পেস বোলিং ইউনিট বড়ই উপেক্ষিত

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৬:১৬, মার্চ ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০১, মার্চ ০১, ২০১৯

নিউজিল্যান্ড তাদের প্রত্যাশিত মানের ব্যাটিং করেছে এবং দিন শেষে ৪ উইকেটে ৪৫১ রান তুলতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। শেষ সেশনে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা সান্ত্বনা নিয়ে দিন শেষ করেছে আমাদের দল। যদি মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে কেন উইলিয়ামসনের একটু কঠিন ক্যাচটি সৌম্য সরকার আরেকটু তৎপর থেকে ধরে ফেলতে পারতেন, তাহলে হ্যামিল্টনের বিকেলটা আরও তৃপ্তিদায়ক হতো পুরো দলের জন্য।

দ্বিতীয় দিনে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং বন্দনাই করতে হয়। ওয়ানডেতে দুই সেঞ্চুরি করা মার্টিন গাপটিলের জায়গায় জিৎ রাভাল যে চমৎকার মেজাজে ক্রিকেট খেললেন, তা প্রমাণ করে তিনি একজন স্পেশালিস্ট টেস্ট খেলোয়াড়। তার বল ছেড়ে দেওয়া ও স্ট্রোকস খেলার পারদর্শিতা আমাদের অনেক খেলোয়াড়ের জন্য অনুকরণীয়। একদিনের ক্রিকেটে আগ্রাসী টম ল্যাথাম কী চমৎকারভাবে নিজেকে মানিয়ে নিলেন আদর্শ টেস্ট ম্যাচের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে। শুরুর ক্যাচটি থেকে প্রাপ্ত জীবনের ফায়দা তুললেন এবং ১৬১ রানের ইনিংসের পাশাপাশি দলকে দিলেন এক উড়ন্ত সূচনা। মাহমুদউল্লাহ এই জুটির ব্রেক থ্রু দেন এবং ওই ওভারই তিনি বল করেছেন। অধিনায়ক হিসাবে তিনি তার সীমিত সামর্থ্যের প্রতি সুবিচার করলে সারাদিনে অন্তত আরও ৫-৬ ওভার বল করতে পারতেন।

এই টেস্টের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন নিউজিল্যান্ডের কাছে। আগামীকাল (শনিবার) সকালে আমাদের বোলাররা দারুণ একটা কিছু না করতে পারলে (যে সম্ভাবনা ক্ষীণ দেখছি) এই টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে তাদের বোলিংয়ের আর সম্ভাবনা থাকছে না বলেই ধারণা করছি।

টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের পথচলার ১৯ বছরে এসে শক্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাটিং বিভাগে আপনি তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক বা এই টেস্টে অনুপস্থিত মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের দেখা পাবেন, যারা তাদের নৈপুণ্যের আলোকে নিয়মিত প্রথম একাদশে খেলেন। অথচ আমাদের টেস্ট বোলিং ইউনিট সেই তুলনায় বড়ই বিচিত্র এবং মনে হতেই পারে দীর্ঘ পরিকল্পনারও অভাব আছে তাতে। ইনজুরি কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেরা বোলারদের কাউকে হয়তো বিশ্রামে রাখে, এটা বাস্তবতা; কিন্তু নতুন বলের কোনও জুটি বা তৃতীয় পেসার হিসাবে দলে কী কেউ জায়গা করতে পারছেন? মোটেই না। এর অন্যতম একটি কারণ হোম সিরিজে মন্থর উইকেট তৈরি করে ম্যাচ জেতার অতি আগ্রহ, যে কারণে একটি পেস বোলার নিয়ে একাদশ সাজানো এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় পেস বোলিংকে ধারালো করার মতো পিচ তৈরিতে অনাগ্রহ।

এখন দেশের বাইরে যখন তিন পেস বোলার দিয়ে এই টেস্টে ১৯ বছরের দলটি নামলো, তখন আবু জায়েদের টেস্ট ক্রিকেটে পদার্পণের বয়স মাত্র ৭ মাস। খালেদ আহমেদের পদার্পণের বয়স ৩ মাস, আর এবাদত হোসেনের এই টেস্ট দিয়েই যাত্রা শুরু। এটা আসলে কী বার্তা দেয়? এত বিখ্যাত বোলিং কোচ সবসময় দলের সঙ্গে থাকার পরও এত অনভিজ্ঞ পেস বোলিং ইউনিট কি প্রথম একাদশে মানায়? অভিজ্ঞ শফিউল ইসলাম বা গতবার সফর করে যাওয়া কামরুল ইসলামের একজনের দলে ও প্রথম একাদশে স্থান পাওয়া উচিত ছিল। এবাদত ও খালেদের গতির কথা শুনেছি। গোটা ইনিংসে তারা কয়টি বল ১৪০ কিলোমিটার করতে পেরেছেন, তার হিসাব সহজেই ডাটা থেকে পেয়ে যাবেন। ভবিষ্যতের এই বোলারদের দিকে আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন ও তাদের সক্ষমতা আরও ভালোভাবে পরখ করে নেওয়া উচিত। এই ইনিংসে তাদের অকার্যকর বাউন্সার মোটেও ধারালো ছিল না। তাদের দুজনের চমৎকার শারীরিক গড়নের সুবিধা কিভাবে বোলিং কোচ ও ট্রেইনার কাজে লাগাবেন, তা ভবিষ্যতে দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

দেশের বাইরে ম্যাচ জিততে হলে এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি পেস বোলিং ইউনিট যদি ধারালো না হয়, তাহলে এশিয়ার বাইরে ম্যাচ জেতার আগের স্টেজটি অর্থাৎ ম্যাচকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলাটাও কঠিন হবে। তাই আমাদের সেরাদের মাঝে সেরা বোলাররা যেন উপেক্ষিত না থাকে ও দ্রুত ঘরোয়া পিচ পেস বান্ধবের মতো তৈরি করা খুব জরুরি। আমাদের দেশের প্রধান স্টেডিয়ামগুলোর পিচের সামগ্রিক মান বৃদ্ধির জন্য নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের বা সে দেশের কিউরেটরদের মাঝ থেকে ভালো ও আগ্রহী কাউকে আমাদের বোর্ড নিয়োগ দিতে পারেন। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সফরকারী কর্মকর্তারা এই কাজগুলো এগিয়ে নিতে পারেন। ড্রপ ইন পিচের কৌশল ও ব্যবহার থেকে আমরা এখনও যে অনেক পিছিয়ে।

/কেআর/

লাইভ

টপ