তীর-ধনুক হাতে দিয়ার চমক

তানজীম আহমেদ
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:১৫আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:১৮

ক্যারিয়ারের প্রথম স্বর্ণপদক জয়ের পর দিয়া সিদ্দিকীর উচ্ছ্বাস শৈশবে নীলফামারীর গ্রামের বাড়িতে ভাই-বোনের সঙ্গে তীর-ধনুক নিয়ে খেলতেন দিয়া সিদ্দিকী। তখন হয়তো কল্পনাও করেননি, এই তীর-ধনুকই একদিন তাকে এনে দেবে অসাধারণ সাফল্য।

তৃতীয় আইএসএসএফ আন্তর্জাতিক সলিডারিটি বিশ্ব র‌্যাংকিং আর্চারিতে সোনা জিতেছেন দিয়া। মেয়েদের রিকার্ভ এককে শিরোপা জিতে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এটাই তার প্রথম স্বর্ণপদক।

টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে ফাইনালে তিনি ৬-৪ সেট পয়েন্টে  হারিয়েছেন ইরানের শোজামেহর শিভাকে। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি দিয়ার। তবে ৪-০ তে পিছিয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা উৎসবে মেতে উঠেছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের সুসংবাদ পেয়ে প্রথমে লাফিয়ে উঠলেন দিয়া। তারপর উচ্ছ্বাস ভরা কণ্ঠে বললেন, ‘এর আগে কখনও কোনও প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিততে পারিনি। এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতে আমি খুব খুশি। ভীষণ ভালো লাগছে।’

মেয়েদের রিকার্ভ এককে শিরোপা জয়ের পথে তীর ছুড়ছেন দিয়া শিরোপা লড়াইয়ে নামার আগে বেশ ভয় পেয়েছিলেন দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী, ‘ফাইনালের আগে একটু ভয় ভয় লাগছিল, শরীর কাঁপছিল। কারণ এটাই আমার প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। তবে প্র্যাকটিসে ভালো করেছি বলে আত্মবিশ্বাস ছিল মনে। কোচ আর সতীর্থরা অনেক সাহস দিয়েছেন আমাকে, আর সেটাই শিরোপা জিততে সাহায্য করেছে।’

শুরুতে পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে তিনি বললেন, ‘ম্যাচের শুরুতে একটু স্নায়ুর চাপে ভুগছিলাম। তবে দুই পয়েন্ট পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। তখন মনে হয় আমি পারবো। আসলে বাতাসের জন্য তীরগুলো ডানে-বাঁয়ে চলে যাচ্ছিল শুরুতে। এরপর কোচের নির্দেশ অনুসরণ করে ঠিক জায়গায় তীর মারতে পেরেছি।’

বিকেএসপির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিয়া তীর-ধনুক হাতে যেতে চান অনেক দূর, ‘আমাকে নিয়ে বাবার অনেক স্বপ্ন। তিনি চান, আমি যেন বড় হয়ে ডাক্তার হই। আমারও ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে। পাশাপাশি আর্চারিতে এশিয়াড ও অলিম্পিকের মতো বড় প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করতে চাই। বিদেশের মাটিতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মর্যাদাই আলাদা।’

/টিএ/এএআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইসরায়েলকে সামরিক অর্থায়ন বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের ‘রেকর্ড’ ভোট
ইসরায়েলকে সামরিক অর্থায়ন বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের ‘রেকর্ড’ ভোট
ফেসবুকের বিরক্তিকর নোটিফিকেশন ও ট্যাগিং চিরতরে বন্ধ করার নিয়ম
ফেসবুকের বিরক্তিকর নোটিফিকেশন ও ট্যাগিং চিরতরে বন্ধ করার নিয়ম
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক কিছু কামব্যাক
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক কিছু কামব্যাক
ঢাবিতে ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে নাহিদের ক্ষোভ, কী ঘটেছিল?
ঢাবিতে ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে নাহিদের ক্ষোভ, কী ঘটেছিল?
সর্বাধিক পঠিত
২ মাসের শিশুর ভিডিও ভাইরাল, স্ত্রীর অপরাধে স্বামী-বাবা গ্রেফতার, কী ঘটেছিল
২ মাসের শিশুর ভিডিও ভাইরাল, স্ত্রীর অপরাধে স্বামী-বাবা গ্রেফতার, কী ঘটেছিল
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ 
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ 
গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, চলছে যৌথ টহল
গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা জোরদার, ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, চলছে যৌথ টহল
ভালোবাসার মতো, অথচ ভালোবাসা নয়: নাম কী সে অনুভূতির
ভালোবাসার মতো, অথচ ভালোবাসা নয়: নাম কী সে অনুভূতির
চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে ছেলে অংশ নেওয়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার
চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে ছেলে অংশ নেওয়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার