প্রতিদিন ফেডারেশনে গিয়ে কাজ করতে হবে আমি তা মানতে রাজি নই। বিভিন্ন কমিটি থাকবে, তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। ফেডারেশন নিজস্ব গতিতে চলবে, আমার জন্য কোনও কাজ থেমে থাকবে না। অতীতে যেমন থাকেনি, আশা করছি ভবিষ্যতেও থাকবে না।’

নির্বাচিত হলে দেশের হকিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার তার কণ্ঠে, ‘সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে হকিকে আরও এগিয়ে নিতে চাই, দেশজুড়ে হকির চর্চার ওপরে জোর দিতে চাই। হকি অঙ্গনে অনেক নতুনত্ব নিয়ে আসতে চাই আমি। পাশাপাশি জাতীয় দলকে বাড়তি গুরুত্ব দেবো।’

/টিএ/এএআর/

লাইভ

টপ